সহকারী শিক্ষক
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৭
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
সহকারি শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান
বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা—
১। ভর ও ওজনের সংজ্ঞা বলতে পারবে।
২। ভর ও ওজনের একক ও পরিমাপের যন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারবে।
৩। ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারবে।
৪। ভর ও ওজনের সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারবে।
৫। গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
কোনো বস্তুর মধ্যে যে পরিমাণ পদার্থ থাকে, তাকে ওই বস্তুর ভর বলে।
ভরের বৈশিষ্ট্য:
১। ভর বস্তুর পদার্থের পরিমাণের পরিমাপ।
২। ভর বস্তুর জড়তার পরিমাপ।
৩। ভর স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না।
৪। ভরের আন্তর্জাতিক একক কিলোগ্রাম (kg)।
৫। তুলা বা ব্যালেন্সের সাহায্যে ভর পরিমাপ করা হয়।
উদাহরণ: একটি বস্তুর ভর ৫ কিলোগ্রাম হলে পৃথিবী ও চাঁদ উভয় স্থানেই তার ভর ৫ কিলোগ্রাম থাকবে।
কোনো বস্তুকে পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহ যে মহাকর্ষ বল দ্বারা নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তাকে ওই বস্তুর ওজন বলে।
ওজনের বৈশিষ্ট্য:
১। ওজন এক ধরনের বল।
২। ওজন একটি ভেক্টর রাশি।
৩। ওজনের আন্তর্জাতিক একক নিউটন (N)।
৪। স্প্রিং তুলার সাহায্যে ওজন পরিমাপ করা হয়।
৫। স্থানভেদে অভিকর্ষজ ত্বরণ পরিবর্তিত হলে ওজনও পরিবর্তিত হয়।
ভর | ওজন |
|---|---|
বস্তুর পদার্থের পরিমাণকে ভর বলে। | বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল মহাকর্ষ বলকে ওজন বলে। |
ভর একটি স্কেলার রাশি। | ওজন একটি ভেক্টর রাশি। |
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg)। | ওজনের একক নিউটন (N)। |
তুলা দিয়ে ভর মাপা হয়। | স্প্রিং তুলা দিয়ে ওজন মাপা হয়। |
ভর স্থানভেদে অপরিবর্তিত থাকে। | ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়। |
আমরা জানি, কোনো বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলই হলো তার ওজন।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী,
বল = ভর × ত্বরণ
অতএব,
ওজন = ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
গাণিতিকভাবে,
এখানে,
W = বস্তুর ওজন
m = বস্তুর ভর
g = অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান প্রায় ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড²।
১। কোনো বস্তুর ভর যত বেশি হবে, একই স্থানে তার ওজনও তত বেশি হবে।
২। ভর স্থির থাকলে অভিকর্ষজ ত্বরণ বাড়ার সঙ্গে ওজন বাড়ে।
৩। অভিকর্ষজ ত্বরণ কমলে ওজন কমে যায়।
৪। ভর ও ওজন পরস্পরের সমানুপাতিক, যদি অভিকর্ষজ ত্বরণ স্থির থাকে।
ধরা যাক, একটি বস্তুর ভর ৬ কিলোগ্রাম।
পৃথিবীতে:
ভর = ৬ kg
অভিকর্ষজ ত্বরণ = ৯.৮ m/s²
ওজন = ৬ × ৯.৮
= ৫৮.৮ নিউটন।
চাঁদে:
ভর = ৬ kg
অভিকর্ষজ ত্বরণ = ১.৬ m/s² (প্রায়)
ওজন = ৬ × ১.৬
= ৯.৬ নিউটন।
সুতরাং: পৃথিবী ও চাঁদে বস্তুর ভর একই থাকে, কিন্তু ওজন ভিন্ন হয়।
প্রশ্ন: একটি বস্তুর ভর ৫ কিলোগ্রাম। পৃথিবীতে বস্তুটির ওজন কত? (g = ৯.৮ m/s²)
সমাধান:
দেওয়া আছে,
বস্তুর ভর, m = ৫ kg
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = ৯.৮ m/s²
আমরা জানি,
উত্তর: বস্তুটির ওজন ৪৯ নিউটন।
১। বাজারে চাল, ডাল, মাছ ও সবজি কেনার সময় ভর পরিমাপ করা হয়।
২। বিভিন্ন বস্তুর ওজন নির্ণয়ে স্প্রিং তুলা ব্যবহার করা হয়।
৩। মহাকাশে নভোচারীদের ওজন পৃথিবীর তুলনায় কম অনুভূত হতে পারে।
৪। বিভিন্ন গ্রহে কোনো বস্তুর ওজন নির্ণয়ে অভিকর্ষজ ত্বরণ ব্যবহার করা হয়।
ভর হলো বস্তুর পদার্থের পরিমাণের পরিমাপ।
ওজন হলো বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল অভিকর্ষ বল।
ভরের একক কিলোগ্রাম।
ওজনের একক নিউটন।
ভর স্থানভেদে অপরিবর্তিত থাকে।
ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়।
ভর ও ওজনের সম্পর্ক: \(W=mg\)।
১। ভর কাকে বলে?
২। ওজন কাকে বলে?
৩। ভর ও ওজনের SI একক কী?
৪। ভর ও ওজনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
৫। ওজন নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো।
৬। চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় কম হয় কেন?
১। ভর ও ওজনের সংজ্ঞা লেখো।
২। ভর ও ওজনের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য লেখো।
৩। ভর ও ওজনের সম্পর্কের সূত্রটি প্রতিষ্ঠা করো।
৪। ১০ কিলোগ্রাম ভরের একটি বস্তুর পৃথিবীতে ওজন কত? (g = ৯.৮ m/s²)
৫। একই বস্তুর ভর পৃথিবী ও চাঁদে সমান হলেও ওজন ভিন্ন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
সহকারি শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান
বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়