সহকারী শিক্ষক
০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
জগদীশচন্দ্র বসুর এই আবিষ্কারের গুরুত্ব এবং স্বীকৃতির অভাবের কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
**জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন আধুনিক বেতার যোগাযোগের অন্যতম পথিকৃৎ**
১. আবিষ্কারের সময়কাল ও পদ্ধতি (১৮৯৫): মার্কনি তাঁর বেতার যন্ত্র প্রদর্শনের আগেই, ১৮৯৫ সালে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে প্রকাশ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, তার ছাড়াই সংকেত পাঠানো সম্ভব। তিনি মিলিমিটার-ওয়েব বা অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে একটি ঘরের ভেতর থেকে ঘণ্টা বাজিয়ে এবং দূরবর্তী স্থানে থাকা একটি বন্দুকের বারুদ ফাটিয়ে এটি প্রদর্শন করেছিলেন। এটি ছিল বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে বিনা তারে যোগাযোগের প্রথম দিকের অন্যতম সফল পরীক্ষা।
২. কেন বাণিজ্যিক স্বীকৃতি পাননি? জগদীশচন্দ্র বসু মূলত একজন বিজ্ঞানী এবং শিক্ষক ছিলেন। তাঁর প্রধান আগ্রহ ছিল বিজ্ঞানের মৌলিক গবেষণা, ব্যবসা বা পেটেন্ট করা নয়।
তিনি তাঁর এই আবিষ্কারের কোনো পেটেন্ট (Patent) করেননি।
তিনি তাঁর গবেষণার ফলাফল সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন, যাতে অন্য বিজ্ঞানীরাও এটি নিয়ে কাজ করতে পারেন।
অন্যদিকে, ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি একই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে এবং দ্রুত পেটেন্ট নিয়ে এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেন। তাই ইতিহাসে মার্কনিকেই সাধারণত "বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক" হিসেবে সার্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
৩. পরবর্তী বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি: যদিও জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর জীবদ্দশায় এর বাণিজ্যিক বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান পরে তাঁকে ঠিকই সম্মান জানিয়েছে। ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সংস্থা IEEE (Institute of Electrical and Electronics Engineers) ঘোষণা করে যে, মার্কনির আগেই জগদীশচন্দ্র বসু বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে যোগাযোগের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রপথিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।