ডেমোনেস্ট্রেটর
২০ এপ্রিল, ২০২০ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ডেমোনেস্ট্রেটর
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ ডিজিটাল প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
স্টোরেজ ডিভাইস হলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কম্পিউটারের যাবতীয় ডেটা সংরক্ষন এবং সংগ্রহের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই ডিভাইস সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এই ডিভাইস এক্সটার্নাল অথবা ইন্টার্নাল হয় আবার পোর্টেবল হয়। এই ডিভাইস আবার নেটওয়ার্ক কানেক্টেড ও হয়। যাকে আমরা সার্ভার স্টোরেজ সিস্টেম বলি। এই ডিভাইস অনেক রকমের হয়, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক থেকে শুরু করে আপনার মোবাইলের মেমোরি কার্ড পর্যন্ত এগুলো সবই স্টোরেজ ডিভাইস।
আমরা জানলাম যে স্টোরেজ ডিভাইস অনেক রকমের হয় কিন্তু কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম যে স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ইন্সটল করা হয় সেটা একটু ভিন্ন রকম হয়। যাকে আমরা অনেকেই হার্ডডিস্ক নামে চিনি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল বা ডেটা স্টোরেজের জন্য হার্ডডিস্কের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাহলে কোন ডিভাইস বর্তমানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে? আজ আমরা সেটি জানবো। সাথে আরও অনেক কিছু জানবো ও নতুন ধরনের কিছু ডিভাইসের সাথে পরিচিত হব।
অনেকে আবার এই ডিভাইসকে ইনপুট আউটপুট ডিভাইস হিসেবেও মনে করে থাকে। আসলে এগুলো ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নয়। যদিও এরা ইনপুট আউটপুটে সহায়তা করে কিন্তু এগুলো নিজেরা ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে না। ইনপুট আউটপুট ডিভাইস গুলোর সহায়তায় স্টোরেজ ডিভাইসের ভেতর ডাটা সংরক্ষণ করা হয়। এই ডিভাইস হলো এক ধরনের মাধ্যম যা ডেটাকে সংরক্ষণ, পরিবহন বা সঞ্চালনে ব্যবহার করা হয়।
যে কোনো রকমের কম্পিউটিং ডিভাইসের মূল অংশ হচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস। যার মধ্যে সকল ডাটাকে সংরক্ষণ করা হয় সাময়িক বা স্থায়ীভাবে। স্টোরেজ ডিভাইসের সহায়তায় কোন এপ্লিকেশন রান করা হয় অথবা ডেটা আদান প্রদান করা হয়। সব ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস ডেটা প্রসেসিং এ ব্যবহার করা হয় কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা হয় শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট স্টোরেজ ডিভাইসের ভেতরেই। তারমানে প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা স্টোরেজ ডিভাইসের আলাদা আলাদা কাজ রয়েছে। একটির কাজ অন্যটি করতে পারেনা। নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।
স্টোরেজ ডিভাউসের প্রকারভেদ
সকল কম্পিউটার সিস্টেমের স্টোরেজ ডিভাইস সাধারণত দুই রকমের হয় :
প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস
সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস
প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস
কম্পিউটিং ডিভাইসের ভেতরে সাময়িক ভাবে যে ডিভাইসের ভেতর ডেটা সংরক্ষণ করে রাখা হয় তাকে প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস বলে । অল্প সময়ের জন্য ডেটা স্টোর করে রাখার মত করেই এই ডিভাইসগুলো ডিজাইন করা হয় । একে ব্যবহার করা হয় ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য। এগুলো অনেক দ্রুত গতির কিন্তু পরিমাণে কম হয়। সব থেকে দ্রুত গতিতে এই ডিভাইস গুলোই ডেটা ট্রান্সফার এবং রিড, রাইট করতে পারে। কম্পিউটিং ডিভাইসের সকল প্রকার এপ্লিকেশন রান করার জন্য সহায়তা করা এর মূল কাজ। এছাড়াও মূল স্টোরেজ ডিভাইস থেকে ডেটা সংগ্রহ করে প্রসেসিং সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। ক্যাশ মেমোরি এবং র্যাম হল মূলত প্রাইমারী স্টোরেজ ডিভাইস।
সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস
এগুলো হল স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণকারী ডিভাইস। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি এবং কম দামি। প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের সহায়তায় এই ডিভাইসগুলো ভেতর ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের তুলনায় অনেক ধীর গতিসম্পন্ন। এগুলোকে এক্সটারনাল অথবা ইন্টারনাল ডিভাইস আকারে ব্যবহার করা যায় এবং সকল প্রকার এপ্লিকেশন ও অপারেটিং সিস্টেম সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ইন্সটল করা হয়। পাওয়ার অন করার সাথে সাথে প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইস সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসের (হার্ডডিস্ক) মধ্যে থেকে অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয় বুট ফাইল নিয়ে প্রসেসিং করার জন্য প্রসেসরে পাঠায় এবং প্রসেসিং সম্পন্ন করে কম্পিউটার সিস্টেমকে চালু করে। এভাবে দুই ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস সমন্বয় করে একটি কম্পিউটার সিস্টেমের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে। USB ডিভাইস, হার্ডডিস্ক, অপটিক্যাল ড্রাইভ ডিস্ক এগুলো হল সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস।
আকৃতি, ব্যবহারের গতি এবং ধরনের উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস তিন রকমের হয়,
ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস
অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস
ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস
ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস
এগুলো সব চাইতে বেশি জনপ্রিয় এবং পরিচিত ডিভাইস। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি কিন্তু তুলনামূলক ভাবে কম গতিসম্পন্ন। এর মধ্যে কিছু কিছু ডিভাইস ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। আমাদের সকলের পরিচিত হার্ডডিস্ক জিনিসটিও ম্যাগনেটিক স্টোরেজ ডিভাইস। দামে অনেক সস্তা যার জন্য জনপ্রিয়তা বেশি পেয়েছে। এ প্রযুক্তির সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে হার্ডডিস্ক ড্রাইভ এবং হাইব্রিড হার্ডডিস্ক ড্রাইভে।