সহকারী শিক্ষক
০৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:৫১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ভূগোল
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায়
কখনও কি ভেবে দেখেছেন, দিনের পরে রাত এবং রাতের পরে দিন কিভাবে হচ্ছে? কেন এমনটা হয়? মজার বিষয় হচ্ছে, যদি পৃথিবীতে আহ্নিক গতি না থাকতো তাহলে দিনের পরে রাত আসতো না বা রাতের পরে দিন হত না। এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে, আহ্নিক গতিটা আবার কি? আসুন, এবার জেনে নেই আহ্নিক গতি সম্পর্কে, তাহলেই জানতে পারবো দিন-রাত হওয়ার মূল কারণ।
আমরা সবাই জানি, পৃথিবী গতিশীল। পৃথিবী তার নিজ অক্ষে একবার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করতে সময় নেয় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ একদিন। পৃথিবীর এই আবর্তন গতিকে আহ্নিক গতি (Diurnal Motion) বলে।
পৃথিবীর আহ্নিক গতি একেক জায়গায় একেক রকম। পৃথিবী নামক আমাদের এই গ্রহটি পুরোপুরি গোল না হওয়ায় এর পৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়। তাই সে কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সকল স্থানের আবর্তন বেগও সমান নয়। দিন-রাত্রি সংঘটিত হওয়া পৃথিবীর আহ্নিক গতির একটি ফল।
অন্যদিকে, পৃথিবীর নিজস্ব কোনও আলো নেই। সূর্যের আলোতেই পৃথিবী আলোকিত হয়। আবর্তন গতির জন্য পৃথিবীর যেদিক সূর্যের সামনে আসে সেদিক সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়। তখন ওই আলোকিত স্থানসমূহে দিন থাকে।
আর আলোকিত স্থানের উল্টো দিকে অর্থাৎ পৃথিবীর যে দিকটা সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে, সে দিকটা অন্ধকার থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছে না। এসব অন্ধকার স্থানে তখন রাত্রি থাকে। পৃথিবীর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ফলে আলোকিত দিকটা অন্ধকারে ও অন্ধকারের দিকটা সূর্যের দিকে চলে আসে। এর ফলে দিন-রাত্রি পাল্টে যায়।
অন্ধকার স্থানগুলো আলোকিত হওয়ার ফলে এসব স্থানে দিন হয় এবং আলোকিত স্থান অন্ধকার হয়ে যায় বলে ওইসব স্থানে রাত হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে দিনরাত্রি সংঘটিত হচ্ছে পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলেই।
আহ্নিক গতি না থাকলে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকারে থাকতো ও অপরদিক আলোকিত হয়ে থাকতো। কেননা, সূর্য চিরকাল এক জায়গাতেই অবস্থান করে ঘুরতে থাকে।