Loading..

সফলতার গল্প

"আমার ও আমার প্রিয় শিক্ষক বাতায়নের গল্প"
article


আমি প্রতিভা রানী, সহকারী শিক্ষক, মৌখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়াইগ্রাম, নাটোর। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। শিশুদের জন্য ভালো কিছু করার। ওদের সাথে বন্ধুর মতো মিশে থাকি সব সময়। শিশুরাও আমাকে পেয়ে খুব খুশি হয়। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।
আমি যে কাজগুলো করি তা আমার ভালোলাগা থেকেই করি।কাজগুলো ভালোবাসি।কতটুকু ভালো করতে পারছি জানি না।তবে সব সময় চেষ্টা করি নতুন কিছু করার। নতুন কিছু শেখার  মধ্যে অনেক বেশি আনন্দ খুঁজে পাই।
শুধু আমি না প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজকে ভালোবাসে। কাজের মধ্যে ভালোবাসা ও আগ্রহ না থাকলে আসলে কোন কাজই ভালো হয় না।
তবে যেকোন কাজের মান বাড়িয়ে দিতে যেটা বেশি কাজ করে তাহলো অন্য কারো উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ।কেউ যদি কাজের প্রশংসা করে তবে সেই কাজের প্রতি আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
আমি যে কাজগুলো করি খুব ভালো কিছু করি তা নয়।তবে কাজগুলোর জন্য ভালোবাসা পেয়েছি অনেক। পেয়েছি প্রশংসা, অনুপ্রেরণা। ভালোবাসার মানুষ যেন বেড়েই যাচ্ছে।আমি সত্যি যা পেয়েছি বা পাচ্ছি তা চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি।

প্রশিক্ষণ ও শিক্ষক বাতায়ন নিয়ে কিছু কথা-
পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো জন্য দরকার প্রশিক্ষণ। এর কোন বিকল্প নেই। শিক্ষকতা পেশার ক্ষেত্রেতো প্রশিক্ষণটা খুব বেশি জরুরি।
বর্তমানে আমরা বাস করছি ডিজিটাল যুগে।তাই প্রশিক্ষণ গুলো হবে অনলাইন ভিত্তিক এটাই স্বাভাবিক।
আর এই নতুন দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে আমাদের সবার পরিচিত,সবার প্রিয়--- আমাদের মুক্তপাঠ। আকাশ আমার পাঠশালা। নামটার মধ্যেই বিশালতা।কাজটাতো বিশাল হবেই। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এখানে আছে অনেক ধরনের সুন্দর সুন্দর সব কোর্স।
এখন আসছি করোনাকালীন কিছু জনপ্রিয় অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে। যেগুলো সরাসরি জুম/ গুগল মিটের মাধ্যমে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পেরেছি বলে প্রশিক্ষণ গুলো আরও বেশি ইফেক্টিব হয়েছে বলে মনে করি।
আর আমাদের জন্য এইসব  গুরুত্বপূর্ণ  প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে আমাদের সবার প্রিয়--- আমাদের সবার পরিচিত নাম -- শিক্ষক বাতায়ন।।।
নিজেকে আর কতদিন আড়ালে রাখবেন। এই প্রশিক্ষণ গুলো আপনাকে ঘুমিয়ে থাকতে দিবে না।আপনি নিজে থেকেই জেগে উঠবেন। নিজেকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলতে চায়বেন। দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু করার উৎসাহ পাবেন।
আমরা শিক্ষক, আমরা আসলেই অনেক কিছু পারি।শুধু মাঝেমাঝে প্রয়োজন  সাহস দেওয়ার মতো কিছু হাতিয়ার। আর সেই সহোযোগিতায় হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষক বাতায়ন।
আসলে শিক্ষক বাতায়ন, a2i, মুক্তপাঠ নিয়ে কথা বলতে চাইলে লিখে শেষ করা যাবে না।
শুধু বলতে চাই শিক্ষক বাতায়ন, a2i এবং মুক্তপাঠ আমাকে করেছে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আমি চাই সকল শিক্ষক এই আলোর পথের দিশারী হোক। সকল শিক্ষক আলোকিত হলেই দেশ হবে আলোকিত।
তাদেরকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করা যাবে না ,যাঁরা দিবানিশি কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষকদের জন্য,শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য।
তবুও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই কর্তৃপক্ষকে ( শিক্ষক বাতায়ন, a2i, মুক্তপাঠ)


শিক্ষক বাতায়ন সত্যি আমাকে অনেক দিয়েছে।এতো এতো গুণিজনের সাথে পরিচয় একমাত্র শিক্ষক বাতায়নের জন্যই সম্ভব হয়েছে।তাই আমার প্রিয় বাতায়নকে জানাই বারবার অসংখ্য বার ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
নিজের কিছু কথা-
চাকরি জীবনের দেখতে দেখতে ১৬ বছর চলে গেলো। অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এতদিনে।শিশুদের নিয়ে কাজ করতে খারাপ লাগে না।বরং আনন্দের সাথেই কাজ করি। শিশুদের সাথে মেশার মতো যে মানসিকতা দরকার আশা করি তার পুরোটাই আছে আমার ভিতর। ওরাও আমাকে  আপন করে নেয় খুব সহজেই। শিক্ষককে একটু হলেও ভয় করা উচিত বলে মনে করি কিন্তু আমাকে তারা ভয় পায় না। এটা খুব ভালো কিন্তু কিছুটা সমস্যাও বটে।তাদের কন্ট্রোল করা একটু কঠিন হয়ে যায়। কারণ তাদের উপর আমি কখনো কঠিন হতে পারি না। জানি না, এটা ভালো না মন্দ। তবে আমিও চাই না তারা আমাকে ভয় করুক। আমি তাদের সাথে বন্ধু হয়েই মিশতে চাই।
আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার কাজটা যেন ভালো হয়। কিছুটা ভিন্ন হয়।যেটা শিশুদের জন্য সহজেই বোধগম্য এবং আনন্দের হয়।পেশাগত দক্ষতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়ে অনেক ভেবেছি।কিন্তু কাজ হয় না। যেভাবে চলার ঠিক সেভাবেই চলছে উন্নতি কিছুই করতে পারিনি।
জীবনের চলার পথ একটু পরিবর্তন করতে পৃথিবীতে আসলো করোনা নামের একটা কঠিন অধ্যায়। বিশ্ব ছিল আতংকিত। ছিল বললাম এইজন্য যে আজ আমরা করোনাকে জয় করে ফেলেছি।
ভয়,আতংক যেটাই বলি,করোনা দিয়েছে অনেক কিছু। বিশ্ব কতোটা পিছিয়ে গেলো কতোটা এগিয়ে গেলো সেটা নিয়ে না বলি। আমার প্রিয় দেশ বাংলাদেশ আজ অনেক এগিয়ে। করোনা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। আমরা বার বার প্রমাণ করে দেই, আমরা বীরের দেশে বাস করি। আমাদের সহজেই কেউ হারাতে পারে না আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ পৃথিবীতে মাথা উঁচু করেই দাড়িয়ে আছে থাকবেও সব সময়।
আমরা শিক্ষক সমাজ কতোটা পিছিয়ে ছিলাম তা না বলে, এই করোনা কালীন কতোটা এগিয়ে গেছে সেটাই ক্ষুদ্র পরিসরে বলার চেষ্টা করবো।
শিক্ষার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কতোদিনে জনপ্রিয় হতো জানি না।তবে এই সময়টাতে  শিক্ষায় প্রযুক্তির যে জোয়ার বয়ে যাচ্ছে তা আগামী ১০ বছরেও সেটা সম্ভব হতো কিনা বলা কঠিন।
প্রশিক্ষণ ছাড়া কোন পেশাতেই দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব না। এই কয়েকটি মাসে এতো প্রশিক্ষণ পেয়েছি আমরা শিক্ষক পরিবার তা আগামী ১০/২০ বছরেও পেতাম কিনা সন্দেহ। আর এই যে সব নতুন নতুন  প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ এতো তাড়াতাড়ি হতো কিনা সেটাও জানি না। কতো কিছু শিখলাম,জানলাম,চিনলাম লিখে বলা কঠিন। শুধু কি জানলাম?  পরিচিত হলাম দেশের কতো জ্ঞানীগুণী জনের সাথে।
সরাসরি অনেকের সাথেই হয়তো সবার কথা বলা সম্ভব না।তবে ভার্চুয়ালি সেই সকল জ্ঞানী জনের কথা শুনেও নিজেকে ধন্য মনে করা যায়।নিজেকে পরিবর্তন করে নিতে সেইসব উক্তি অমূল্য।
আশা করি, এভাবেই আমাদের সকল  প্রশিক্ষণ চলমান থাকবে।আর এভাবেই আমরা নিজেকে দক্ষ করে তুলবো ধীরেধীরে।
শিক্ষকদের এই সকল প্রশিক্ষণের আয়োজকদের  জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
বিশেষ ধন্যবাদ জানাই আমাদের প্রিয় শিক্ষক বাতায়ন a2i । 

আমার সফলতার গল্প-
ICT প্রশিক্ষণে প্রথম যেদিন শিক্ষক বাতায়নের নাম শুনি সেদিন থেকে বাতায়নে কাজ করার খুব আগ্রহ সৃষ্টি হয়।আগ্রহ থেকে ভালোবাসা।  একটানা কাজ করে যাচ্ছি ২০১৮ সাল থেকে। ভালো লাগা থেকে কাজ করি। কখনো চাপ নেই না। এমন না যে সারাদিন রাত এটার পিছনেই পরে থাকি।যখন সময় পাই তখন কাজ করি। রাতে সময় কম দিতাম। স্কুলে অবসর সময়ে মুক্তপাঠে কোর্স করতাম পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করতাম।যখন যেটা ভালো লাগতো।
তারপর তো করোনা আসলো আমাদের জীবনের গতি পালটে দিলো কিছুটা। হয়তো অনেক বড় ক্ষতির মুখে পরবে বিশ্ব কিন্তু করোনা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তাই করোনাকে ধন্যবাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নাই।স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো সারাদিন বাসায় খুব বোরিং টাইম। সময় টাকে কাজে লাগালাম কনটেন্ট তৈরিতে,মুক্তপাঠে, বিভিন্ন জুমের ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করে।নিজেকে কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় পাওয়া দেশের সকল গুণি শিক্ষকদের সাথে পরিচয়টা বেশি হয় এই সময়। সকলের কাজ দেখে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে পারি উৎসাহ পাই।
ধৈর্য, ভালোবাসা এবং চেষ্টা এই তিনটা একত্রে কাজ করলে সফলতা আসবেই। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর আমার জীবনের প্রথম সফলতা আসে। শিক্ষক বাতায়নে জেলা এম্বাসেডর ( ict4e)  হিসেবে নিজেকে দেখতে পাই। কাজের উৎসাহ বেড়ে যায়। আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকি। স্বপ্ন  যে দেখছি অন্য কিছুর। অনেক ধৈর্যের পর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। শিক্ষক বাতায়নে "সেরা কনটেন্ট" নির্মাতা নির্বাচন হলাম। ( ০১ মে ২০২১)
তারপর ভাবলাম এখন কি করবো? উদ্ভাবনের গল্পের কথা ভাবা শুরু করলাম।কিন্তু আইডিয়া পাচ্ছি না। যারা সেরা হন তাদের গল্প দেখি, কীভাবে তারা তাদের গল্প তৈরি করছে? শিক্ষক বাতায়নে সেরাদের গল্পের অনুষ্ঠানের প্রথম দিকের কোন একটা গল্পের আসরে আমাদের প্রিয় স্যার অভিজিৎ স্যার উদ্ভাবনের গল্প নিয়ে কিছুটা ধারণা দেন আমি সেদিন স্যারের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম তারপর থেকেই আগ্রহটা আরও বেশি হয়। কিন্তু সমস্যা হলো বিদ্যালয় বন্ধ। শিশুদের নিয়ে কাজ করবো সেটা সম্ভব না। আগের ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয়নি।ভাবিনি কখনো কাজে লাগবে তাই অনেক কাজের ছবিও উঠানো হতো না।তবুও চেষ্টা করলাম পুরাতন একটা আইডিয়া নতুন করে সাজানোর।তারপর অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছিলাম সেখানেও কিছু কাজ করছিলাম শিশুদের দিয়ে সেগুলো দিয়েও একটা গল্প তৈরি করলাম।অনলাইন মূল্যায়ন নিয়ে করলাম।বিদ্যালয় খুলে গেলো সাথে আমার স্বপ্ন পূরণের দ্বারটাও খুলে গেলো।
শিশুদের আনন্দ দেওয়ার ইচ্ছেতেই কাজ করেছি সাথে ভাবলাম ভিডিও টাও করে রাখি। উদ্ভাবনের গল্পে দিবো কিনা ভাবছিলাম এডিটিং করে ভিডিও টা তৈরি করলাম। তারপর আপলোড দিলাম প্রিয় বাতায়নে। পাক্ষিকের সেরা উদ্ভাবক হলাম ( ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১)। ধন্যবাদ বাতায়নের সকল প্রিয় স্যারদের।আবারও ধন্যবাদ জানাই প্রিয় বাতায়নকে
এছাড়াও ২০২০ সালে গণিত অলিম্পিয়াড এর মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচিত হই এবং উপজেলা পর্যায়ে ৪টি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত করি।
জাতীয় শিক্ষা পদক ২০২২ এ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হই।
সবশেষে বলতে চাই, আমার সামান্য যে পরিচিতি আছে সেটা একমাত্র শিক্ষক বাতায়নে কাজ করার জন্যই পেয়েছি। তাই তো  সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি শিক্ষক বাতায়নের কর্তৃপক্ষের কাছে।

আর কিছু না লিখি। ভুল ত্রুটিগুলো সকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সকলে ভালো থাকবেন।
সকলের দোয়া / আশীর্বাদ কামনা করছি।

প্রতিভা রানী
সহকারী শিক্ষক
মৌখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বড়াইগ্রাম,নাটোর। 

মন্তব্য করুন