প্রধান শিক্ষক
১৬ মার্চ, ২০২০ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
মহান নেতারাই আমাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। আমরা নিজেদের মধ্যে যা দেখি, তার থেকে অনেক ভালো কিছু তারা আমাদের মধ্যে দেখেন। আর আমাদেরও সেগুলো দেখতে শেখান। তারা বড় স্বপ্ন দেখান আর আমাদের সেগুলো পূরণের উৎসাহ যোগান।
মহান নেতৃত্ব হল গতিশীল। এটি অনেকগুলো দক্ষতার একটি সংমিশ্রণ। সেই সঙ্গে অনেক ভালো অভ্যাসও থাকে একজন মহান নেতার। কি কি প্রয়োজনীয় অভ্যাসগুলো তারা চর্চা করেন প্রতিদিন, জেনে নেয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো-
১. কার্যকর যোগাযোগ : যোগাযোগই হলো নেতৃত্বের বাস্তব প্রয়োগ। নেতাদের লক্ষে পৌঁছানোর জন্য একটি মৌলিক উপাদান হলো কার্যকর যোগাযোগ। ভালো যোগাযোগকারী না হওয়া পর্যন্ত আপনি একজন মহান নেতা হতে পারবেন না।ভালো যোগাযোগকারীরা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তারা অন্যদের কথা শোনে। তাদের অনুসারীদের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করে যা বাস্তব, মানসিক, এবং ব্যক্তিগত। নেতারা তাদের যোগাযোগের ক্ষমতা দ্বারা জনগণের খুব কাছে যেতে পারে এবং তাদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করে নেয়।
২. সাহস: জনগণ কোন নেতাকে তখনই অনুসরণ করে যখন তার মধ্যে তারা সাহসিকতা খুঁজে পায়। জনগণের তাকেই প্রয়োজন, যিনি সাহসিকতার সঙ্গে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। যে কোন কঠিন সময়ে তারা তাদের নেতাদের পাশে চায়। নেতার সাহসিকতা জনগণকে সাহসী হতে উৎসাহ যোগায়।
৩. গোল্ডেন নিয়ম মেনে চলা :‘ গোল্ডেন রুল অনুসারে কারো সাথে সেভাবেই আচরণ করো, যেভাবে তুমি তার কাছ থেকে আচরণ পেতে চাও। সবাইকে সমান ভাবতে হবে।
আপনি যদি আপনার অনুসারীদের সাথে সেভাবে আচরণ করেন যেভাবে আপনি তাদের কাছ থেকে আচরণ পেতে চান। তাহলে তারা আপনাকে নেতা হিসেবে পেয়ে অবশ্যই খুশি হবে।মহান নেতারা অনুসারীদের সঙ্গে গোল্ডেন রুল মেনে চলেন। তারা সবাইকে সমান মনে করে যে যেভাবে আচরণ পেতে চান, তাদের সঙ্গে সেভাবেই আচরণ করেন। মহান নেতারা জনগণের প্রয়োজন বুঝে নিজের নেতৃত্বের পদ্ধতি পরিবর্তন করেন।
৪. আত্ম-সচেতনতা :মানসিক দক্ষতার প্রধান ভিত্তি হলো আত্ম-সচেতনতা। ৯০ শতাংশ নেতাদের মধ্যেই আত্ম-সচেতনতা গুণটি দেখা যায়। মহান নেতাদের আত্ম-সচেতনতা বলতে বুঝায়, তারা নিজেদের নেতৃত্ব সম্পর্কে যতোটা সচেতন, ঠিক ততোটাই সচেতন নিজেদের দুর্বলতা ও সবলতা সম্পর্কে। তারা জানেন কোন বিষয়ে তারা উজ্জ্বল এবং কোন বিষয়ে দুর্বল। সেই সাথে নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে উঠে সবলতাগুলোকে কাজে লাগানোর কৌশল তারা তৈরি করে নেন।
৫. ইচ্ছা : গভীর ইচ্ছা এবং উদ্যম হলো অনেকটা সংক্রমণ রোগের মতো। ঠিক যেমনটি হলো বিরক্তি আর অনীহা। কেউ এমন কোন নেতার অধীনে কাজ করতে চায় না যিনি কার কাজ সম্পর্কে একেবারেই আগ্রহী নন অথবা যিনি শুধুমাত্র কাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলেন।মহান নেতারা তাদের কাজ সম্পর্কে আগ্রহী থাকেন এবং তার এই আগ্রহ এবং উদ্যম তিনি আশেপাশের সকলের মধ্যে পৌঁছে দিতে চান।
৬. নিরহঙ্কার : মহান নেতারা ভদ্রতা বজায় রাখেন। তারা কখনো অন্যদের এটা বুঝতে দেন না যে তিনি অবস্থানগত দিক থেকে ওপরে। তারা প্রয়োজনের সময় যে কোন কাজ করতেই প্রস্তুত থাকেন। ঠিক তেমনি তিনি এমন কোন কাজ তার অনুসারীদের করতে বলেন না যা তিনি নিজে করতে পারবেন না।
৭. উদারতা :মহান নেতারা উদার হয়ে থাকেন। তারা লভ্যাংশ সবাইকে বিতড়ণ করেন। তারা অনুসারীদের সকল সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন যাতে তারা কাজগুলোকে নিজেদের মনে করেন। তারা নিজের সকল অনুসারীদেকে নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। শুধুমাত্র দলের সফলতার জন্য তারা এটা করেন না, সবাইকে প্রধান্য দেয়ার জন্যই তারা এটা করে থাকেন।
৮. লক্ষ্য :মহান নেতারা জানেন লক্ষ্য নির্ধারণই যথেষ্ট নয়। লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ করতে হবে যাতে অনুসারীরা তা দেখে উৎসাহী হতে পারে। তারা গল্প বলার মাধ্যমে বা ছবি এঁকেও অনুসারীদের ধারণা দিতে পারেন কি উদ্দেশ্য তারা সফল করতে চাচ্ছেন। মহান নেতাদের এ ব্যাপ্তীশীলতা অনুসারীদের উৎসাহিত করে এবং নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে।
৯. বিশ্বাসযোগ্যতা : বিশ্বাসযোগ্যতা বলতে বোঝায় সকল বিষয়ে সততা বজায় রাখা। যখন আপনি আপনার কাজ আর কথায় সততা বজায় রাখবেন, তখনই বোঝা যাবে আপনি কি হতে চান। আপনার সততা আপনার অনুসারীদের বুঝিয়ে দিবে আপনি আসলেই তাদের জন্য উপযুক্ত কিনা। অনুসারীতে আপনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আপনার দেখানো পথেই চলতে শুরু করবে। সৎ নেতারা অনুসারীদের কাছে স্বচ্ছ এবং প্রয়োজনের সঙ্গী হয়ে থাকেন।
১০. সহজগম্যতা :মহান নেতা চ্যালেঞ্জ, সমালোচনা এবং অন্যদের মতামতকে সাদরে গ্রহণ করে। তারা জানেন সাধারণ মানুষ যেখানে কথা বলতে ভয় পান, মতামত প্রকাশে ভয় পান সেখানকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়। তাই নিজেদেরকে সবার জন্য সহজগম্য রেখে মহান নেতারা তাদের সংস্থাকে এগিয়ে নিতে পারেন।
১১. দায়বদ্ধতা : মহান নেতাদের সঙ্গে সবসময় তার অনুসারীরা থাকেন। কিন্তু নেতাকে কখনোই তার অনুসারীদের ওপর কোন দোষ চাপান না। কোন কাজে ব্যর্থ হলে লজ্জায় মুখও লুকান না তারা। নেতারা জনগণকে সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন।
১২. উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা : কোন স্থানে যাওয়া যদি কারও লক্ষ্য হয়ে থাকে তাহলে সেখানে কি কারণে যাওয়া হচ্ছে সেটাই হলো উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা। জনগণ যখন সেই উদ্দেশ্য জানতে পারেন তখন তারা নিজেদের কোন মহৎ কাজের অংশ মনে করতে থাকে। মহান নেতারা তাদের এই ধারণাটি দিয়ে থাকেন।
একজন মহান নেতা হওয়া মানে এই নয় যে আপনাকে এগুলো সব অভ্যাসের চর্চা একই সাথে করতে হবে। যেকোন একটি বা দুটি বিষয়ের চর্চা করুন। প্রতিটি অভ্যাসই আপনাকে অধিক কার্যকরী করে তুলবে। যতোই আপনি এগুলোর চর্চা করবেন, ততোই আপনি দক্ষ হতে থাকবেন এবং নেতৃত্বের পদ্ধতি উন্নত হতে থাকবে।
৫৩
৯১ মন্তব্য