সিনিয়র শিক্ষক
১১ জুন, ২০২০ ০৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষক, শিক্ষকতা এবং শিক্ষক হিসাবে কবিড-১৯ এর সতর্ক বাণী এবং আমাদের করণীয়।
প্রাথমিক গড়িয়ে মাধ্যমিক তারপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন,মনে হয় সেদিনটি খুব কাছের যেদিন আমি প্রাইমারি স্কুল থেকে ফিরার পথে বড় মসজিদ পুকুর পাড়ে বই রেখে পুকুরের কিনারা ঘেঁষে কোন একটি অবলম্বন ধরে পুকুরটিতে শাপলা খুজতে গিয়ে আপাদমস্তক ডুবে ভেজা কাপড়ে ঘরে এসে মায়ের বকুনি খেয়েছিলাম।
ঐদিনটি আরো বেশি কাছে মনে হয় যখন আমি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের ভুতের ভয় লাগাতে গিয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম।
এ দিনটিতো সেদিন মনে হয় যাকে হাত বাড়ালে ধরতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলি শুরু হল আর আমি আতংকিত হয়ে সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করতে করতে নিরাপদ দুরত্বে চলে এলাম।
অতচ ১৯৯৪ সালের মাষ্টার্স পরীক্ষা ১৯৯৮ তে শেষ হলেও তা আজ থেকে প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি।
আজ আমি শিক্ষক সাথে সাথে একজন প্রশিক্ষক।
যে মুহুর্তে জ্ঞান বিতরণের নেশায় মেতে থাকার কথা তখন আমরা প্রকৃতির এক অচেনা অজানা অদৃশ্য অনুজীবের ভয়ে প্রতিটি মুহুর্তে মৃত্য নামক আবশ্যকীয় আক্রমনের ভয়ে আপন-পর সবার সাথে একই রকম ব্যবহার করছি। এ বয়সে দেখা-
১৯৯১ এর প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড়টি যে তাণ্ডব চালিয়ে বহু উপকূলীয় এলাকা রাতারাতি জন শুনে পরিণত করল, লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘর বাড়ি ধ্বংস করে সবাইকে আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করাল, নদী-নালা খাল-বিল ইত্যাদি মানুষসহ পশু পাখিদের মৃতদেহে পরিপূর্ণ করিল, একমুঠো অন্নের জন্য মানুষকে জাতিকুল ভুলে গিয়ে পথের ভিখারির অভিনয় করাল।
সেদিন জনমানবশূন্য পথ পাড়িদিয়ে নির্জন এলাকায় দৌড়ে যেতে ভয় করিনি, আকাশের নিচে রাত্রিযাপন কষ্ট হয়নি, আপন -পর না ভেবে একের পর এক মৃতদেহ কবরস্থ করছি। এমনকি অভাবের তাড়নায় ডাল -ভাত না জুটলেও আমরা কেউ মৃত্য নামক আবশ্যকীয় দিনটির ভয়ে ভীত হয়নি।
তবে এখন কেন এত ভয় যেভয়ে ধনী গরীব সবাই এক কাতারি হয়ে গেল।
আসলে প্রকৃতির মালিক বড় শিক্ষক। আর যা কিছু এখন ঘটছে তা হল শিক্ষকতার গুন।
সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সৃষ্টিকর্তার হুকুম না মেনে যখন প্রকৃতির সদস্যরা চলার চেষ্টা করেছে তখন কোন না কোন ভাবে প্রকৃতির ছাত্রদের প্রকৃতির মালিক যে কোন ধরনের শিক্ষাদান করে মহান সৃষ্টিকর্তার শিক্ষতার বড় গুনের পরিচয় দিয়েছেন। আধুনিক সৃষ্টি জগতের শিক্ষকদের কৃত্রিমতার দ্বারা প্রাপ্ত শিক্ষাক্রম প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। প্রকৃতির ছাত্র হিসেবে আমরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলাম।
তাই প্রকৃতির মহান শিক্ষক শিক্ষতার গুনে বিশ্বজগতের নিয়ন্ত্রণহীন জীবন যাপনের অসুবিধা বুঝানোর জন্য এক ক্ষুদ্র অণুজীবকে শিক্ষক বানিয়ে আমদের কাছে পাঠদান করতে পাঠালেন। এই শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন-
১।ধর্ম বর্ণের এবং ধনী গরীব এর কোন ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক হওয়া।
২।নারী পুরুষের অবাদ মেলামেশা ভুলে প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়মে মেলামেশা করা।
৩।ইচ্ছা করলে যা ইচ্ছা খাওয়া যাবেনা। প্রকৃতি নির্ধারিত খাবার খেতে হবে।
৪। দিনের আলোতে বাহির না হয়ে সারক্ষণ ঘরে বসে থাকা যাবে না।
৫।সৃষ্টা প্রদত্ত দেহ নামক গাড়ি যেভাবে ইচ্ছা চলানো যাবে না। তার জন্য প্রদত্ত ম্যানুয়াল অনুসারে চালাতে হবে।
৬।শুধু নিজের কিংবা নিজ দেশের কল্যানের কথা চিন্তা করলে হবেনা।অপরের এবং বিশ্বজগতের সকল জীবের কথা চিন্তা করতে হবে।
৭।একজন অসুস্থ হলে অন্য জনের সুস্থতার জন্য তার সাথে নিরাপুদ সুরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৮। অপরিষ্কার হাতে নাক,মুখ এবং চোখ ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না।
৯। বাহির হতে এসে ঘরের ভিতরের কোন কিছু স্পর্শ করার আগে সাবান দিয়ে ভাল করে হাত,পা ও মুখমণ্ডল ভাল করে ধৌত করতে হবে।
১০। বাহিরে যাওয়ার সময় অবশ্যি মাস্ক পড়ে
বের হতে হবে।
১১।শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় কোলাকুলি অথবা
হাত মিলানো থেকে বিরত থকে হবে।
আসুন বাহিরে যাওয়ার একান্ত প্রয়োজন না হলে ঘরে থাকি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি সদয় হয়ে লোকটিকে যেভাবে পারি সহায়তা করি।
৬৪
১০০ মন্তব্য