সহকারী শিক্ষক
২৮ জুন, ২০২০ ০৮:০৬ অপরাহ্ণ
ইস্তেগফার” অর্থ কি? কখন, আর কেন পাঠ করবেন ইস্তেগফার,?
ইস্তেগফার” অর্থ কি? কখন, আর কেন পাঠ করবেন ইস্তেগফার,?
ইস্তেগফার অর্থ হল ‘ক্ষমা প্রার্থনা করা’।
কোন ভুল করে ফেললে তার জন্য আমরা মহান রাব্বুল আল’আমীনের নিকট ক্ষমা চেয়ে থাকি।ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমরা সবাই বিশেষ করে أَسْتَغْفِرُالله ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি।যা সবার নিকট সহজ ও সহজে উচ্চারিত।
আরবি : أَسْتَغْفِرُالله উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লা-হ
অর্থ : আমি আল্লাহ্’র ক্ষমা প্রার্থনা করছি। প্রতি ফরজ স্বলাতের সালাম ফিরানোর পর রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার আস্তাগফিরুল্লা-হ পরতেন।[মিশকাত-৯৬১]
আস্তাগফিরুল্লা-হ পাঠের ফজীলত: বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন ইত্যাদি জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
নুহ আ. বললেন “তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল।
তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন,তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।”
(সুরা নূহ- ১০-১২)
এই আয়াতের দ্বারা আমরা এস্তেগফার এর যেসব উপকারিতা জানতে পারলাম।
তার মধ্যে দুটি হচ্ছে ১- রিজক বৃদ্ধি ২- সন্তান লাভ।
যেহেতু সন্তান বিয়ের মাধ্যমেই হয়। সুতরাং এস্তেগফারের দ্বারা বিয়ের ব্যবস্থাও আল্লাহ করে দিবেন।
এছাড়া অন্য আয়াতে বলেন, لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
সালেহ আ. বলেন “তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কেন করছ না, যাতে করে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’’ (সুরা নমল-৪৬)
যারা পেরেশানি, হতাশা, ডিপ্রেশন, sadness, loneliness ইত্যাদি নানা সমস্যার সম্মুখীন, তারা এস্তেগফারকে ‘লাযেম’ করে নিন।
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা। বলেন “যে ব্যক্তি নিজের জন্যে এস্তেগফারকে লাযেম করে নিল, আল্লাহ তায়ালা তাকে যে কোন সংকটে পথ দেখাবেন।
যে কোন ধরনের পেরেশানী ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”
ইস্তেগফার এর মধ্যে উত্তম হলো
আমি আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি।
⭐
ইস্তেগফার করার কিছু নিয়ম:
১। অস্তাগফিরুল্লা-হ (আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
প্রতি ওয়াক্তে ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসূল(সঃ) ৩বার পড়তেন ।(মিশকাত)
২। অস্তাগফিরুল্লা-হ ওয়া আতুবু ইলাইহি(আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তার দিকে ফিরে আসছি)
রাসূল(সঃ) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইস্তিগফার করতেন।(বুখারি)।
৩। রাব্বিগ ফিরলী,ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম।(হে আমার প্রভু,আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন।নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী)
২য় বর্ননায়"রাহীম" এর বদলে গাফূর ।অর্থ-তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।
রাসূল(সঃ) এক বৈঠকে এই দোয়া ১০০ বার পড়তেন ।(আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ,তিরমিযি,মিশকাত)
৪। অস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাজী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি(আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবুদ নাই,তিনি চিরন্জ্ঞিব,চিরস্থায়ি এবং তার কাছে তওবা করি)
৫৩
৯১ মন্তব্য