সহকারী অধ্যাপক
১২ জুলাই, ২০২০ ১০:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
সময় এসেছে আমাদের দেশের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন নিয়ে নতুন চিন্তা ভাবনার। আমাদের দেশের প্রায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মফস্বল এলাকায় বসবাস করে। এই মফস্বল এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন থাকলেও গভর্নিংবডি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের লিখিত ও অলিখিত কিছু নিয়ম কানুনের ভিত্তিতে চলে থাকে। যেমন- নবম ও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। রেজিস্ট্রেশনকৃত ছাত্র-ছাত্রীরাই নবম ও একাদশ শ্রেণিশেষে বর্ষ-সমাপনী (বার্ষিক) পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে হয় এবং দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিশেষে নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফাইনাল অর্থাৎ চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের নিয়ম। কিন্তু মফস্বলের অনেক প্রতিষ্ঠান এর ব্যতিক্রমও করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ঝড়েপরা থেকেই হউক কিংবা অন্য কোন কারণেই হউক। যে সকল শিক্ষার্থীরা বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয় তাদের পাশাপাশি, যারা বর্ষ সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি বা পরীক্ষাও দেয়নি তাদেরকেও চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করান বা করতে বাধ্য হন। যা বোর্ডের নিয়ম বহির্ভূত এবং ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ। যার দরুন শিক্ষকদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিছুদিন পূর্বে একটি অনলাইন নিউজে দেখলাম নবম ও একাদশ শ্রেণি শেষে সরকার পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। যা সময় সাপেক্ষ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। আমার মনে হয় এই সমস্যাগুলো সমাধানের কিছু সহজ উপায় রয়েছে। সেগুলো এমন হলেও হতে পারে। যেমন-
১। নবম ও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবে এবং বর্ষ-সমাপনী (নবম ও একাদশ শ্রেণি) পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান অথবা বোর্ডের (যেটি সুবিধাজনক হয়) মাধ্যমে এন্ট্রি দিবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে এবং ঝড়েপরা হ্রাস পাবে। বর্ষ-সমাপনী (নবম ও একাদশ শ্রেণি) পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এন্ট্রি দেওয়ার জন্য শুধু বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন সফটওয়্যারে প্রোগ্রাম সংযোজন/পরিবর্তন করলেই হবে।
২। অনুরূপভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিশেষে নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর বর্ষ-সমাপনী পরীক্ষার ন্যায় এন্ট্রি দিবে। ফরম পূরণের পর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে। ফলে যারা বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে না তাদেরকে প্রতিষ্ঠান প্রধান ফরম ফিলাপের জন্য বাহিরের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবেন।
৩। চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর থেকে 50%(হার কম-বেশ হতে পারে) এবং বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের 50%(হার কম-বেশ হতে পারে) নম্বর সমন্বয় করে এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করবে। বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলের সাথে যুক্ত করে ফলাফল তৈরি করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই গুরুত্ব ও মনোযোগ বাড়বে এবং পরীক্ষায় ফেলের হার ও ঝড়েপরা হ্রাস পাবে।
4। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীন (বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী) পরীক্ষার ফলাফলের কোন গুরুত্ব না থাকায় এবং দীর্ঘ দুই বছর পর এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় কোন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষার পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ফলাফলে প্রভাব পরে। যা কাঙ্খিত উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীন ও বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সমন্বয়ে (50%+50%) চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করলে এই সমস্যাটি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা যাবে। ফলে আশা করা যায় ঝড়েপরাও কিছুটা হ্রাস পাবে।
এছাড়াও বৈশ্বিক কিংবা দেশের অভ্যন্তরীন যে কোন মহামারী বা জরুরী অবস্থার সময় চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বর্ষ-সমাপনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেও চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা যেতে পারে।
উপরের চিন্তা-ভাবনাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত। আমাদের দেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল সম্মানীত নীতি নির্ধারক যারা আছেন, তাদের কাছে উপরের বিষয়গুলো একটু চিন্তা-ভাবনা করার সবিনয়ে অনুরোধ করছি।
মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম
প্রভাষক (আইসিটি)
দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ
দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।
ই-মেইল: [email protected]
৫৩
৯২ মন্তব্য