সিনিয়র শিক্ষক
১৯ আগস্ট, ২০২০ ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
আজ বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের জন্মদিন
জহির রায়হান
আজ বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক
জহির রায়হানের জন্মদিন...
জহির রায়হান (১৯ আগস্ট ১৯৩৫ - ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। বাংলা সাহিত্যের গল্প শাখায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৭৭ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক এবং সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। চলচ্চিত্রে তার সামগ্রিক অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে মরণোত্তর বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জন্মঃ- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ, ১৯ আগস্ট ১৯৩৫, ফেনী, ব্রিটিশ ভারত।
মৃত্যুঃ- ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২।
জাতীয়তাঃ- বাংলাদেশী।
জাতিসত্তাঃ- বাঙালি।
নাগরিকত্বঃ- বাংলাদেশী।
পেশাঃ- চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, গল্পকার।
দাম্পত্য সঙ্গীঃ- সুমিতা দেবী, সুচন্দা।
সন্তানঃ- বিপুল রায়হান, অনল রায়হান ও তপু রায়হান।
পুরস্কারঃ-
তার রচিত প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। তার রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হল হাজার বছর ধরে ও আরেক ফাল্গুন। হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য ১৯৬৪ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনো আসেনি (১৯৬১)। ১৯৬৪ সালে কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রের জন্য তিনি নিগার পুরস্কার লাভ করেন। তার নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলো হল বেহুলা, সঙ্গম, আনোয়ারা এবং জীবন থেকে নেওয়া। স্টপ জেনোসাইড প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে প্রশংসিত হন।
পুরস্কার ও সম্মাননাঃ-
১৯৬৪: হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার
১৯৬৫: কাচের দেয়াল চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে নিগার পুরস্কার
১৯৭২: গল্প সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার - ১৯৭১ (মরণোত্তর)
১৯৭৭: শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (মরণোত্তর)
১৯৯২: সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর)
২০০৫: হাজার বছর ধরে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (মরণোত্তর)
উল্লেখযোগ্য কাজঃ-
উপন্যাস—
শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০) প্রথম উপন্যাস। প্রকাশকঃ সন্ধানী প্রকাশনী। রোমান্টিক প্রেমের উপাখ্যান।
হাজার বছর ধরে (১৯৬৪) আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত আখ্যান। (চলচ্চিত্ররূপ, ২০০৫)
আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯) বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কথামালা।
বরফ গলা নদী (১৯৬৯) প্রথম প্রকাশঃ 'উত্তরণ' সাময়িকী। অর্থনৈতিক কারণে বিপর্যস্ত ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্ব গাঁথা।
আর কত দিন (১৯৭০) অবরুদ্ধ ও পদদলিত মানবাত্নার আন্তর্জাতিক রূপ এবং সংগ্রাম ও স্বপ্নের আত্নকথা।
কয়েকটি মৃত্যু
একুশে ফেব্রুয়ারী (১৯৭০)
তৃষ্ণা (১৯৬২)
গল্পসমগ্র —
সূর্যগ্রহণ প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৩৬২ বাংলা।
'সোনার হরিণ
"সময়ের প্রয়োজনে
একটি জিজ্ঞাসা
হারানো বলয়
বাঁধ
নয়াপত্তন
মহামৃত্যু
ভাঙাচোরা
অপরাধ
স্বীকৃতি
অতি পরিচিত
ইচ্ছা অনিচ্ছা
জন্মান্তর
পোস্টার
ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি
কতকগুলো কুকুরের আর্তনাদ
কয়েকটি সংলাপ (১৯৭১)
দেমাক
ম্যাসাকার
একুশের গল্প
অন্যান্য রচনা—
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (প্রবন্ধ), কলকাতার ঐতিহ্যবাহী 'পরিচয়' সহিত্যপত্রের বাংলাদেশ সংখ্যায় (জুলাই ১৯৭১) এ প্রকাশিত হয়।
অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত চলচ্চিত্র (প্রবন্ধ) , সোভিয়েত বিপ্লবের ৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক মহাবিপ্লব উদযাপন কমিটির (ঢাকা) স্মরণিকা 'তরঙ্গ'-এ (নভেম্বর ১৯৬৭) প্রকাশিত হয়।
ওদের জানিয়ে দাও (কবিতা)
জহির রায়হান রচনাবলী- ১ম খণ্ড
জহির রায়হান রচনাবলী-২য় খণ্ড
পত্রিকা সম্পাদনা—
এক্সপ্রেস (ইংরেজি সাপ্তাহিক)
প্রবাহ (বাংলা মাসিক)
চলচ্চিত্র—
সহকারী পরিচালক হিসেবে
জাগো হুয়া সাভেরা (১৯৫৯)
এদেশ তোমার আমার (১৯৫৯)
নবারুণ (১৯৬০)
যে নদী মরুপথে (১৯৬১)
পরিচালক, প্রযোজক, লেখক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে।
....
কমল কুজুর
সহঃ শিক্ষক
বাংলাহিলি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
দিনাজপুর।
৭১
১৪৫ মন্তব্য