Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

তাল' Palmyra Palm. শরতের ফল তাল !! আছে কিছু বেতাল।

'তাল' Palmyra Palm.


শরতের ফল তাল !!

আছে কিছু বেতাল।


তাই বলে তিলকে তাল বানানো নয়!

কাকতালীয়ভাবেও কিছু ঘটনা হয়।


ভাদ্র মাসের ‘তালপাকা’ গরমে তাল নিয়ে লেখাটা খুব আনন্দদায়ক নয়। ব্যাপারটা একটু বেতালই বটে! 

আবার এই ভাদ্রের গরমেই পাকা তাল খেতে হয়। কী এক অদ্ভুত বৈপরীত্য ? তালের বেতাল গল্প লিখে শেষ করা যাবেনা তাই মুল পয়েন্টে আসি।


‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/ সব গাছ ছাড়িয়ে/ উঁকি মারে আকাশে।’—আকাশে উঁকি মারা তালগাছ প্রায় ৮০' ফুটের মতো উঁচু হতে পারে। আর সে কারণেই বহুদূর থেকেও সে গাছ দেখে বলা যায় 

‘ওই দেখা যায় তালগাছ, ওই আমাদের গাঁ’। সব তালগাছেই যে তাল হবে, তা নয়। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি, ‘পুরুষ’ গাছে তাল ধরে না—সে গাছ থেকে শুধুই রস পাওয়া যায়। তাল হয় ‘মাতরি’ (‘মাতৃ’র অপভ্রংশ) বা নারী গাছে।


কাঁচা ও পাকা—দুই অবস্থায়ই তাল সুস্বাদু খাবার। তালের রস থেকে হয় তালমিছরি।

মৌসুমে একটা তাল গাছ থেকে দৈনিক ১০-১৫ লিটার রস পাওয়া যায়। কচি তালের ভেতরের আহার্য্য অংশ অতি সুস্বাদু ও জনপ্রিয়। কচি ফলের বাজার মূল্যও অনেক বেশি।এপ্রিল-মে মাসের গরমে তৃষ্ণা নিবারণে ও বিচিত্র স্বাদ আহরণে কচি তালের কদর বেশি। তালের আঁটিকে ছাই মিশ্রিত মাটির নিচে ৬-৭ সপ্তাহ সংরক্ষণ করা হলে তা থেকে লম্বা মোটা শিকড় গজায়। এ অবস্থায় আঁটির ভেতরে নরম শাঁস তৈরি হয়। শিশু, কিশোর ও বয়সীরা এটি পছন্দ করে খুব।


পাকা তালের রস দিয়ে তৈরি হরেক রকমের পিঠা, পায়েশ, হালুয়ার স্বাদই আলাদা। এর রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া বা গমের আটা মিশিয়ে বানানো হয় তালের বড়া ও তালফুলুরি। দুধের সঙ্গে তালের রস মিশিয়ে বানানো হয় তালক্ষীর। এ ছাড়া কোথাও খাওয়া হয় তালের রুমালি রুটি ও পিঠা। গ্রাম বাংলায় তৈরি হয় কলাপাতায় তালপিঠা, তালের স্পঞ্জ কেক।


উপকারিতা: 

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা (ঝড়, সাইক্লোন) থেকে পরিবেশ রক্ষা ও ভূমির ক্ষয় রোধ করে তাল গাছ,পাতার আগা সূচালো হওয়ায় বজ্রপাত রোধক গাছ হিসেবে এ ফলের আবাদ অতি জনপ্রিয়।

পুষ্টিগুণ: তাল অতি পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ। সব ধরনের ফলে দেহের জন্য উপযোগী বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ হলেও তালে এর বহির্ভূত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদন রয়েছে। অন্য ফলের তুলনায় এ ফলে ক্যালসিয়াম, লৌহ, আঁশ ও ক্যালোরির উপস্থিতি অনেক বেশি। বয়স্কদের জন্য এ ফলের উৎস থেকে সহজেই হজমযোগ্য পর্যাপ্ত আঁশ প্রাপ্তিতে অতি গুরুত্ব বহন করে। আখের গুড়ের চেয়ে তালের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেলের উপস্থিতি বেশি।

ঔষধিগুণ: তালের রস আমাশয় নিরাময়, মূত্রের প্রবাহ বৃদ্ধিকারক এবং পেটের পীড়া প্রদাহ "কোষ্ঠকাঠিন্য নিরসনে সহায়ক।

তালের রস থেকে তৈরি মিছরি সর্দি-কাশি নিবারণে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া যকৃতের পীড়া ও পিত্তনাশক হিসেবে এ ফল অতি কার্যকর।

মন্তব্য করুন

ব্লগ