সহকারী শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে জাপানের জাতীয় ফল ঔষধিগুণসম্পন্ন পার্সিমনের চাষ: সূত্র: 'কৃষি খবর নাটোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে জাপানের জাতীয় ফল ঔষধিগুণসম্পন্ন পার্সিমনের চাষ:
সূত্র: 'কৃষি খবর নাটোর প্রতিনিধি:
পার্সিমন। ইংরেজিতে Persimmon আর এর বৈজ্ঞানিক নাম Diospyros Kaki. এটি প্রধানত এশিয়া মহাদেশের ফল। জাপানে এর নাম Hoshigaki, চীনে Shibing, কোরিয়ায় Gotgam কিংবা Hangul এবং ভিয়েতনামে Hong kho নামে পরিচিত। ইসরাইলে এ ফলটিকে বলা হয় Sharon fruits. এটি সুস্বাদু , সুমিষ্ট, সুদৃশ্য এবং লোভনীয় একটি ফল। ফ্রিজে রেখে খেলে এর মিষ্টতা আরও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে বিদেশি ফল ও ফুলের চাষ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিকভাবে নাটোরে চাষ হচ্ছে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন ।
নাটোরে সীমিত আকারে পার্সিমনের ফলন পাওয়া গেলেও অচিরেই এই বিদেশি ফল এ দেশের মানুষের কাছে নন্দিত হবে এটাই আশা করছেন উদ্যানতত্ত্ববিদরা। জাপান, ইতালি, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ১৫টি পার্সিমন গাছে ফল ধরানোর চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত করেন দেশের প্রখ্যাত ফল গবেষক এস এম কামরুজ্জামান। নাটোরের মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টারে তার কয়েক বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সফলতা পায় ২০১০ সালে। বর্তমানে তার প্রায় কুড়ি ফুট উচ্চতার ১৫টি গাছের প্রত্যেকটিতে দেড় থেকে দুই হাজার করে পার্সিমন ফল ধরেছে। রং এবং আকৃতিতে এ দেশের টমেটো এবং গাবের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকা পার্সিমন ফল হলুদ ও কমলা রঙের মিশ্রণে গাছে ধরে রাশি রাশি। গাছ হয়ে ওঠে সুশোভিত। ছয় থেকে সাতটা ফলে এক কিলোগ্রাম হয়। সুস্বাদু ও রসালো পার্সিমনের মধ্যে ছবেদার মতো কয়েকটি বিচিও থাকে। আর ভিয়েতনামের পার্সিমন খানিকটা কচকচা। জাপানের পার্সিমন বিচিমুক্ত।
পার্সিমন গাছে ফুল আসে মার্চে আর ফল সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।
মডার্র্ন হর্টিকালচার সেন্টারে থাকা গাছগুলোকে মাতৃগাছ হিসেবে ব্যবহার করে এক হাজার চারা তৈরি করা হচ্ছে। এসব চারা বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে যাবে সারাদেশে। আর এসব গাছ থেকে ফল পাওয়া যাবে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে। এক সময় দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে।
পার্সিমনের উৎপত্তি চায়নাতে হলেও জাপান, কোরীয় উপদ্বীপ ছাড়িয়ে চলে গেছে ইউরোপ ও আমেরিকাতে।
উপকারিতা:
ভিটামিন এ, বি এবং সি’তে ভরপুর এই ফল। রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপারসহ একাধিক খনিজ লবণ। মানুষের শরীরের জন্য উপকারী পার্সিমনের অসংখ্য গুণাগুণ থাকলেও এতে থাকা পেকটিন রক্তচাপ এবং বস্নাড সুগার নিয়ন্ত্রণে অনন্য।
ঔষধিগুণ: কোষ্ঠকাঠিন্য ও অশ্বরোগ প্রতিরোধে পাসিমন খাওয়া হয়। রান্নাকরা ফল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগে ব্যবহার করা হয়। হুপিং কাশি রোগের প্রতিরোধেও এ ফল ব্যবহার করা হয়। সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসাবে এ ফল ব্যবহার হয়।
পার্সিমন বা কাকি সারা বিশ্বে দামি ফল গুলোর একটি । বর্তমানে এর প্রতি কেজি বাংলাদেশি টাকায় ৩০০-৪০০ টাকা করে বিক্রি হয়। বাংলাদেশে মাঝে মাঝে আমদানি হয় যা সুপারশোপ গুলোতে পাওয়া যায়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য