Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:০৯ অপরাহ্ণ

কিভাবে অনলাইনে ক্লাস করবেন বিস্তারিত ...

অনলাইন ক্লাস কি?
অনলাইন হল এমন একটি ক্লাস ব্যবস্থা যেখানে একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের ক্লাস অনলাইনেই নিতে পারেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এমনকি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও অনলাইনে নেয়া সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন হয় কিছু সফটওয়্যার ও শিক্ষকের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা। টিচার অনলাইন এ ক্লাস নিয়ে প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর খাতাও মূল্যায়ণ করতে পারেন এবং খুবই সহজে।

তবে অলাইন ক্লাস সাধারণত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথমটিতে, দেখা যায় শিক্ষক বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের লাইভ অনলাইন ক্লাস নিয়ে থাকেন। আর, দ্বিতীয়টিতে দেখা যায়, শিক্ষক তার ক্লাস ভিডিও আকারে রেকর্ড করে রাখেন এবং প্রয়োজনে অটোমেটিক পরীক্ষা পদ্ধতিও চালু করে রাখেন কোন একটি ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে। ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে এভাবে অটোমেটিক উপায়ে শিক্ষা নেয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় মূলত লার্নি ম্যানেজমেন্ট যা কিনা মূলত একটি লার্নি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এল এম এস এর মাধ্যমে নেয়া হয়।

দ্বিতীয় উপায়টিতে শিক্ষকের ক্লাস নেয়ার কষ্ট একটু কম হয় এবং শিক্ষার্থীরাও ইচ্ছামত যখন খুশি ক্লাসে এটেন্ড করতে পারে বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। কিন্তু, এ পদ্ধতিতে ঠিক আসলে ইন্টার একটিভ ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে সরাসরি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে উত্তর পেতে পারে না। যার ফলে, কিছুটা শিক্ষার মানে কিছুটা গ্যাপ থেকে যেতে পারে।

অন্যদিকে, লাইভ অনলাইন ক্লাসে প্রকৃতপক্ষে ইন্টার একটিভ ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়। যা, কিনা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় এবং সাবজেক্ট সম্পর্কিত সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান পিপাসা শিক্ষকের মাধ্যমে মেটাতে পারে।

তবে, শিক্ষা গ্রহনের চাহিদা, সুযোগ, সময় ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে উপরে বর্ণিত এই দুই পদ্ধতির কোনটিকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। দুটি পদ্ধতিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র তাদের চাহিদা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে লাইভ ক্লাস নেয়ার পদ্ধতিঃ

অনলাইনে লাইভ ক্লাস নেওয়া খুবই সহজ। অনলাইনে লাইভ ক্লাস নেয়ার পদ্ধতি গুলোর মধ্যে আমাদের দেশে জুম ক্লাস পদ্ধতি ও স্কাইপ ক্লাস পদ্ধতি সবথেকে জনপ্রিয়। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রা এই দুটি পদ্ধতিতেই অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এই দুটি পদ্ধতির ই কিছু সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হল।

জুম পদ্ধতির সুবিধাঃ

  • হোয়াইট বোর্ড ও মার্কার সুবিধাঃ এর মাধ্যমে আপনি আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইল ডিভাসের স্ক্রিনে যা লিখবেন বা আঁকবেন, তা শিক্ষার্থীরা সহজে সরাসরি দেখতে পারবে ও তাঁদের খাতায় নোট করতে পারবে।
  • খাতা চেকিং সুবিধাঃ এর মাধ্যমে আপনি ভার্চুয়াল পেন দিয়ে শিক্ষার্থীর পাঠানো খাতার ছবি চেক করে, খাতার উপর প্রাপ্ত নাম্বার বসিয়ে  মূল্যায়ন করে সেটি সেভ করতে পারেন আপনার ডিভাইসে এবং তারপর শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা কথাটি জুম মেসেজ অপশন এর মাধ্যমে লাইভ পাঠিয়ে দিতে পারেন। অথবা, আপনি যদি জুমের ভেতরে একটি Group খুলে থাকেন তাহলে তাঁদের খাতাগুলো মূল্যায়ন করে উক্ত Group এ আপলোড করে তার সবার কথা এক জায়গায় পাঠাতে পারেন।
  • মিটিং শেয়ারিং লিঙ্কঃ আপনার মিটিং এর একটি নির্দিষ্ট শেয়ারিং লিঙ্ক থাকবে এবং এই লিঙ্ক টি নিয়ে আপনি যাদের যাদের সাথে শেয়ার করবেন তারা সবাই আপনার মিটিং এ অংশ গ্রহন করতে পারবে। অংশগ্রহণকারীদের কারও জুম একাউন্ট না থাকলেও তারা আপনার দেয়া লিংক থেকে সহজেই আপনার মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের ইমেইল আইডি দিয়ে খোলা একটা জুম একাউন্ট থাকলে ভালো হয়।
  • স্ক্রিন শেয়ারিং সুবিধা।
  • রিমোট কন্ট্রোলিং সুবিধাঃ আপনার কম্পিউটারে বসে আপনার মিটিং এ অংশগ্রহণকারী যে কোন ব্যক্তির কম্পিউটার এর মাউসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন এবং তাকে তার কাজে ক্লিক করে আপনার কম্পিউটার থেকেই সাহায্য করতে পারবেন। অর্থাৎ, উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে আপনি আপনার কম্পিউটার এ বসে আপনার মিটিং এ অংশগ্রহণকারী দূরে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তির কম্পিউটার এ উক্ত ব্যক্তির অনুমতিক্রমে কাজ করতে পারবেন।

জুম পদ্ধতির অসুবিধাঃ

  • সীমিত সময়ঃ ফ্রি সফটওয়্যার ভার্সনে ৪০ মিনিট পর পর লাইন কেটে যায়। তখন আবার সবাইকে মিটিং জয়েন করতে হয় পূর্বের দেয়া লিঙ্ক এ ক্লিক করে।

স্কাইপ পদ্ধতির সুবিধাঃ

  • আনলিমিটেড মিটিং টাইম।
  • স্ক্রিন শেয়ারিং সুবিধা।

স্কাইপ পদ্ধতির অসুবিধাঃ

  • লিংক শেয়ারিংঃ লিঙ্ক শেয়ারিং সুবিধা জুমের মত অতটা আপডেটেড নয়। মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রত্যেক ব্যক্তিকে আগে থেকে স্কাইপ এর একাউন্ট খুলতে হয় এবং তারপর একটি Skype Group খুলে মিটিং পরিচালনা করতে হয়।
  • ভার্চুয়াল হোয়াইট বোর্ড ও মার্কারঃ জুমের মত ভার্চুয়াল হোয়াইট বোর্ড ও মার্কার এর সাহায্যে স্ক্রিনের উপর লেখার সুযোগ নেই।

লাইভ ক্লাস অনলাইন এ কিভাবে নিতে হয়?
অনলাইনে লাইভ ক্লাস নিতে হলে একজন শিক্ষককে অবশ্যই লাইভ অনলাইন ক্লাস গ্রহনের বিশেষ ট্রেনিং থাকতে হবে। কেননা, লাইভ অনলাইন ক্লাসে এমন কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যেগুলো ব্যবহারের কিছু টেকনিক জানা না থাকলে লাইভ ক্লাস গ্রহনটি ব্যর্থ হতে পারে। তাছাড়া, অনলাইনে শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণ করা এবং অফলাইনে শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। তাই, অনলাইনে ক্লাস নিতে হলে একজন শিক্ষককে অবশ্যই আইটি প্রফেশনাল ও অভিজ্ঞদের থেকে আগে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নেয়া উচিত যাতে করে সে ক্লাস নেবার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো সঠিকভাবে ও সফলভাবে সময় বাঁচিয়ে ব্যবহার করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রেখে লাইভ অনলাইন ক্লাসের মূল উদ্দেশ্যকে সফল করতে পারে।

লাইভ অনলাইন ক্লাস কীভাবে কাজ করে?
লাইভ অনলাইন ক্লাস মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করে। যেখানে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্লাসে অংশগ্রহন করে থাকে। অফলাইনের মত এখানে বø্যাকবোর্ড বা চক ব্যবহার করতে হয় না। তবে, এই শিক্ষা উপকরণ গুলো বিকল্প হিসেব কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। যেগুলো মাধ্যমে কৃত্রিম ভার্চুয়াল বোর্ড বা মার্কার ব্যবহার করে শিক্ষক ক্লাস নিতে পারেন। ক্যামেরা অন থাকতে হবে এমনটা বাধ্যতামূলক নয়। তবে, ক্লাস নেবার জন্য অবশ্যই একটি মাইক্রোফোন বা হেডসেট থাকা উচিত। অনলাইন লাইভ ক্লাস আপনি আপনার স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মাধ্যমে গ্রহন করতে পারবেন। আর অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহনের জন্য শিক্ষার্থীদেরও তাদের ডিভাইসগুলোতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগুলো ইন্সটল থাকতে হবে এবং ইন্টারনেট কানেকশান থাকতে হবে।

অনলাইনে ক্লাস এ কীভাবে শেখানো যায় এবং অনলাইনে ক্লাস চালানোর জন্য কী কী সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করতে হয়?

অনলাইনে ক্লাসে খুব সহজেই শিক্ষার্থীদের শেখানো যায়। এমনকি, প্রচলিত অফলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষাপ্রদানের থেকেও অনলাইনে শিক্ষা প্রদান কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশিই ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। কারণ, যেকোন বিষয়ের ছবি বা ড্রয়িং সহজে গুগল সার্চ করে শিক্ষার্থীদের দেখানো যায়, এমনকি, শিক্ষকের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ স্ক্রিণও সরাসরি শিক্ষাথীদের সাথে শেয়ার করা যায় এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিণ সরাসরি দেখতে পেয়ে খুব সহজেই কোন একটি বিষয়ে শিক্ষা পেতে পারে, যা কিনা তাদের কোন একটি বিষয় খুবই সহজে বুঝতে সাহায্য করে। যা কিনা অফলাইন ক্লাসে অনেকাংশে অসম্ভব!

অনলাইন ক্লাসে কি কি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়ঃ

আমাদের দেশে অনলাইন ক্লাস নেবার জন্য সাধারণত দুটি সফটওয়্যার খুবই জনপ্রিয়। সে দুটি হল জুম ও স্ক্যাইপ। নিচে সফটওয়্যার গুলোর ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়া হল।

যদি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয় বা সফটওয়্যারগুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন তা না বুঝতে পারেন, সেক্ষেত্রে, নিচ থেকে প্রয়োজনীয় কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

এছাড়া, শিক্ষকদের জন্য আমাদের আছে নিম্নোক্ত বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং সেবা। আপনি আপনার প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র, হ্যান্ডনোটস ও হাতে লিখিত বই আমাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাইপ করিয়ে নিতে পারবেন যেকোনো সময়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ