সিনিয়র শিক্ষক
১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:২৯ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধুতুরা গাছে আছে বিপজ্জনক মাত্রার ট্রোপেইন নামক বিষ। এই গাছের বিষক্রিয়ায় মানুষ বা পশুপাখির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বিষাক্ত এ উদ্ভিদে আছে ভেষজগুণ।
চৈনিক ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্রে বর্ণিত পঞ্চাশটি প্রধান উদ্ভিদের একটি এই ধুতুরা।
ভেষজ চিকিৎসার ধুতরা গাছের যেকোন অংশ ব্যবহার করতে হলে অত্যন্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।
ঝোপ-ঝাড়ে বা রাস্তার ধারে অযত্নে এই গাছ বেড়ে ওঠে।
ধুতুরার বীজ থেকে চেতনানাশক পদার্থ তৈরি করা হয়।
ধুতুরার রস খেলে এর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অল্প পরিমাণ ধুতুরার রস খেলেও চোখে আবছা দেখে। ভেদ-বুদ্ধি লোপ পায়। আর বেশি পরিমাণে খেলে যে কোনো মানুষ অন্ধ এবং পাগল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কিন্তু এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার স্নায়বিক, মানসিক, চর্মরোগ এবং বাতের ব্যথায় বেশ কার্যকর।
পাগলা কুকুরে কামড়ালে এ গাছের এক থেকে আধা গ্রাম মূল ও পূর্ননবা নামের আরেকটি ভেষজ গাছের পাঁচ গ্রাম কাচা মূলের সাথে বেটে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা দুধের সাথে খাওয়ালে জলাতঙ্ক রোগ হবে না।
সামান্য একটু গাওয়া ঘি ধুতরা পাতার রসের সাথে মিশিয়ে ফোঁড়ার স্থানে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পেকে যায়। মাথার চুল উঠে গিয়ে টাক পড়লে, ধুতরা পাতার রস মাথায় লাগালে টাকে চুল গজাতে সহায়ক।
প্রচন্ড বাতের ব্যথায় সরিষার তেলের সাথে ধুতরার পাতার রস মিশিয়ে কুসুম গরম করে ব্যথা স্থানে মালিশ করলে ব্যথা কমে যায়। কৃষ্ণ ধুতরার শুকনো পাতা, ফুলের সাথে বাসক পাতা জডিয়ে সিগারেটের মতো টানলে হাঁপানির কষ্ট কমে।
এছাড়া ধুতরা গাছের পাতা, মূল, ও ফল সিদ্ধ করে বুকে সেক দিলে শ্বাস কষ্ট কমে।দুধের সাথে মিশিয়ে দুই থেকে তিন ফোঁটা ধুতুরা পাতার রস প্রতিদিন খেলে ক্রিমি কমে যায়।
ভালো অভিজ্ঞ না হলে ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো ।
৫৩
৯২ মন্তব্য