Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৪:০৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন শিক্ষা, অনলাইন শিক্ষার কথা বলতে গেলেই প্রথমেই প্রশ্ন জাগে অনলাইন শিক্ষা কি?? এর সুবিধা সমূহ কি কি? তবে তাহলে শুরু থেকেই ব্যাখ্যা করি এই অনলাইন শিক্ষা সম্পর্কে।

অনলাইন শিক্ষা


- শিল্পী রানী সাহা


অনলাইন শিক্ষার কথা বলতে গেলেই প্রথমেই প্রশ্ন জাগে অনলাইন শিক্ষা কি?? এর সুবিধা সমূহ কি কি? আদৌ কি তা বাংলাদেশের মত একটি দেশে বাস্তবায়ন সম্ভব! তবে তাহলে শুরু থেকেই ব্যাখ্যা করি এই অনলাইন শিক্ষা সম্পর্কে।



অনলাইন শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যা সাধারণ শ্রেণি শিক্ষা থেকে ব্যতিক্রম এবং এটি একটি ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি যা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হয় আধুনিক প্রযুক্তি তথা কম্পিউটার বা মোবাইল কিংবা এ জাতীয় কোন ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তা হতে পারে নেট ডাটার মাধ্যমে বা ওয়াই-ফাই বা ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে সংযোগকৃত। এ অনলাইন শিক্ষার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু আচরণ বা শিষ্টাচার বিধি। মোটকথা, ইন্টারনেট নির্ভর এ যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিশেষ শিষ্টাচার ও শৃংখলা বিধি মেনে কোন ক্লাশ পরিচালনা করাই হলো অনলাইন ক্লাশ যেখানে একজন শিক্ষক ক্লাশরুমের বাইরে সুবিধাজনক যে কোন স্থান থেকে পাঠদান করতে পারে এবং শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ বাড়ীতে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লাইভ ক্লাশে অংশগ্রহন করতে ও পারস্পারিক মতবিনিময় করতে পারে। শুধুমাত্র স্বশরীরে উপস্থিতি ছাড়া একাডেমিক বাস্তব ক্লাশের সাথে অনলাইন ক্লাশের তেমন কোন পার্থক্য নেই। এখানে অনুমতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থী একই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই ক্লাশে অংশগ্রহন করতে পারে। শিক্ষক সরাসরি ক্লাশ নেন আর শিক্ষার্থীর কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রীনই হবে তার ক্লাশ। শিক্ষার্থী বাস্তব ক্লাশের মতো এখানেও শিক্ষককে প্রশ্ন করে তাৎক্ষনিক সমাধান পেতে পারে। এ যেন ফেইচ টু ফেইচ বা সরাসরি ক্লাসের মতই।


এবারে আসি অনলাইন ক্লাশের কিছু সুবিধা নিয়ে , যদিও করোনাকালীন সময়টাতে আমরা একদম চোখের সামনেই এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধাগুলো হাতেনাতে পাচ্ছি ।


অনলাইন শিক্ষার সুবিধাঃ


অনলাইন শিক্ষা ধারা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি উন্নত শিক্ষা প্রক্রিয়া। উন্নত বা অনুন্নত যে কোন দেশে এ শিক্ষার প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ করতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এ অনলাইন শিক্ষা ধারা অতি কার্যকরি এবং এর সুবিধা জাতি ও দেশের জন্য খুবই ফলপ্রসু। বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষার অনেক সুবিধা রয়েছে যা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক উন্নতি সাধিত হবে।

১। সুযোগমত শিক্ষা লাভঃ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাদের সুবিধামত সময়ে পাঠদান ও পাঠ গ্রহন করতে পারে। অথবা শিক্ষক তার শ্রেণি কার্যক্রম শেষে ইউটিউব বা সোশ্যালমিডিয়াসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে রেখে দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের সুযোগমত শ্রেণি পাঠ গ্রহন করতে পারে।

২। সময়ের অপচয় রোধঃ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে যেহেতু প্রতিষ্ঠানে সরাসরি আসতে হয় না এবং ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায়, সেহেতু সময়ের অপচয় অনেকাংশে রোধ হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পাঠ গ্রহন করতে পারে বলে, তারা অল্প সময়ে অনেক শ্রেণি কার্যক্রম বা বাড়ির কাজ করতে পারে, ফলে অনেক সময় বেঁচে যায় এবং বাড়তি পড়াশুনার কাজ করতে পারে।

৩। যেকোনো স্থান থেকে পড়াশুনার সুবিধাঃ বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া যায়। ক্লাস লেকচার এক মিনিটেই কপি করে যার যার কম্পিউটার, মোবাইল, প্রোফাইলে সেভ করে রাখা যায়, তাই নোট করার কোনো ঝামেলা নেই। কনভেনশনাল/ট্রাডিশনাল অ্যাকাডেমিক ক্লাসে একদিন উপস্থিত হতে না পারলে ওই দিনের লেকচার আবার বোঝার সুযোগ নেই। কিন্তু অনলাইন ক্লাসের লেকচার ছাত্রছাত্রীর নির্দিষ্ট পেজে সুরক্ষিত থাকে। তাই অনলাইন ক্লাসের সময়ে অনলাইনে না থাকলেও পরে পড়া, শিক্ষক এবং অন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নোত্তরের কমেন্টগুলো দেখে ওইদিনের বিষয়টা সহজেই বোঝা যায়।

৪। অনলাইন শিক্ষা সরাসরি শিক্ষার চেয়েও ফলপ্রসুঃ একাডেমিক ক্লাসে স্বশরীরে ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিত হয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। অনলাইন ক্লাসেও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অনলাইনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। ট্রাডিশনাল অ্যাকাডেমিক ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ডে বোঝানো হয়। অনলাইন ক্লাসে ইমেইজ লাইব্রেরি দিয়ে অথবা চিত্র আর্ট করে গ্রাফিকসের মাধ্যমে বোঝানো হয়। তা ছাড়া অনলাইন ক্লাসে নির্ধারিত পাঠের টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করেও বোঝানো যায়। অতএব ট্রাডিশনাল অ্যাকাডেমিক বাস্তব ক্লাসের চেয়ে অনলাইন ক্লাসই বেশি সুবিধাজনক এবং বেশি ফলপ্রসূ।

৫। অর্থের অপচয় রোধঃ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে অর্থের অপচয়ও অনেকে কমে যায়। অল্প জনবল দিয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক মেইনটেন্যান্স খরচ, বাড়ি ভাড়ার খরচ ও শিক্ষা সামগ্রীর খরচসহ অন্যান্য খরচ কমানো সম্ভব হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বাবদ একটু খরচ বাড়লেও তা অন্যান্য দিক থেকে খরচ বাঁচানোর তুলনায় অনেক কম।

৬। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সফল প্রয়োগঃ আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির তেমন কোন ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছিলো না, কিন্তু করোনার প্রভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর। অনলাইন শিক্ষাই এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের একমাত্র প্রধান অবলম্বন। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। সুতরাং করোনার কারনেই আজ আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ও তার সফল ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।

সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও ইউজিসি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস শুরু করায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতির পর পড়াশোনায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাস শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে আছে। তাই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম মেধা রক্ষা ও মেধার লালনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে


করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সাথে অব্যহত আছে। তবে প্রত্যেক মুদ্রার যেমন দুই পিঠ থাকে ঠিক একই ভাবে প্রত্যেক জিনিসের ভালো খারাপ দুইদিকই আছে, তাই আমরা আশা রাখি এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আরো সফলতার সাথে এগিয়ে যাবে।



***Ref(ডক্টর মোঃ মাহমুদুল হাছান, শিক্ষাবীদ)

মন্তব্য করুন