Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

বিবাহের নিয়মকানুন --একজন ছেলে ও একজন মেয়ের একসঙ্গে থাকার সামাজিক বৈধতার অপর নাম বিয়ে।

বিবাহের নিয়মকানুন

 

একজন ছেলে একজন মেয়ের একসঙ্গে থাকার সামাজিক বৈধতার অপর নাম বিয়ে। একেক ধর্মে একেকভাবে বিয়ের নিয়ম রয়েছে। সেসব নিয়েই এই প্রতিবেদন

মুসলিম বিয়ে

ফার্মগেইট কাজী অফিসের কাজী আলহাজ্ব মাওলানা আবু বকর চাখারি মুসলিম বিয়ের আচার সম্পর্কে বলেন, “ন্যূনতম জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ছেলের আর্থিক সামর্থ্য অবস্থান অনুযায়ী।

বিয়ের সময় একজন উকিল থাকেন। তিনি কনে পক্ষ অথবা ছেলে পক্ষের হতে পারেন। তবে সাধারণত কনে পক্ষ থেকেই উকিল থাকে। উকিল প্রথমে কনেকে জিজ্ঞাসা করেন বিয়েতে রাজি আছে কি না? কনে রাজি থাকলে বরকে তা বলা হয়। এরপর দোয়া কালাম করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়

আবু বকর চাখারি আরও বলেন, “ইজাব এবং কবুল এই দুটিই আসলে বিয়ের মূল উপকরণ। হিল্লা বিয়ের ধর্মীয় ভিত্তি নেই।

চাখারি জানানআইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন ২০১১ অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্টারের জন্য লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার টাকা বা এর অংশ বিশেষের জন্য ১২ টাকা ৫০ পয়সা হারে কাজিকে নিবন্ধন ফি দিতে হয়

দেনমোহর লক্ষ টাকার অধিক হলে পরবর্তী প্রতি লক্ষ টাকা বা এর অংশ বিশেষের জন্য ১০০ টাকা বিয়ে নিবন্ধন ফি হিসেবে দিতে হয়

তবে দেন মোহরের পরিমাণ যাই হোক না কেনো সর্বনিম্ন নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা

কোর্ট ম্যারেজমানেই বিয়ে নয়

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম জানান, আইনেকোর্ট ম্যারেজবলে কোনো বিধান নেই এবং এর কোনো ভিত্তিও নেই। এটি একটি লোকমুখে প্রচলিত শব্দ

তিনি আরও জানান, ‘কোর্ট ম্যারেজবলতে সাধারণত হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দেওয়াকেই বোঝান হয়ে থাকে। হলফনামাটি ২০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে

হলফনামাটি সম্পন্ন করলেই আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে, এটি বলা যাবে না। এটি বিয়ের ঘোষণামাত্র। অর্থাৎ হলফনামার মাধ্যমে বর-কনে নিজেদের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে, মর্মে ঘোষণা দেয়

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। তারপর তারা ইচ্ছা করলে হলফনামা করে রাখতে পারেন

পারিবারিক আইন অনুযায়ি বিয়ে না করে শুধু হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়

বিশেষ বিবাহ আইন

তানজিম জানান, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮৭২ সালের বিশেষ বিয়ে আইন রয়েছে

এই আইন অনুযায়ী বিশেষ বিয়ের জন্য একজন রেজিস্টার থাকে। প্রথমত বৈধ বিয়ে করা হচ্ছে এই হিসেবে এফিডেভিট করতে হয়, পরে রেজিস্টারের কাছে হলফনামা জমা দেয়

এর ১৪ দিন পর একটি নোটিশ দেওয়া হয়। পরে নোটিশ নিয়ে রেজিস্টারের কাছে গেলে বিয়ে নিবন্ধিত করা হয়

January 31, 2020

কোর্ট মেরিজের কোন আইনগত ভিত্তি নাই

কোর্ট মেরিজের কোন আইনগত ভিত্তি নাই। সুতরাং এই রকম বিয়েতে মেয়ে রাই প্রতারিত হওয়ার সম্ভবনা বেশি

সীমা সুজন আদালতের নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়েকোর্ট ম্যারেজকরেছিল। কিন্তু তখন তারা বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রী করেনি। বিয়ের কিছুদিন পরই সুজন সীমার সঙ্গে তার বিয়ের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে। আর অজুহাতে সীমাকে মোহরানা, খোরপোষ দাম্পত্য অধিকার দিতেও তিনি রাজি নন। অবশেষে বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতে  

কাবিন রেজিষ্ট্রীর পরিবর্তে কোর্টম্যারেজ অধিকতর শক্তিশালী- ভুল ধারণার ফাঁদে পড়ে অনেক নারী তাদের দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আইনের ছদ্মাবরণে একশ্রেণীর নোটারী পাবলিক অবৈধ কাজে সহায়তা করে চলেছেন। অথচ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেকোর্ট ম্যারেজের কোন বৈধতা নেই, এমনকি এর কোন অস্তিত্বও নেই। 

পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে কিংবা একশত পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয়ে গিয়ে হলফনামা করাকে বিয়ে বলে অভিহিত করা হয়। অথচ এফিডেভিট বা হলফনামা শুধুই একটি ঘোষণাপত্র। 

কাবিন রেজিষ্ট্রী না করে অনেকে বিয়ে সম্পন্ন করছেন। আইনানুযায়ী কাবিন রেজিষ্ট্রী আকদ সম্পন্ন করেই কেবল ঘোষণার জন্য এফিডেভিট করা যাবে। কিন্তু নিয়ম মানা হয় না। মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ বিধি ১৯৭৫ এর ১৯() ধারা অনুযায়ীনিকাহ রেজিষ্ট্রার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি বিবাহ করান তাহলে সেই ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে ওই নিকাহ রেজিষ্ট্রারের নিকট অবহিত করবেন, যার এলাকায় উক্ত বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে 

মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৭৪-এর ধারা () অনুযায়ী বিবাহ রেজিষ্ট্রশন না করার শাস্তি সর্বোচ্চ (তিন) মাসের কারাদ- কিংবা পাঁচশত টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আকদ বা বিয়ে রেজিষ্ট্রী না করে শুধুমাত্র হলফনামায় ঘোষণা দিয়ে ঘর-সংসার প্রবণতা অমাদের দেশে ক্রমেই বাড়ছে। অথচ এর কোন বৈধতা নেই। 

আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক তরুণ তরুণীর ভুল ধারণা হয় যে, শুধুমাত্র এফিডেভিট করে বিয়ে করলে বন্ধন শক্ত হয়। কাজী অফিসে বিয়ের জন্য বিরাট অঙ্কের ফিস দিতে হয় বলে কোর্ট ম্যারেজকে অধিকতর ভাল মনে করে তারা। 

অনেকে এফিডেবিটের মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদন করে একাধিক বিয়ের কথা গোপন করার জন্য। কোন মেয়ের অভিভাবককে জিম্মি করে টাকা আদায় কিংবা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যও অনেক সময় এফিডেভিটের মাধ্যমে ভূয়া বিয়ের দলিল তৈরি করা হয়

দলিল তৈরি করা খুব সহজেই সম্ভব এবং এসব ক্ষেত্রে হলফনামা প্রার্থীকে নোটারি পাবলিকের কাছে হাজির হতে হয় না। এর ফলে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে দেয়ার সুযোগ থাকে। এছাড়া নারী শিশু নির্যাতন মামলা থেকে রক্ষার জন্য আসামী পক্ষের এরকম হলফনামা তেরীর প্রবণতা দেখা যায়। 

লাইসেন্স বিহীন কাজীর নিকট বিয়ে রেজিষ্ট্রী করলে এর কোন আইনত মূল্য নেই। কাজীর কাছে গিয়ে কাবিন না করলে দুপক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কাবিননামা না থাকায় নারীরা তাদের মোহরানাও পায়না। কাবিননামার বদলে কোর্ট ম্যারেজের বিয়েতে ছেলেরা একটা সুযোগ খুঁজে। জোর করে দস্তখত নিয়ে এফিডেভিট করেছে মেয়ে পক্ষ এই অজুহাত অনেক সময় দাঁড় করে ছেলে পক্ষ। আইনানুযায়ী বিয়ের আসরেই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে হয়। বিয়ের আসরে সম্ভব না হলে বিয়ে অনুষ্ঠানের দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রী করতে হয়। কাজীকে বাড়িতে ডেকে এনে অথবা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রী করা যায়

এছাড়াও কাবিননামার সকল কলাম পূরণ করার পর বর, কনে, উকিল,সাক্ষী অন্যন্যা ব্যক্তিগণের স্বাক্ষর দিতে হয়। এদেশের সব ধর্মের বিয়ে বিচ্ছেদের ব্যাপরে পারিবারিক আইন আদালতের নিয়ম মানতে হবে। কোর্ট ম্যারেজের বিয়েতে উৎসাহদানকারী নোটারি পাবলিকদের চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করতে হবে। আইন করে কোর্ট ম্যারেজের বিয়ে বন্ধ করা সময়ের দাবী

About these ads

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ