Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

স্নায়ুযুদ্ধ বা শীতলযুদ্ধ (Cold war) কাকে বলে? সর্বপ্রথম কখন ও কোথায় স্নায়ুযুদ্ধের সুচনা ঘটে?


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, অর্থনৈতিক-সামরিক-রাজনৈতিক দিক দিয়ে দুটি বৃহৎ শক্তি আত্মপ্রকাশ করে - সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী চার দশক এই দুই মহাশক্তি সারা বিশ্বকে ছক করে যে দাবা খেলায় মেতেছিল ও অর্থনৈতিক সামরিক,সাংস্কৃতিক এবং প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল তাই ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ বলে পরিচিত। যেহেতু দুই শক্তিই পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত ছিল, প্রত্যক্ষ সংঘাতে তারা যেতে পারেনি। তার জায়গায়, তারা আশ্রয় নেয় ছায়া যুদ্ধ-এর যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের সংকট। নিজের স্বার্থ রক্ষিত হবে না, এমন বুঝলে দুই শক্তিই করতে পারত না হেন কাজ ছিল না। ‘মুক্ত দুনিয়া’র ধ্বজাধারী আমেরিকা ইন্দোনেশিয়া, গুয়াতেমালা, বাংলাদেশের গণহত্যায় মদত দেয়, পর্তুগাল-স্পেন -গ্রীসের একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন করে, চিলি, এল সাল্ভাদোর, কঙ্গো ও ইরানের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু এর মাধ্যমে ফেলে দেয়, আফগানিস্তানের তালিবানদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। ‘সমাজতন্ত্র ও আন্তর্জাতিকতাবাদ’ এর ধ্বজাধারী সোভিয়েত ইউনিয়ন ইমরে নেগী, আলেকজান্দার ডুবচেক বা জোসেফ টিটোর মতো কমিউনিস্ট নেতারা, যারা ‘জয় সোভিয়েত’ বলতে নারাজ ছিলেন, তাঁদের গলা টিপতে উদ্যোগী হয়। ৫৬ সালে হাঙ্গেরির নেগী সরকার আর ৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার ডুবচেক সরকার ফেলে দেওয়া হয়, আর টিটোর সরকার ফেলে দেওয়ার প্রাণপন চেষ্টা করা হয়, নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে এমনকি চুড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল লোককেও সাহায্য দিতে সোভিয়েত প্রস্তুত ছিল ( ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আয়াতোল্লাহ খোমেনিকে ও পরে সাদ্দাম হুসেনকে সোভিয়েত সমর্থনের কথা বলা যেতে পারে, দুই শাসকই কিন্তু নিজের নিজের দেশের বামপন্থী, উদারবাদী এবং কমিউনিস্টদের উপর অসীম অত্যাচার করছিলেন)। অনেকেই ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’-কে যুযুধান দুই মতাদর্শের সংঘাত বলে দেখেন। আমার মনে হয় এই ধারণা ভুল। এটা ছিল যুযুধান দুই শক্তির পাওয়ার পলিটিক্স বা শক্তির রাজনীতি যাতে মতাদর্শের জায়গা খুব কম ছিল। এর আগের শতকে গ্রেট ব্রিটেন ও রাশিয়ায় ‘গ্রেট গেম’ এর একরকম বিশাল আকারের পুনরাবৃত্তি বলা যায়।

এই তো গেল ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রকৃতি। এখন কবে শুরু হয়েছিল, এটা বলা মুশকিল। এর শিকড় ১৯১৭ থেকেই ছিল, তবে ১৯৪৫ সালের পটসডাম সম্মেলনে পরিষ্কার হয়ে যায়, বিজয়ী দুই শক্তির মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকবে না। পাঁচটি তারিখ ধরা যেতে পারে - ১৯৪৬ এর ৯ই ফেব্রুয়ারি স্তালিনের মস্কো বক্তৃতা - ৫ই মার্চ ১৯৪৬ এর চার্চিলের ‘লৌহ যবনিকা’ বক্তৃতা - ১২ই মার্চ ১৯৪৭ এ ট্রুম্যান ডক্ট্রিনের ঘোষণা - ১৮ ই জুন ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত কর্তৃক পশ্চিম বার্লিন অবরোধ ও অবশেষে ২৫শে জুন ১৯৫০ সালে কোরিয়ার যুদ্ধ শুরু হলে প্রথম ছায়া যুদ্ধের সূচনা। আমি পটসডাম থেকে ধরারই পক্ষপাতি। পটসডামে পোল্যান্ড নিয়ে দর কষাকষিতেই দুই পক্ষ প্রথম বুঝতে পারে হিটলারের পতনের সাথে সাথে তাঁদের স্বার্থ আলাদা হয়ে গেছে। বাকিটা শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল।

মন্তব্য করুন