Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

টিউমারের হোমিওপ্যথিক চিকিৎসা Homeopathy treatment for Tumors
টিউমারের হোমিওপ্যথিক চিকিৎসা
Homeopathy treatment for Tumors
টিউমার কি ?
শরীরের যে কোনো স্থানে কোষসমূহ যদি ধীরে ধীরে বা দ্রুততার সঙ্গে অস্বাভাবিক ও অসামঞ্জস্যভাবে ফুলে ওঠে বা এক কথায় টিউমার হলো মূল দেহ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
কারণ ঃ কি কারণে মানবদেহে এমন টিউমার বা ক্যান্সার হয় তার কারণ আজও অজানা।
টিউমার তিন প্রকার :১। হিস্টোমা বা কানেকটিভ টিস্যু টিউমার ২। সাইটোমা ৩। টেরাটোমা বা মিক্সড সেল টিউমার।
হিস্টোমা টিউমার আবার দুই প্রকার :বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট।
বিনাইন টিউমার :এ জাতীয় টিউমার তুলতুলে নরম হয় এবং শক্ত হয় না।খুব আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায়।এর কোনো আবরণ থাকে না।এর উপরের চর্ম আলাদা পৃথক মনে হয়।এ টিউমারের সংলগ্ন গ্রন্থিসমূহ আক্রান্ত হয় না। চাপ দিলে এতে কোনো যন্ত্রণা অনুভূত হয় না।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার :এটা নিরেট বা শক্ত হয়। এটা খুব দ্রুত বড় হয়। এতে আবরণ থাকে।এটার উপরের চর্ম আলাদা পৃথক মনে হয় না। এ টিউমার সংলগ্ন গ্রন্থিসমূহ আক্রান্ত হয়। চাপ দিলে এতে যন্ত্রণা অনুভূত হয়।এতে আঘাত করলে বা অস্ত্রোপচার করলে ক্ষতি হয়। অস্ত্রোপচার করলে পরে প্রায়ই ক্যান্সার হতে দেখা যায়।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে টিউমার বিভিন্ন নামে পরিচিত :১. নাক, জরায়ু প্রভৃতি শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির টিউমারের নাম প্যাপিলোমা।
২. জরায়ু,পাকস্থলী প্রভৃতি স্থানের মাংস পেশির টিউমারের নাম মাইওমা।
৩. চর্মের টিউমারের নাম এপিথেলিওমা।
৪. পিঠ, কাঁধ প্রভৃতি স্থানে ফ্যাটিটিস্যু টিউমারের নাম লিপোমা।
৫. বোন হাড়ের কার্টিলেজের টিউমারের নাম কনড্রমা।
৬. মাথার খুলি, মুখমন্ডল, নাসিকা গহ্বর প্রভৃতি স্থানে হাড়ের অস্থি টিউমারের নাম অস্টিওমা।
৭. মস্তিষ্ক কোষের টিউমারের নাম গ্লাইওমা।
৮. মস্তিষ্ক, লিভার প্রভৃতি স্থানে রক্ত নালিকার টিউমারের নাম হেমান জিওমা।
৯. ঘাড়, জিহ্বা, বগল প্রভৃতি স্থানের লসিকা নালির টিউমারের নাম লিমফ্যানজিওমা।সাধারণত কম বয়সে সার্কোমা টিউমার দেখা দেয়।সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর কার্সিনোমা টিউমার দেখা দেয়।
টিউমারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ সমুহের লক্ষনভিত্তিক আলোচনা ঃ
ব্যারাইটা কার্বঃ- শীত কাতরের রোগী ঘাড়,গলা,বগল বা শরীরের কোন স্হানে নরম তুল তুলে টিউমার তাহা বড় হোক আর ছোট হোক ব্যারাইটাি কার্ব তা আরগ্য করিতে সক্ষম।নবজাত শিশুর মাথায় নরম তুলতুলে অর্বুদে ব্যারাইটা কার্ব অব্যর্থ।
ক্যালকেরিয়া কার্বঃ-মোটা,মেদপুর্ণ থল থলে মাংসল রোগীর মাথার ঘামে বালিশ ভিজে অল্পতেই ঠান্ডা লাগে।এই ধাতুর রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্হানে টিউমার হইলে ক্যালকেরিয়া কার্ব উপযোগী।
কোনিয়ামঃ-পেটে,স্তনে বা শরীরের কোন স্হানে শক্ত টিউৃমার তথায় সুচ ফুটানো ব্যথা।কোন সময় আঘাত লাগার ফলে টিউমার হইলে তাহাতে ব্যথা থাকিলে কোনিয়ামই তাহার এক মাত্র ঔষধ।
স্ট্যাফিসেগরিয়াঃ-শীত কাতর,বদরাগী,অত্যন্ত কামুক,পোকা ধরা দাত,খিট খিটে মেজাজ,এই ধাতুর রোগীদের চোখের পাতায় অন্জনি হইবার পর ঐ স্হানে ছোট টিউমারের মত হইয়া থাকিলে ইহা উত্তম ঔষধ।উপরোল্লিখিত লক্ষণ ছাড়াও চোখের পাতায় অর্বুদে এই ঔষধ প্রয়োগ করিয়া অনেক রোগী আরগ্য হইয়াছে।
গ্র্যাফাইটিসঃ-শীত কাতর,কোষ্ঠবদ্ধতার ধাতুর রোগীর বর্ণ মোটা চামরার রোগীদের চোখের পাতায় টিউমারে ইহা অব্যর্থ।
পালসেটিলাঃ-নম্র প্রকৃতি স্নেহশীল,মেজাজ শান্ত,গরম কাতর,এই ধাতুর রোগী চোখের নিচের পাতায় অন্জনি হইবার পর ঐ স্হানটি ঢিবির মত হইয়া থাকিলে পালসেটিলা আরোগ্য করিতে পারে।
হেল্কা-লাভাঃ-ঘাড়ে বড় শক্ত গ্ল্যান্ড (টিউমার) হেল্কালাভা উপকারী।
রুটা ঃকব্জির টিউমারের জন্য এটি এক িগুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
থুজাঃ-কানের ভিতর টিউমার।নাকের ভিতর পলিপাস।শরীরের বিভিন্ন স্হানে টিউমার বা গ্ল্যান্ড থুজায় আরগ্য করিতে পারে।সাইকোটিক দোষযুক্ত রোগীতে থুজা অধিক ফলদায়ক।
টিউমারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের সংখ্যা অনেক।এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি ঔষধের সংক্ষিপ্ত লক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।টিউমার একটি জটিল রোগ এজন্য কোন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
মন্তব্য করুন