Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

হাতের পাঁচ আঙুল: আঙুলের নামকরণ বৃত্তান্ত
হাতের পাঁচ আঙুল: আঙুলের নামকরণ বৃত্তান্ত
ড. মোহাম্মদ আমীন
হাতের সব আঙুলের নাম নারীবাচক। একসময় সমাজে নারীরাই ছিল প্রধান। এটি তার একটি প্রমাণ। এজন্য নারী শব্দের আদি ও মূল অর্থ ছিল নেত্রী। হাতের সবচেয়ে মোটা আঙুলের নাম হচ্ছে বৃদ্ধা। এটাকে হাতের প্রধান আঙুল বলা হয়। বাকি চার আঙুল তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তাই বৃদ্ধাঙ্গুলকে আঙুল জাতির নেতা বলা হয়। তবে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল মোটা হলেও এর কোনো মূল্য নেই। নেতা যখন পায়ে নেমে যায় তার আর মূল্য থাকে কীভাবে?
বৃদ্ধাঙ্গুলের পর থেকে আঙুলগুলোর নাম যথাক্রমে (২) তর্জনী; (৩) মধ্যমা; (৪) অনামিকা এবং (৫) কনিষ্ঠা। নিচে আঙুলগুলোর নামকরণের কারণ দেওয়া হলো:
১. বৃদ্ধাঙ্গুলি
মানুষ ও প্রাইমেট বর্গের প্রাণীর স্থুল ও খর্বাকৃতি আঙুলকে বৃদ্ধাঙ্গুল (বৃদ্ধ+অঙ্গুলি= বৃদ্ধাঙ্গুলি) বলা হয়। এটি আঙ্গুল সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মোটা এবং অন্যান্য চার আঙুল থেকে একটু দূরে অবস্থান করে। কারণ এটি নেতা। তাই সাধারণ আঙুল থেকে তার অবস্থান একটু দূরে। অধিকন্তু, এই আঙ্গুলটি অন্য চার আঙুলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বৃদ্ধাঙ্গুল না থাকলে বা কাজ না করলে বাকি চার আঙুল প্রায় অকেজো হয়ে যায়। তাই তাকে বৃদ্ধাঙ্গুল বা প্রবীণাঙ্গুল বা নেতাঙ্গুল বলা হয়। অবশ্য বাকি চারটি আঙুল বৃদ্ধাঙ্গুলকে সহযোগিতা না করলে বৃদ্ধাঙ্গুল অকেজো হয়ে যায়। এখানে বোঝা যায় নেতা আর অনুসারীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত।
২. তর্জনী
তর্জন থেকে তর্জনী। বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার মাঝের আঙুলটির নাম তর্জনী। এটাকে শাসক আঙুলও বলা হয়। সে বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে ক্ষমতা এবং মধ্যমা থেকে পরামর্শ নিয়ে শাসন করে। আঙুলটির যেমন দৈহিক উপযোগিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভাষিক উপযোগিতা। কাউকে কলা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বুড়ো আঙুল কিন্তু কাউকে দেখে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় তর্জনী। তর্জনী নাড়ানোর ভঙ্গি দেখে মেজাজ বোঝা যায়।
বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার মাঝখানের আঙুল নেড়ে তর্জনগর্জন করা হয় বলেই এই আঙুলের নাম হয়েছে তর্জনী। তর্জনীর অবস্থান বৃদ্ধাঙ্গুল বা মুরুব্বি আঙুলের পাশে। তাই তার তেজ বেশি। বলা হয়, সূর্যের চেয়ে রোদের তাপ বেশি, নেতার চেয়ে পাতি নেতার তেজ বেশি। হাতের আঙুল ও মধ্যমার মধ্যবর্তী তর্জনী নেড়ে শাসানো হয়।স.তর্জ+অন+ঈ।মুজিব আমার মুক্তিদাতা রুদ্র অভিলাষ, তর্জনীতে গর্জে উঠে নতুন ইতিহাস (ড. মোহাম্মদ আমীন)।
মন্তব্য করুন