সহকারী শিক্ষক
০১ মার্চ, ২০২১ ০২:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন,” পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য।”
রাসূলে (সাঃ) ইরশাদ করেন,” উদরপূর্তি মূল রোগ, পরিহার করা মূল ঔষুধ। যে যে বিষয়ে শরীর অভ্যস্ত হয়, তারই অভ্যাস গড়ে তোলে।”
হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন,” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মৃত্যুর পরে যে বিদআতটি সর্বপ্রথম মাথাচারা দিয়ে উঠল তা হলো তা হলো মানুষ পেট পুরে খেতে শুরু করল। এতে তো তাদের নফস অবশ্যই দুনিয়ার দিকে ঝুকে পড়বে।”
উদর খাহেশাতের নর্দমা এবং বিপদের খনি। উদরপূর্তি হলে একাধিক স্ত্রী ও অত্যধিক সহবাসের বাসনা জাগ্রত হয়। এরপর অর্থ সম্পদ ও জাঁকজমকের দিকে মন ঝুকে পড়ে। এরই বদৌলতিতে রিয়া, পারস্পরিক গর্ব, অহংকার জন্মলাভ করে। ফলে হিংসা ও শত্রুতা সমাজে বিস্তার লাভ করে এবং সমাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
আর ক্ষুধার দ্বারা অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, স্বভাবে তীক্ষ্ণতা এবং অন্তদৃষ্টির পূর্ণতা হাসিল হয়। এর বিপরীতে তৃপ্তি মেধা নষ্ট করে দেয় এবং মস্তিষ্কে নেশার পৌছে চিন্তা ভাবনার জায়গাকে ঘিরে রাখে।ফলে অন্তর ভারী হয়ে চিন্তার দিকে ছুটে না এবং তাড়াতাড়ি বুঝে উঠতে পারে না। শিশুরা অধিক খেলে তাদের স্মরণ শক্তিতে ত্রুটি দেখা দেয়।
হযরত আবু সুলাইমান (রাঃ) বলেন,” ক্ষুধা অবলম্বন করা উচিত। এতে নফস অপমানিত হয় এবং অন্তর সূক্ষ্ম হয়ে আসমানী জ্ঞানের উপযুক্ত হয়।”
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেন,” তোমরা অন্তরকে কম হেসে পুনরুজ্জীবিত কর এবং ক্ষুধা দ্বারা পবিত্র কর। এতে তোমাদের অন্তর পরিষ্কার ও নরম হবে।”
হযরত ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,” যে পেট ভরে খাবার খায় ও নিদ্রা যায়, তার অন্তর কঠোর হয়ে যায়।” অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন,” প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে। শরীরের জাকাত হচ্ছে ক্ষুধা।”
সুন্নাহর আলোকে খাদ্যগ্রহণ ও কম খাওয়া:
এক হাদীসে মহানবী (সাঃ) বলেন,” তোমরা অধিক পানাহার দ্বারা অন্তরকে মেরে ফেলো না। অন্তর কৃষিক্ষেত্রের মত। তাতে বেশি পানি হলে ফসল বিনষ্ট হয়ে যায়।”
রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেন,” তোমরা ক্ষুধা ও পিপাসা দ্বারা নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ কর। এতে এরূপ সওয়াব, যেমন আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সওয়াব। আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষুধা পিপাসার চেয়ে বেশি প্রিয় কোন আমল নেই।”
আবু সায়ীদ খুদরীর বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) বলেন,” পশমী বস্ত্র পরিধান কর এবং আধাপেট খাও। এটা নবুওয়তের অংশ।”
হযরত হাসানের বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে একথা বলতে শুনেছেন,” তোমরা প্রতিনিয়ত জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়।” হযরত আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, জান্নাতের দরজায় কড়া কীভাবে দেব। তিনি বললেন,” ক্ষুধা ও পিপাসা দ্বারা।”
এক হাদীসে বলা হয়েছে,” মুমিন এক নাড়ী ভুঁড়িতে এবং কাফির সাত নাড়ি ভুঁড়িতে খায়।”
হাদীসে কুদসিতে বলা হয়েছে,” যে ব্যক্তির খাবার দুনিয়াতে কম, আল্লাহ তাকে নিয়ে গর্বভরে বলেন, আমি তাকে দুনিয়াতে খাবার কম দিয়েছি। সে সবর করেছে । তোমরা সাক্ষী থাক, যে এক লোকমা তার বিনিময়ে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করব।”
রাসূল (সাঃ) এর জীবনে কম খাদ্য গ্রহণের কিছু নিদর্শন:
হযরত হুযায়ফা (রাঃ) একবার রাসূল (সাঃ) এর দরবারে ঢেঁকুর তুললে তিনি বললেন,” অধিক ঢেঁকুর তুলো না। কারণ কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিই বেশি ক্ষুধার্ত হবে যে বেশি পেট ভরে খায়।”
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, একবার হযরত ফাতেমা (রাঃ) এক টুকরা রুটি রাসূল (সাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এটা কী? হযরত ফাতেমা (রাঃ) বললেন, আমি একটি রুটি তৈরি করেছিলাম। আমার মনে চাইল তাই এটুকরাটি আপনার জন্য এনেছি। রাসূল (সাঃ) টুকরাটি খেয়ে বললেন,” তিন দিন পর এই প্রথম তোমার পিতার মুখে আহার পৌছাল।”
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন,” রাসূলে কারীম (স) সারা জীবনে একবারও পরিবার পরিজনকে লাগাতার তিনদিন পেট ভরে গমের রুটি দেননি।
রাসূল (সাঃ) এক ব্যক্তির ভুঁড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, যদি এই পরিমাণ অপরের পেটে যেত, তবে তোমার জন্য মঙ্গলজনক হত। অর্থাৎ তুমি যদি আপন খাদ্য হ্রাস করে অপরকে খাওয়াতে তবে তা আখিরাতের জন্য সণ্চয় হত।
বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোক মাত্রেরই কাজ হল, উপবাস ও ক্ষুৎপিপাসা দ্বারা নফসের তাড়না ও কাম উত্তেজনাকে নির্মূল করে দেওয়া। কেননা শয়তানকে নিধনের জন্য ক্ষুধার সাধনাই হলো অন্যতম অস্ত্র। পাপিষ্ঠ শয়তান নফসের সাধ আহলাদ ও অতি ভোজনকে কেন্দ্র করে মানুষকে ধোকায় নিমজ্জিত করে থাকে। নবী করীম (সাঃ) বলেন-
“ শয়তান মানুষের শিরায় শিরায় রক্তের ন্যায় প্রবাহমান থাকে, কাজেই তোমরা শয়তানের এগতিপথ ক্ষুধার সাধনা দ্বারা বন্ধ করে দেও।”
রেফারেন্স গ্রন্থসমূহ:
১.এহইয়াউ উলুমিদদীন
২.মুকাশাফাতুল কুলূব।
৫৩
৯২ মন্তব্য