Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ মার্চ, ২০২১ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

শবে বরাতের ৮/১০টি সহি হাদিস দ্বারা প্রমানিত।

শবে বরাতের ৮/১০টি সহি হাদিস ঃ

অসংখ্য ছহীহ হাদীস শবে বরাত সম্পর্কে রয়েছে। তিরমিজি শরীফের প্রথম খন্ডের ১৫৬ পৃষ্ঠায় শুধু মাত্র হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটিকে জয়িক বা দুর্বল বলার চেষ্টা করেছেন-ইমাম তিরিমিজি এবং ইমাম বোখারী। হযরত আবু বকর (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটিকে ইমাম তিরিমিজি জয়িফ বা দুর্বল বলেন নি। সুনামে ইবনে মাজাহ ৯৯ পৃষ্ঠাতে ‘লাইলাতুন নিছফে মিন শাবান বা শবে বরাত সম্পর্কে ৪টি হাদিস রয়েছে-এ হাদিসের কিতাবে আবু মুসা আশয়ারী (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটিকে দুনিয়ার সকল হাদিস বিশারাদগণ সহীহ বলেছেন। প্রসিদ্ধ এই দুটি হাদিসের কিতাব ছাড়া অসংখ্য হাদিসের কিতাব যেমন ‘সহীহ ইবনে হাব্বান, বায়হাকী মুযনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল’ অসংখ্য হাদিসের কিতাবে তারা সহীহ হিসাবে অগনিত হাদিস লিপিবদ্ধ করেন। এ কথা বলা যায় যে, শবে বরাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস সমূহের ২/১টি হাদিসের বর্ণনাকারী জয়ীফ বা দুর্বল। শবে বরাত সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদিস নাই। যারা বলেন তাদেরকে তাওবা করতে হবে। কারণ পর্যালোচনা ও সমালোচনা ছাড়া আট দশটি হাদিস সকল হাদিস বিশারদের কাছে সহীহ বা বিশুদ্ধ। আর দেওবন্দ মাদ্রসার মুহাদ্দিস আনোয়ার শাহ কাশমিরি শবে বরাত সম্পর্কিত সকল হাদিসকে সহীহ বলেছেন। টীকা দেখনু ১৫৬পৃষ্টা তিরিমিজি শরীফ।


শবে বরাতের সহীহ হাদিস ঃ

১। সুনানে ইবনে মাজাহ ৯৯ পৃষ্ঠায় ‘নিছফে শাবান’ অধ্যায়ে ৪টি হাদিস আছে। একটি হাদিস উল্লেখ করছি যা আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত। আবু মুসু আশআরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুল (সঃ) বলেছেন আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তার দৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতিত সকলকে ক্ষমা করে দেন।


হাদিস পর্যালোচনা ঃ

১। এই হাদিসটি কে সকল হাদিস বিশারদ সহীহ বলেছেন। এই হাদিসটি ৮জন সাহাবী থেকে বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। ইমাম ইবনে হিব্বান তার হাদীস গ্রন্থ সহি ইবনে হিব্বান ১২/৪৮১ হাদিস নং-৫৬৬৫ এবং বাযযর আল মুসনাদ ১/১৫৭, আহমদ ইবনে হাম্বল, আল মুননাদ ২/১৭৬, ইমাম তাবরানী স্বীয় হাদিস গ্রন্থ আল মুজাম আল কবীর ও আল আওষাত গ্রন্থ দুটিতে এ হাদিসটি সংকলন করেন। তাছাড়া বায়হাকী শু’আবুল ঈমান ৩/৩৮১ নং হাদিস এবং ইবনু খুযায়মা, কিতাবুত তাওহীদ ১/৩২৫-৩২৬ নং হাদীস লিপিবদ্ধ আছে। হযরত আবু মুসা আশআরী বর্ণিত হাদিসটি একই ভাষায় সহীহ সনদে আটজন সাহাবী থেকে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।


শবে বরাতের অসংখ্য হাদিস সহীহ হওয়া সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিমত ঃ

১। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশমিরির অভিমতঃ

দেওবান্দ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশমিরি বলেন ‘হাজিহিল লাইলাতু লাইলাতুল বরাত, ওয়া ছাহহার রেওয়াত ফি ফজলে লাইলাতুল বরাত। ওয়া আমমা মা জুকেরা আরবাবুল কুতুব মিনায যিয়াফে ওয়াল মুনকেরাত ফালা আছলা লাহা” অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত হলো লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত এবং লাইলাতুল বরাত সম্পর্কে কিছু কিছু আলেমরা যে বলেছেন তা জয়ীফ এবং মুনকার হাদিস। তার কোন ভিত্তি নাই। বরং শবে বরাতের সকল হাদিস সহীহ। (তিরিমিজি শরীফের ১৫৬ পৃষ্ঠার টিকা)।


বিশারদগণ সহীহ বলেছেন তারা হলেন- ১। হযরত আবু বক্কর, ২। আবু মুছা আশআরি, ৩। আবদুল্লাহ ইবনে আমর, ৪। মুয়াজ বিন জাবাল, ৫। আবু হুরাইরা (রাঃ), ৬। আবু সা’লাবা, ৭। আউফ ইবনে মালিক, ৮। হযরত ওসমান বিন আবিল আস, ৯। আউফ বিন মালেক প্রমূখ সাহাবীগণ।

Yes

নবীজির পবিত্র জবান মোবারকের কথা কখনই দুর্বল হতে পারেনা | আর জেনে রাখুন কোনো বাক্তি যদি হাদিসকে জইফ বলে ফতুয়া দেন সেই বাক্তির কমপক্ষে ৫০০০০ হাদিস সনদ সহ মুখস্থ থাকতে হবে | তাই সবাই হাদিসকে জইফ বলার যোগ্যতা রাখেন না | এখন আপনারাই চিন্তা করেন কেউ যদি হাদিসকে জইফ বলে ফতুয়া দেয় সেটা কি গ্রহণযোগ্য হবে ? যে বেচারা মাদ্রাসার বারান্দায় যেতে পারেনি সে আসে জইফ হাদিসের ফতুয়া দিতে ? এটাকে পাগল না মুর্খ না গাধা বলবেন আপনারা ?


বুখারী , মুসলিম , তিরমিজী , মিশকাত , আবু দাউদ ও নাসাই শরীফের মত আরো কমপক্ষে ৫০ টির অধিক সহি হাদিসের কিতাব রয়েছে | আপনাদের খেদমতে সেই কিতাবগুলার তালিকা নিচে পেশ করলাম :

(১) সহীহ্ ইবনে খোযায়মা,

(২) সহীহ্ ইবনে হাব্বান,

(৩)সহীহ্ ইবনে ওয়ায়না,

(৪)সহীহ্ ইবনুস সাকান,

(৫)সহীহ্ মোন্তাকা,

(৬) মুখতাসারেজিয়াহ্,

(৭)সহীহ্ জুরকানী,

(৮)সহীহ্ ইসফেহানী,

(৯) সহীহ্ ইসমাঈলী,

(১০) মোস্তাদরেক ইবনে হাকিম,

(১১) মসনদেইমাম আযম,

(১২) মুওয়াত্তায়ে ইমামমালেক,

(১৩) মুওয়াত্তায়ে ইমাম মুহম্মদ,

(১৪) কিতাবুল আছার,

(১৫) কিতাবুল খেরাজ,

(১৬) কিতাবুল হেজাজ,

(১৭) কিতাবুল আ’মালী,

(১৮) মসনদে শাফেয়ী,

(১৯) মসনদে আবূ ইয়ালী,

(২০) মসনদে আব্দুর রাজ্জাক,

(২১) মোছান্নেফে আবূ বকর ইবনে আবী শায়বা,

(২২) মসনদে আবদ ইবনে হুমায়েদ,

(২৩) মসনদে আবূ দাউদ তায়লাসী,

(২৪) সুনানে দারে কুতনী,

(২৫) সুনানে দারেমী,

(২৬) সুনানে বায়হাক্বী,

(২৭) মা’রেফাতু সুনানে বায়হাক্বী,

(২৮) মা’য়ানিয়ূল আছার-তাহাবী,

(২৯) মুশফিক্বিয়ুল আছার-তাহাবী,

(৩০) মু’জামুল কবীর-তিবরানী,

(৩১) মু’জামুল আওসাত-তিবরানী,

(৩২) মু’জামুস সগীর-তিবরানী,

(৩৩) কিতাবুল ই’তিকাদ্,

(৩৪) কিতাবুদ্ দোয়া,

(৩৫) মসনদে হারেস ইবনে উমামা,

(৩৬) মসনদে বাজ্জাজ,

(৩৭) সুনানে আবী মুসলিম,

(৩৮) সুনানে সাঈদ বিন মনছুর,

(৩৯) শরহুস্ সুন্নাহ,

(৪০) শেফা,

(৪১) হুলইয়া,

(৪২) তাহযীবুল আছার ও

(৪৩) আল মুখাতারা


ঈমাম বুখারীর সংগ্রহে ছিল প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ হাদিস | তিনি বলেন তার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ হাদিস ছিল সনদ সহ সহি | কিন্তু তিনি যে বুখারী শরীফ সংকলন করেছেন সেখানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার সহি হাদিস সংকলিত হয়েছে | সেই সাড়ে ৭ হাজার হাদিসে অনেক হাদীসই বিভিন্ন অধ্যায়ে বারবার এসেছে | সুতরাং এখানেও সর্বমোট হাদিস থেকে অনেক হাদিস কমে যায় | এখন আপনাদের বিবেক নামক আদালতের কাছে আমার প্রশ্ন ঈমাম বুখারীর বাকি ৯৩০০০ বা তারও বেশি সহি হাদিস গেল কোথায় ? সিয়াহ সিত্তাহর সব হাদিস যোগ করলেও বাকি ৭৫০০০ হাদিস গেল কোথায় ?

মন্তব্য করুন

ব্লগ