Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ মার্চ, ২০২১ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

রুকুকারীর বৈজ্ঞানিক উপকারিতা ঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

আর সালাত কায়েম করো, যাকাত দান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো। [সূরাহ আল-বাকারাহ (২):৪২]

রুকুর বৈজ্ঞানিক  উপকারিতা

১. অগ্ন্যাশয়ে চাপ পড়ায় অগ্ন্যাশয় সুস্থ ও সবল থাকে।যার ফলে বহুমূত্র রোগ হতে পারে না, যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন তারা রুকু বেশি বেশি করলে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. এতে পেটে চাপ পড়ায় পেটে চর্বি জমতে পারে না।

৩. স্নায়ুর মধ্যে নিউরোন সুস্থ সাবলীল থাকে যার ফলে যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৪.সায়াটিকা রোগ প্রতিরোধ করবে।

৫. যারা নিম্নরক্তচাপে ভোগেন তারা রুকু করলে উপকার পাবে।

৬. কোমরে সরাসরি চাপ পড়ে বলে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না।

৭. যারা লম্বা হতে চান ২৪ বছরের পূর্ব পর্যন্ত ছেলে মেয়েরা বেশি বেশি রুকু করলে উচ্চতা বেড়ে যায়।

৮. সঠিকভাবে রুকু করলে হাত, পা, বুক, ও পিঠের গঠন সুন্দর হয়।

৯.পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আজীর্ণ রোগ হবে না।

১০.সঠিকভাবে রুকু করলে পেনক্রিয়াজে চাপ পড়ে বলে পেনক্রিয়াজ সচল হয়, ইনসিলিনের উৎপাদন বাড়ে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,

“জামা’আতের সাথে সালাত আদায় করলে ঘর বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়। কারণ, তোমাদের কেউ যদি ভালো করে উযু করে কেবল সালাতের উদ্দেশেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার এক একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তাকে সালাতেই গণ্য করা হয়। আর সালাত শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে, ততক্ষণ মালাকগণ (ফেরেশতাগণ) তার জন্যে এ বলে দু’আ করেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন।’ যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, উযু ভেঙে যাওয়ার কোনো কাজ সেখানে না করে। (সহীহ বুখারি; আধুনিক প্রকাশনী, ৪৫৭; ইসলামী ফাউন্ডেশন, ৪৬৩)

হে আমার ভাই, আপনি বুঝতে পারছেন কত বড় নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাসায় সালাত আদায় করে? আপনার ক্ষমার জন্য ফিরিশতাগণ দু’আ করুন, এটা আপনি চান না? ফিরিশতার দু’আ আপনার আমার সবার জন্য খুব বেশি দরকার। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেন,

তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফিরিশতারাও তোমাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে, যাতে তিনি অন্ধকার হতে তোমাদেরকে আলোকে আনয়ন করেন। আর তিনি বিশ্বাসীদের প্রতি পরম দয়ালু। [সূরাহ আল-আহযাব (৩৩):৪৩]

উপরের আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ এবং ফিরিশতাদের দু’আর কারণেই মানুষ হিদায়াত পায়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,আর সালাত কায়েম করো, যাকাত দান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো। [সূরাহ আল-বাকারাহ (২):৪২]

ইমাম ইবনে কাসির উপরোক্ত আয়াতের শেষাংশের “রুকুকারীদের সাথে রুকু করো” এর তাফসীরে বলেন, এর অর্থ এই যে তারা যেন ভালো কাজে মুমিনদের সাথে অংশগ্রহণ করে। আর ওই কাজগুলোর মধ্যে সালাতই হল সর্বোত্তম। এই আয়াত দ্বারা অধিকাংশ ইমাম জামা’আতের সাথে সালাত ফরয হওয়ার দলিল গ্রহণ করেছেন (পুরুষদের জন্য)। সুতরাং, আমরা যারা নানা কাজের ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে জামা’আতে সালাত আদায় থেকে বিরত আছি, তাদের কি সময় হয়নি প্রভুর অনুগ্রহে শামিল হওয়ার? ল্লাহ আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামা’আতের সাথে আদায় করার তাওফিক দিন।

 আমিন।

[email protected]

মন্তব্য করুন

ব্লগ