Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ মার্চ, ২০২১ ০১:০০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

শেয়ার বাজার এমন একটি স্থান যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি) স্টক একচেঞ্জে যাদের নিবন্ধিত তাদের শেয়ার বেচা কেনা করা হয়। একে পুঁজিবাজারও বলা হয়। একটি স্টক মার্কেট বা ইক্যুইটি বাজার কোম্পানির স্টক (শেয়ার) এবং একটি সম্মত মূল্যে ডেরিভেটিভস’র ট্রেডিং জন্য একটি সার্বজনীন সত্বা বা অর্থনৈতিক লেনদেনের একটি শিথিল নেটওয়ার্ক।


এক কথায় বলা যায়, কোন কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার প্রাথমিক মূলধনকে কতগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সাধারন জনগনের কাছে বিক্রি করে, এই ছোট অংশগুলোকে এক একটি শেয়ার বলে। যেখানে এই শেয়ার কেনা-বেচা হয় তাকে শেয়ারবাজার বলে। আমাদের দেশে দুটি শেয়ার বাজার আছে। একটির নাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপরটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।


এবার আসি বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের ইতিহাস প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে শেয়ার বাজার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৫২ সালের প্রথম দিকে। যখন কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জে পাকিস্তানের সকল শেয়ার এবং সিকিউরিটিজ লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন প্রাদেশিক শিল্প উপদেষ্টা পরিষদের তত্বাবধায়নে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্টক মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ১৯৫৩ সালের ১৩ই মার্চ শেয়ার মার্কেট বিষয়ক এই কমিটির দ্বিতীয় মিটিংয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মিটিং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বানিজ্য সচিব মি. এ খালিলির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।


যদিও এর আগে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার করাচী স্টক এক্সচেঞ্জের শাখা ঢাকায় খোলার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কমিটি এই বিষয়টি বিবেচনা করার মত কারন খুজে পায়নি এবং বাতিল করে দেয়। সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, পূর্ব পাকিস্তানে একটি স্বাধীন ও নিজস্ব স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হবে।


কমিটি আরও সিদ্ধান্ত নেয় যে, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্যদের ভারতীয় মুদ্রায় ২ হাজার রুপিতে সদস্যপদ ক্রয় করার জন্য বলা হবে। যাতে এ অর্থ দিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা যায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ অথবা চট্টগ্রামকে লোকেশন হিসেবে ধরা হয়।


সে সময় মি. মির্জা স্পাহানির নেতৃত্বে প্রাদেশিক (পূর্ব পাকিস্তান) ক্ষমতাবান শিল্প ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক কমিটি করা হয়, যাতে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার কাজ ভাল ভাবে সম্পন্ন করা যায়। আগের সদস্যপদ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী চেম্বার তার সদস্যদের বিষয়টি জানায়।


পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালের ৭ জুলাই এক মিটিংয়ে ১০০ জন সদস্য স্টক এক্সচেঞ্জ শুরুর ব্যাপারে রাজি হয়। এ মিটিংয়ে মি. মির্জা স্পাহানিকে আহবায়ক করে ৮ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির কাজ ছিল মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস, রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা; যা ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী করা হয়েছিল।


১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ এসোসিয়েশন লিমিটেড শুরু করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। ১৯৫৬ সালে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশে প্রথম শেয়ার ট্রেডিং শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকার মতিজিলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার বিল্ডিংয়ে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৫৯ সালে বর্তমান (৯/এফ মতিঝিল-সি/এ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নিজস্ব ভবনে সকল কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৯৬২ সালের ২৩ জুন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তর করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ রাখা হয়। ১৯৬৪ সালের ১৫ মে পুনরায় নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ করা হয়।


১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের কারনে শেয়ার ট্রেডিং পাঁচ বছর বন্ধ ছিল, যা ১৯৭৬ সালে আবার পুনরায় শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অটোমেটেড ট্রেডিং সূচনা করা হয়। যা শুরু করা হয়েছে ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে।


বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য সংখ্যা : ২৫০ টি


লিস্টেড কোম্পানি : বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংক, বিমা, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বন্ডসহ ২২ খাতের ৫৫৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এরমধ্যে ২২১ টি ট্রেজারি বন্ড রয়েছে।

মন্তব্য করুন