সহকারী শিক্ষক
২৬ মার্চ, ২০২১ ০২:২৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে বড় ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। কত বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মুক্ত জন্মভূমিতে স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দে উল্লসিত হয়েছেন, কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে শামিল হতে পারেননি।
১৯৭১ সালের লাখ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন স্বাধীনতার বেদীমূলে! তারা তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছিলেন আমাদের ভবিষ্যৎ রচনা জন্য। ত্রিশ লাখ শহিদ কয়েক লাখ মা-বোন তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এই স্বাধীনতার জন্য।
১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো আজ আমাদের মতো প্রবীণদের স্মৃতির জানালা খুলে দিয়েছে। পেছন ফিরে তাকালে কোটি কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশার ছবি ভেসে ওঠে। আপন জন্মভূমি মৃত্যুগুহা হিসেবে দেখতে বাধ্য হওয়া অগণিত মানুষের অশ্রু আর রক্তের মর্মস্পর্শী সেই ঘটনাপ্রবাহ স্মৃতিকে আপ্লুত করে দেয়।
১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন থেকে শুরু করে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে বিজয় থেকে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় পর্যন্ত অনন্য ঘটনাপ্রবাহ চোখের সামনে ভেসে উঠছে আজ। মনে হয় যেন সেদিনের ঘটনা! অথচ ৫০ বছর অতিক্রান্ত!
পাকিস্তান নামক ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক আর সামরিক শাসনে রাষ্ট্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দুর্বার আকাঙ্ক্ষায় বাংলার মানুষের নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ ২৩ বছর যে কঠিন ত্যাগ স্বীকার আর প্রাণপণ সাহসী সংগ্রাম সেই সংগ্রামের স্মৃতি আজ আমাদের চেতনায় হয়ে দেদীপ্যমান উঠছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সেদিনের যুবনেতা শেখ মুজিব বুঝে ফেলেছিলেন পাকিস্তানের অধীনে থাকা স্বাধীনতায় বাংলার মানুষের মুক্তি মিলবে না। তাই বলতে গেলে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলার মানুষের ওপর আঘাত আসার পর থেকে স্বাধিকারের সংগ্রাম এসে উপনীত হয় একাত্তরের সংগ্রামে।
১৯৬৬ সালেই বঙ্গবন্ধু চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করেছিলেন স্বাধীনতার গন্তব্যে যাওয়ার। সেই সব ইতিহাস আজ সর্বজনবিদিত। স্বাধীনতার ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তী আর স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও পূর্ণ হলো চলতি বছরের এই মার্চেই।
তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ মহিমায় এবারের স্বাধীনতা দিবস অনন্য ঐশ্বর্যে ভাস্বর। আজ শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবী অভিনন্দিত করছে বাংলাদেশকে তার অনন্য এই দুটি চিরস্মরণীয় উৎসবকে ঘিরে। করনা মহামারির কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত ১০ দিনের এই সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ-পূর্তি অনুষ্ঠান মালায় বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সশরীরে যোগদান করতে পারেননি কিন্তু বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে।।
৫
৫ মন্তব্য