Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:৩০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের ক্রিকেট উত্তান পর্ব

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্মৃতিচারণ; সাফল্য ও ব্যর্থতা

 

একটি স্পোর্টসের সবচেয়ে সম্মানজনক স্থান হচ্ছে, সেই স্পোর্টসের সবচেয়ে বড় মঞ্চটি। অর্থাৎ স্পোর্টসটির সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টটি। কোন একটি দেশ বা দল যখন, সেই জায়গাটিতে নিজেদের নামফলক এঁকে দিতে পারে, তখন সেটি সেই দল বা সেই দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়। স্পোর্টসটি যখন ক্রিকেট, আর দেশটি যখন বাংলাদেশ- তখন বিষয়টি আরও বেশি আবেগপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বলছিলাম বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপের খেরোখাতা নিয়ে। একটি দেশ প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যখন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেদের আসীন করে নেয়, তখন সে জাতির আবেগের মূল্য থাকে।

১৯৭৫ সালে প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ডে। বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠিত হয়েছে মাত্র এর তিন বছর আগে, ১৯৭২ সালে। স্বাধীনতার পর পর ক্রিকেট বোর্ড বা এধরনের জিনিসগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেছে অনেকেই। আজকের বিসিবি সেইসময় বন্ধই হতে বসেছিল, একমুখী বিরোধের কারণে। ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এজন্য কোন ধরণের আলাপচারিতা হয়ে ওঠেনি।

আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণ করতে করতে ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আইসিসি ট্রফির ফাইনালে কেনিয়াকে দুই উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমেই আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপের সপ্তম আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষতো বটেই, সেই সময়ে ক্রিকেটের সাথে জড়িত সকল ব্যাক্তিবর্গের জন্য দিনগুলি ছিল বড় আনন্দের, উচ্ছ্বাসের। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট অর্জন করে একটি নতুন মাত্রা। আর এর সাথে বাংলাদেশে ক্রিকেটের জন্য শুরু হয় একটি নতুন যাত্রাও। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সেই সময় দিন গুনত ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই। দিন গুনত বাংলাদেশের প্রতিটা দর্শক, প্রতিটা মানুষ।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্মৃতিচারণ; সাফল্য ও ব্যর্থতা্ খোঁজার একটু চেষ্টা করেছেন মইন হাসান

১৪ মে, ১৯৯৯ সাল

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সপ্তম আসর আয়োজন করে ইংল্যান্ড। এতে অংশগ্রহণ করে মোট ১২ টি দল। মোট ম্যাচ হয় ৪২ টি। নয়টি পূর্ন সদস্যের দলের সাথে তিনটি সহযোগী দল নিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যায়। তিনটি সহযোগী দলের একটি বাংলাদেশ- যারা প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশগ্র‍হণ করছে। আরেকটি দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে সেবার, দলটি স্কটল্যান্ড। তারাও বাংলাদেশের মতো কোয়ালিফাই করে এসেছে। রাউন্ড রবিন ও নকআউট ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নবাগত স্কটল্যান্ডের সাথে বি গ্রুপে ছিল টিম বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ; ১৯৯৯

প্রথম বিশ্বকাপ খেলার স্বাভাবিক উন্মাদনা নিয়েই টিম বাংলাদেশ ইংল্যান্ডে পৌঁছে। বাংলাদেশের জন্য প্রথম বিশ্বকাপ। টিম সিলেকশন বা অন্যান্য অফিশিয়াল বিষয়াদি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ছিল সেসময়ে। আতাহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুসহ বেশ কিছু ক্রিকেটার সেসময়ে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন। শুরুতে বাদ পড়া মিনহাজুল নান্নুকে পরবর্তীতে অনেকটা চাপের মুখে পড়েই দলে নিতে বাধ্য হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। এভাবেই নানারকম আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ স্কোয়াড তৈরি হয়।   

১৯৯৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডঃ

আমিনুল ইসলাম (অধিনায়ক), আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু,ফারুক আহমেদ, এনামুল হক, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ রফিক, হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, শফিউদ্দিন বাবু, নিয়ামুল রশিদ, নাইমুর রহমান দুর্জয়, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ও মেহরাব হোসেন অপি। 

১৭ মে, ১৯৯৯ সাল

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ, বিপক্ষ দল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৭.৪ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বলার মতো স্কোর করতে পারেননি কোন ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেছিলেন এনামুল হক। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং করতে এসে ৩৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রফিক ও নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট তুলে নেন। এবং দিনশেষে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে নিজেদের জয় তুলে নেয়। আর টিম বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই হারের স্বাদ পায়।

প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ

টিম বাংলাদেশ তাদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে। এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল তাদের। স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বসে একটু বিমর্ষই ছিল টিম বাংলাদেশ। কিন্ত নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তাদের মতোই নব্য এবং নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা স্কটল্যান্ডকে সেদিন পরাজিত করে বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।  সেদিন বাংলাদেশ শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে ৯ উইকেট হারিয়ে, ৫০ ওভার শেষে। সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ৪৬.২ ওভারে ১৬৩ রানে নিজেদের ইনিংস গুটিয়ে ফেলে। হাসিবুল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম,খালেদ মাহমুদ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেয়ে বাংলাদেশ দল বেশ চনমনে মেজাজেই ছিল। এরপর বাংলাদেশের চতুর্থ ম্যাচ ছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে টিম বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৫০ ওভারে মাত্র ১৭৮ রান। ৫৩ রান করে এদিনও সর্বোচ্চ রান মিনহাজুল আবেদীন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৯.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া জয়ের দাঁড় প্রান্ত ছুয়ে ফেলে। বাংলাদেশ মোটামুটি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় সেদিন। কিন্ত বিশ্বকাপের নতুন দল হিসেবে তখনও নাটকীয়তা বাকি রেখেছিল বাংলাদেশ।

৩১ মে, ১৯৯৯ সাল

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সাইদ আনোয়ার, শোয়েব আক্তারদের নিয়ে গড়া ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল তখন পাকিস্তান। তার বিপরীতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা নব্য দল বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আকরাম খানের ৪২, শাহরিয়ার হোসেনের ৩৯ এরকম সবার ছোট ছোট সংগ্রহে ৫০ ওভার শেষে ২২৩ রান সংগ্রহ করে নেয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। দলীয় ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এরপর নিয়মিত উইকেট বিরতিতে ১৬১ রানে যেয়ে থামে তাদের ইনিংস। মিনহাজুল আবেদীন, খালেদ মাহমুদ, নাইমুর রহমান দুর্জয় প্রত্যেকেই নেন দুটি করে উইকেট। আর টিম বাংলাদেশ পায় তাদের প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় জয়।

এদিন পুরো বাংলাদেশে আনন্দ বয়ে যায়, অন্যরকম ভাললাগার আনন্দ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় যেন জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। ইংল্যান্ডের কাউন্টি গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামের দর্শকদের বাঁধভাঙা উল্লাস নজর কেড়েছে সবার। শেষ উইকেট পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে দর্শকরা যেভাবে ছুটে গিয়েছেন মাঠে, সেটি আজও চকচকে স্মৃতি হয়ে আছে দেশের ক্রিকেটে। এদিন ইংল্যান্ডে  ইতিহাসই রচনা করে ফেলেছিল টিম বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অপ্রাপ্তির বিশ্বকাপ; ২০০৩

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অষ্টম আসর বসে ২০০৩ সালে। প্রথমবারের মতো আফ্রিকায় আয়োজিত হয়েছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের কাছে সবারই প্রত্যাশা ছিল কম-বেশি। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশ ততদিনে আন্তর্জাতিক এরিয়ায় নিয়মিত দল হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডটি ছিল এরকমঃ

খালেদ মাসুদ (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক), অলক কাপালি, আল শাহরিয়ার রোকন, এহসানুল হক, হাবিবুল বাশার, হান্নান সরকার, খালেদ মাহমুদ, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ রফিক, সানোয়ার হোসেন, তালহা জুবায়ের, তাপশ বৈশ্য, তুষার ইমরান ও মাশরাফি বিন মতুর্জা।

প্রায় অধিকাংশ নতুন মুখ নিয়ে সাজানো স্কোয়াডটি নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। আকরাম খানকে বাদ দিয়ে স্কোয়াড সাজানো হয়েছিল, যেটি নিয়েও কথা হয়েছে কম বেশি। কিন্ত কিছুতেই কিছু আসে যায়নি বাংলাদেশ দলের। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে পুরো দল থেকে শুরু করে দেশের মানুষ সকলই সেবার আশাহত হয়েছিল। রাউন্ড রবিন পদ্ধতির টুর্নামেন্টে পুল বি তে ছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচ ছিল অনভিজ্ঞ কানাডা দলের বিপক্ষে। যারা ১৯৭৯ সালের পর আর কোন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সেই দলের বিপক্ষে ৬০ রানে হেরে বসে বাংলাদেশ।

এরপর একে একে গ্রুপের অন্যান্য দল শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কেনিয়ার সাথেও হেরে বসে বাংলাদেশ। মাঝখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ তাদের ৬ টি ম্যাচের ৫ টি হেরে যায়, আর একটি হয় পরিত্যক্ত। বাংলাদেশ দলের অবস্থা তখন শোচনীয়। গ্রুপ স্টেজের তলানিতে থেকে সেবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। যার ফলে, বাংলাদেশ কোন সুখস্মৃতির দেখা পায়নি ২০০৩ বিশ্বকাপে। যা ছিল, তা শুধুই আক্ষেপের।

বাংলাদেশের স্মরণীয় বিশ্বকাপ; ২০০৭

বিশ্বকাপের নবম আসর, ১৬ দল, ৫১ ম্যাচ নিয়ে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে বসে ক্যারিবিয়ানদের ওয়েস্ট ইন্ডিজে। স্কোয়াডের প্রায় ১০ জন নতুন সদস্য, যারা কিনা এর আগে বিশ্বকাপ খেলেনি, তাদের নিয়ে এবং অভিজ্ঞ ৫ জন নিয়ে ২০০৭ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। সেবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যান একসাথে বর্তমানের তিন কান্ডারী; সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল।

বাংলাদেশের স্কোয়াডঃ


হাবিবুল বাশার (অধিনায়ক), শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুর রাজ্জাক, আফতাব আহমেদ, জাভেদ ওমর বেলিম, মাশরাফি বিন মতুর্জা,  মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ রফিক, মুশফিকুর রহিম, রাজিন সালেহ, শাহাদাৎ হোসেন, সাকিব আল হাসান, সৈয়দ রাসেল, তামিম ইকবাল ও তাপস বৈশ্য।

এ, বি, সি, ডি মোট চার গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয় ১৬ টি দলকে। বাংলাদেশ চলে যায় গ্রুপ বি তে। যেখানে তাদের অন্যান্য প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বারমুডা। বি গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল ১৭ মার্চ, কুইন্স পার্ক ওভালে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। ভারতের অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মোটামুটি ধাক্কা খেয়ে বসে ভারত।

মাশরাফির বলে এজ হয়ে ফিরে যান বিরেন্দর শেবাগ। মাত্র ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। এরপর দলীয় ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট এবং দলীয় ৪০ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে বসে টিম ইন্ডিয়া। এরপর সৌরভ গাঙ্গুলি ও যুবরাজ সিং কিছুটা চেষ্টা করেন দলকে টেনে তুলতে। কিন্ত খুব বেশিদূর যাওয়া হয়ে ওঠেনা ভারতের, ১৯১ রানেই অলআউট হয়ে যেতে হয়। এদিন মাশরফি একাই নেন ৪ উইকেট। আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ রফিক নেন ৩ টি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের দেখা পায় টিম বাংলাদেশ। এদিন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা তামিম ইকবাল ৫৭, মুশফিকুর রহিম ৫৬ ও সাকিব আল হাসান ৫৩ রান করে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। সেবার ভারতকে হারিয়ে ইতিহাসই ঘটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ভারতকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সাথে হারলেও, বারমুডাকে পরাজিত করে সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলে।

সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০ উইকেটে সেদিন হেরে যায় বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় টিম বাংলাদেশ। পরপর দুই ম্যাচে এরকম শোচনীয় হারে স্বাভাবিকভাবেই টিমের অবস্থা হতাশাজনক ছিল।

পরের ম্যাচ ছিল প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন কিছু ভাবার কথানা সেসময়ে। কিন্ত সেই বাংলাদেশ সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছিল নিজেদের সামর্থ্য। টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আশরাফুলের ৮৭, তামিম ইকবালের ৩৮, আফতাব আহমেদের ৩৫ রানের উপর ভর করে ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২৫১ রান করতে সক্ষম হয়। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনা। হার্শেল গিবসের ৫৬ রানে নট আউট আর জ্যাক ক্যালিসের ৩২ রান। এছাড়া বলার মতো স্কোর করতে পারেনি কেউ। ফলে ১৮৪ রানেই অল আউট হয়ে যায় সাউথ আফ্রিকা। বাংলাদেশের পক্ষে আব্দুর রাজ্জাক একাই নেন তিন উইকেট।

পরপর দুই ম্যাচের শোচনীয় হারের পর সুপার এইটে বাংলাদেশের প্রথম জয়, তাও আবার দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে। বাংলাদেশের জন্য এটা ছিল দারুণ আনন্দের এবং নতুন ইতিহাসের। ইংল্যান্ড,  আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরবর্তী তিন ম্যাচের তিনটিই হেরে ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইট স্টেজ থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। আর এরসাথেই কিছু মধুর প্রাপ্তি, কিছুটা অপ্রাপ্তি নিয়েই ২০০৭ বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে বাংলাদেশ।

আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ; ২০১১

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১০ম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশের দুটি ভেন্যুতে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ভেন্যু দুটি ছিল শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর ও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম।

টুর্নামেন্ট শুরু হবার দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। রাউন্ড রবিন পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে মোট ১৪ দল অংশগ্রহণ করে। মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ৪৯ টি। ২০১১ বিশ্বকাপের থিমসং ‘দে ঘুমাকে’ বা ‘মার ঘুরিয়ে’’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দুটি গ্রুপে ১৪ টি দলকে ভাগ করা হয় এবং বাংলাদেশ অবস্থান করে গ্রুপ বি তে।

নতুন পুরনো সবকিছু মিলিয়ে মিশিয়ে বাংলাদেশের স্কোয়াডটি ছিল এরকমঃ

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুর রাজ্জাক, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, নাইম ইসলাম, নাজমুল হোসেন, রকিবুল হাসান, রুবেল হোসেন, সোহরাওয়ার্দি শুভ ও শফিউল ইসলাম।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ঃ

উদ্বোধনী ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২৭ হাজার সিট সেদিন লোকে লোকারণ্য ছিল। নিজেদের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ, প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ ২০০৭ বিশ্বকাপে ইতিহাস সৃষ্টি করে হারিয়ে দেওয়া সেই ভারত। বাংলাদেশ টসে জয়লাভ করে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। টিম ইন্ডিয়া শুরুতে ব্যাটিং করে বিশাল এক টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে।

৩৭১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ খুব যে খারাপ করে তা না। বেশ ভালভাবে শুরু করলেও,বেশিদূর আগাতে পারেনি তারা। তামিম, সাকিবের অর্ধশতক। জুনায়েদ, ইমরুলের ৩০+ ইনিংসও বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত জেতাতে পারেনি। ৫০ ওভার শেষে ২৮৩ রানে থামে বাংলাদেশের আশা জাগানো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের হার নিয়েই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ।

এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের সাথে জিতে যায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি খুব বাজেভাবেই  হেরে বসে বাংলাদেশ। সেদিন বাংলাদেশ তাদের সর্বনিম্ন ওয়ানডে টোটাল ৫৮ রান করে অলআউট হয়ে যায়।

পরের তিন ম্যাচ ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে। নেদারল্যান্ডসের সাথে তো বটেই, ইংল্যান্ডের সাথেও ঐতিহাসিক জয় পেয়ে বসে সেবার বাংলাদেশ। বাজেভাবে হারতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৮ রানে অলআউট হবার লজ্জা না কাটতেই, আবার দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ৭৮ রানে অলআউট হয়ে হতাশাজনকভাবে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

১১ মার্চ, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ বেশ ভালোই শুরু করে কিন্ত মিডল অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয়ে শেষ ভাল নিয়ে শঙ্কা ছিল যথেষ্ট। সেই সময় যেন দূত হয়ে আবির্ভাব হলেন শফিউল ইসলাম। দলের যখন ৮ উইকেট চলে গেছে,তখন শফিউল ইসলাম খেললেন ২৪ বলে ২৪ রানের এক ঐতিহাসিক ইনিংস।

অপর প্রান্তে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পেলেন ভরসা। আর বাংলাদেশ দল পেল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের ঐতিহাসিক এক জয়, যা কিনা বিশ্বকাপের মঞ্চে, নিজেদের মাটিতে। এভাবেই গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের নিজেদের মাটিতে হওয়া প্রথম বিশ্বকাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সমান পয়েন্ট থাকলেও, নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরের পর্ব নিশ্চিত করে। আর বাংলাদেশকে থেমে থাকতে হয় গ্রুপ স্টেজেই।

সৌভাগ্য-দূর্ভাগ্যের বিশ্বকাপ; ২০১৫

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আইসিসি কর্তৃক  একাদশতম ক্রিকেট বিশ্বকাপ। রাউন্ড রবিন-নক আউট পদ্ধতির এই বিশ্বকাপে মোট ১৪ দল অংশগ্রহণ করে। মোট ম্যাচ হয় ৪৯ টি। ২০১৫ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে। অস্ট্রেলিয়ায় মোট ২৬ টি ও নিউজিল্যান্ডে মোট ২৩ টি খেলা আয়োজিত হয়।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডঃ

মাশরাফি বিন মতুর্জা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান ও আরাফাত সানি।

১৪ দলের এই বিশ্বকাপে, এ ও বি দু’টি গ্রুপে প্রতিটি দলকে ভাগ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ অবস্থান করে গ্রুপ এ তে।

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি, বিপক্ষ আফগানিস্তান। বাংলাদেশ শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২৬৭ রান সংগ্রহ করে, ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে। জবাবে আফগানিস্তান ব্যাট করতে নেমে ১৬২ রানেই নিজেদের সব উইকেট হারিয়ে বসে। ফলাফল বাংলাদেশ তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১০৫ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয় লাভ করে।

এরপরের ম্যাচ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্ত বৃষ্টির কারণে সে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। ফলে উভয় দল ১ টি করে পয়েন্ট ভাগ করে নেয়। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ৩৩৩ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৭ ওভার খেলে ২৪০ রানেই অল আউট হয়ে যায়। ফলাফল বাংলাদেশ পরাজিত।

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ছিল পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ থেকে দূর্বল প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের সাথে। তথাকথিত দূর্বল প্রতিপক্ষ হলেও শুরুতে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ৩১৯ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোভাবেই এই রান ডিফেন্ড করে। তামিম ব্যাক্তিগত ৯৫ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক, সাকিব পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন। ফলে ৪৮.১ বল হতেই বাংলাদেশ তাদের কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়ে যায়।

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এদিন শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের একটি ইতিহাসও রচিত হয় এইদিনে। প্রথম কোন বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই তামিম যেখানে ৯৫ করে আউট হয়ে আশাহত করেছিলেন। মাহমুদউল্লাহ যেন সেদিন সেই আয়োজনটাই নিজের করে নিলেন। ১০৩ করে রান আউট হয়ে ফেরেন এদিন মাহমুদউল্লাহ।

২৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে,সহজ খেলাকে মোটামুটি জটিল করে ফেলে ইংল্যান্ড। রুবেল হোসেনের অসাধারণ বোলিং তোপ সাথে, টোটাল টিম এফোর্টের ফলে ২৬০ রানেই অল আউট হয়ে যায় তারা। ফলাফল বাংলাদেশ ১৫ রানে জয়ী।

বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় আরেক স্বাগতিক দেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ড সেদিন তিন উইকেটে জিতে গেলেও,বাংলাদেশ বেশ দারুণ খেলেছিল মাঠে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া মাহমুদউল্লাহ সেদিনও ১২৮ রান করে নট আউট ছিলেন। বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৯ রানের টার্গেট নিউজিল্যান্ড ৪৮.৫ ওভারেই পেরিয়ে যায়। ফলে ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলে, তিন জয় ও দুই পরাজয় নিয়ে পরের পর্বে কোয়ালিফাই করে টিম বাংলাদেশ। আর পরের পর্বে (কোয়ার্টার ফাইনাল) বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা দেয় ভারত।

১৯ মার্চ, ২০১৫

ভারত বনাম বাংলাদেশের মধ্যেকার কোয়ার্টার ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৩০২ রানের একটি ভাল সংগ্রহ দাঁড় করে। রোহিত শর্মা একাই করেন ১৩৭ রান। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনা। ৩৩ রানেই প্রথম দুইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। এরপর মাঠের অভ্যন্তরীণ  বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশের পক্ষে সেদিন কিছুই ছিলনা। ফলাফল ১৯৩ রানে অল আউট হয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। এবং নক আউট পর্বের ম্যাচে, এখান থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হয় বাংলাদেশের।

সেদিনের সেই ম্যাচ নিয়ে পরে বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন যুক্তি-তর্ক হয়েছে। সে যাইহোক, ২০১৫ বিশ্বকাপ বিভিন্নভাবে যেমন বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্য হিসেবে ছিল আবার বিভিন্ন ছোট ছোট কারণে এটি দুর্ভাগ্যেরও বিশ্বকাপ। তবে বাংলাদেশের আলাদা শক্তির জায়গা তৈরী হয় এই ১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই। যার ধারাবাহিকতার ছোঁয়ায় আজও হেঁটে চলেছি আমরা। আমাদের দল, আমাদের বাংলাদেশ।

আবারো দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি বিশ্বকাপ। ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ২০১৯। বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই একটি শক্তির জায়গা থেকেই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপের স্কোয়াডও ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। আমরাও অপেক্ষায় আছি,আশায় আছি বাংলাদেশকে নিয়ে। অপেক্ষাটা ভাল কিছুর। ভাল কিছুটা পূর্নতা পাক,ততক্ষণ পর্যন্ত শুভকামনা টিম বাংলাদেশ।      

ছবিঃ ক্রিকেট৯৭

নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। মে মাসের শেষ সপ্তাহে আসর বসবে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে। ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে বিসিবি। নেতৃত্বে যথারীতি অদ্বিতীয় মাশরাফি বিন মর্তুজা, ডেপুটির দায়িত্ব সামলাবেন সাকিব আল হাসান। স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও চেনাজানা মুখের ভিড়ে চমক ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আবু জায়েদ রাহি।

আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে গত বিশ্বকাপে এই সাফল্য ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। এমনিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রদর্শনী একেবারে খারাপ নয়! ২০০৩-এ সাউথ আফ্রিকা আসরে কোনো জয় মেলেনি কেবল।

তাছাড়া ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যেয়েই পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসে লাল-সবুজরা। সেবার দুই জয় নিয়ে ফেরে। অন্য তিন বিশ্বকাপের প্রত্যেকটিতে তিনটি করে জয়। ইংল্যান্ডকে দুবার-সহ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর অভিজ্ঞতাও আছে। সবমিলিয়ে বিশ্ব আসরে ৩২ ম্যাচ খেলে ১১ জয়ের পিঠে ১৯ হার ও ফলহীন দুটি ম্যাচের পরিসংখ্যান টাইগারদের নামের পাশে।

আসছে বিশ্বকাপে জয়ের পাল্লাটা আরও ভারী করার প্রত্যয় নিয়ে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপ থেকে পাল্টে যাওয়া দল, আর অন্যরকম ক্রিকেট খেলার যে যাত্রা শুরু করেছিল টাইগাররা, সে পথ ধরে সাফল্য রেখাটা ঊর্ধ্বগামী হয়েছে দিনকে দিন।

অবশ্য চড়াই-উতরাইও দেখতে হয়েছে অনেক। এরপরও সময়টাতে নিধাস ট্রফির ফাইনাল, এশিয়া কাপের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা নিজেদের উচ্চতাটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়সহ জায়ান্ট প্রতিপক্ষদের মাঝেমধ্যেই হারানোর স্মৃতিও সঙ্গী হবে।

বিশ্বকাপের মঞ্চ অবশ্য সেসব থেকে ভিন্ন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে বড় পরীক্ষাই দিতে হবে মাশরাফি-তামিমদের। প্রত্যাশার পারদও থাকবে আকাশচুম্বী। বলতে গেলে নিজেদের ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ দল নিয়েই ইংল্যান্ডের বিমানে চাপবে বাংলাদেশ। তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে নিজেদের দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ফেলার মতো এক দল। টাইগারপ্রেমীদের স্বপ্নের ভেলায় ভাসানোর মতো এক দল।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল: তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবু জায়েদ রাহী।

 

মন্তব্য করুন