Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ১২:০৫ অপরাহ্ণ

সমকামিতা একটি মানসিক বিকার যা অধিকাংশ সময় মুখোশের অন্ত:রালে থেকে যায়।
ইসলামী আইন অনুযায়ী সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সব অধিকার মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনা। ইসলাম প্রদত্ত অধিকার এর উপর কে বেশী অধিকার দিতে পারে ? মুখোশ নয়, চোখ যেন আল্লার ভয়ে নত থাকে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়েছে, যার অন্তর্গত বিবাহ, দত্তক গ্রহণ ও সন্তানপালন, কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার, সামরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবায় সমানাধিকার, এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সমকামীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যান্টি-বুলিং আইন।

সমকামিতা (হোমোসেক্সুয়ালিটি) বা সমপ্রেম বলতে সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি "রোমান্টিক আকর্ষণ, যৌন আকর্ষণ অথবা যৌন আচরণ"কে বোঝায়। যৌন অভিমুখীতা হিসেবে সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি "আবেগীয়, রোমান্টিক ও/বা যৌন আকর্ষণের একটি স্থায়ী কাঠামোবিন্যাস"।

সমকামিতা (হোমোসেক্সুয়ালিটি) বা সমপ্রেম[১] বলতে সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি "রোমান্টিক আকর্ষণ, যৌন আকর্ষণ অথবা যৌন আচরণ"কে বোঝায়। যৌন অভিমুখীতা হিসেবে সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি "আবেগীয়, রোমান্টিক ও/বা যৌন আকর্ষণের একটি স্থায়ী কাঠামোবিন্যাস"। এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কোনো সম্প্রদায়কেও এই শব্দটি দ্বারা নির্দেশ করা হয়।"[২][৩]

উভকামিতা ও বিপরীতকামিতার সাথে সমকামিতা বিপরীতকামী-সমকামী অনবচ্ছেদের অন্তর্গত যৌন অভিমুখীতার তিনটি প্রধান ভাগের অন্যতম বলে স্বীকৃত।[২] বিজ্ঞানীরা সমকামিতার প্রকৃত কারণ জানেন না, কিন্তু তারা তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করেন যে, জিনগত, হরমোনগত এবং পরিবেশগত কারণসমূহের এক জটিল আন্তঃক্রিয়ার ফলে এটি ঘটে থাকে[৪][৫][৬] তারা জীববিদ্যা-নির্ভর তত্ত্বগুলোকে বেশি সমর্থন করে থাকেন,[৪] এর অন্তর্গত হল জিন, মাতৃগর্ভের পরিবেশ, এই দুই প্রভাবের মেলবন্ধন অথবা এই সব কিছুর সাথে সামাজিক প্রভাবের মেলবন্ধন।[৭][৮] যৌন অভিমুখীতা নির্ধারণে যে সন্তানপালন বা শৈশবের অভিজ্ঞতার কোনো ভূমিকা আছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[৭] কেউ কেউ সমকামী যৌন আচরণকে অপ্রাকৃতিক মনে করলেও[৯] বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমকামিতা মানব যৌনতার একটি সাধারণ ও প্রাকৃতিক প্রকরণ, এবং অন্য কোনো প্রভাবকের অস্তিত্ব ছাড়া এটি কোনো নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না।[২][১০] যৌন অভিমুখীতা পরিবর্তনের বিভিন্ন কর্মসূচীর কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।[১১]

মহিলা সমকামীদের বোঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দটি হল লেসবিয়ান এবং পুরুষ সমকামীদের ক্ষেত্রে গে, যদিও গে কথাটি প্রায়শ সমকামী মহিলা ও পুরুষ উভয়কে বোঝাতেও সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। নানা কারণে স্বঘোষিত সমকামীর সংখ্যা এবং মোট জনসংখ্যার মধ্যে সমলৈঙ্গিক সম্পর্কে আবদ্ধ মানুষের অনুপাত নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হল সমকামভীতি ও বিপরীতকামবাদের সমর্থনজনিত বৈষম্যের কারণে অনেক সমকামী প্রকাশ্যে তাদের যৌনতা স্বীকার না করা।[১২] অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও সমকামী আচরণের নিদর্শন নথিভুক্ত হয়েছে।[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]

অনেক সমকামী মানুষ স্থায়ী পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ আছেন, যদিও আদমশুমারির ফর্ম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির আনুকূল্যে তাদের আত্মপ্রকাশের পথ নিরাপদ হয়েছে একেবারে সাম্প্রতিক কালে।[১৮] মূল মনস্তাত্ত্বিক গঠনের দিক দিয়ে এই সম্পর্কগুলো বিপরীতকামী সম্পর্কের সমান।[১৯] নথিভুক্ত ইতিহাস জুড়ে সমকামী সম্পর্ক এবং কার্যকলাপের প্রশস্তি ও নিন্দা - উভয়েরই নিদর্শন মেলে; কেবল প্রকাশের ভঙ্গিমা ও সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিজনিত তারতম্য দেখা যায়।[২০] ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়েছে, যার অন্তর্গত বিবাহ, দত্তক গ্রহণ ও সন্তানপালন, কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার, সামরিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবায় সমানাধিকার, এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সমকামীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যান্টি-বুলিং আইন। তথ্যসূত্র----উইকিপিডিয়া
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মত উপমহাদেশীয় রাষ্ট্র গুলোতে সমকামীদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা এবং হুমকি পরিদর্শিত হয়। ভারতের আদালত ২০১৮ সালে সমকামিতাকে আইনি স্বীকৃতি দিলেও সমকামী সম্পর্কে জড়াতে গেলে পরিবার থেকে বাধা আসে। হুমকির শিকার হয় তারা।[১৬২] বাংলাদেশে সমকামীদের অবস্থা ভারতের চেয়ে করুণ। ২০১৬ সালে ঢাকায় সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে হত্যার পর থেকে বাংলাদেশে সমকামীরা নিজেদের আরো লুকিয়ে ফেলেন।[১৬৩] পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারা অনুসারে বাংলাদেশে সমকামীতা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।[১৬৪] ২০১৭ সালে ঢাকার কেরানিগঞ্জ থেকে ২৭ জন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র সমকামী হবার জন্য গ্রেফতার করা হয়।[১৬৫] রাষ্ট্রীয়ভাবে অসহযোগীতা এবং সামাজিকভাবে প্রত্যাখান হবার ভয়ে তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখেন এবং দ্বৈত জীবনযাপনে বাধ্য হন[১৬৩][১৬৬] এছাড়াও তারা দেশটিতে বিভিন্ন সময় তাদের যৌম অভিমুখিতার জন্য অনলাইন ফাঁদের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।[১৬৭] পাকিস্তানেও সমকামী সম্প্রদায়কে খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। সমলিঙ্গের মানুষ একসাথে থাকতে চাইলে তাদের যৌন অভিরুচি গোপন করে তবেই থাকতে হয়।[১৬৮]
মন্তব্য করুন