Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০১:৪১ অপরাহ্ণ

জীবনের পূর্ণতা ধৈর্যধারণে... ধৈর্য আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ নিয়ামত।

ঈমানদার ব্যক্তির অন্যতম একটি গুণ হলো সবর বা ধৈর্য। সবরের বিনিময়ে মুমিন দুনিয়াতে যেমন অনেক সুফল লাভ করে তেমনি পরকালেও আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের অধিকারী হবে। হাদিসে এসেছে, হজরত সুহাইব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মুমিনের বিষয় বড়ই আশ্চর্যজনক। তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর; মুমিন ছাড়া আর কারও এই বৈশিষ্ট্য নেই। সে যখন আনন্দদায়ক কিছু লাভ করে তখন শোকর করে, আর শোকর তার জন্য কল্যাণের বিষয়। যখন কষ্টদায়ক কোনো কিছুর সম্মুখীন হয় তখন সে সবর করে, আর সবরও তার জন্য কল্যাণের বিষয়।’ (মুসলিম : ২৯৯৯)
দুনিয়াতে সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনা সবার জীবনেই আসে। কিন্তু এই আনন্দ ও কষ্টের মাধ্যমেও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করা ওই সব মুমিনের ভাগ্যেই জোটে, যারা আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে গভীর ও দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তারা যদি দুঃখ-বেদনা, বিপদ ও দুর্দশায় আপতিত হয় তখন তারা আল্লাহর দরবারে দাসত্বের পূর্ণ শান ও মহিমা নিয়ে সবর করে। এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহরই ইচ্ছায় এই দুঃখ বেদনা, এই বিপদ ও দুর্দশা আমার ওপর এসেছে। আল্লাহই পারেন তা দূর করে দিতে।
ধৈর্যশীল ব্যক্তিরাই চ‚ড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম। আর মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি যে সব অপছন্দনীয় বিষয়বলী ও দুঃখ দুর্দশা পৌঁছে তার ওপর দৃঢ় মনোবল প্রদর্শনই হচ্ছে ধৈর্যের মূলকথা। ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মাজিদে বলেছেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা কর এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক। আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা আলে ইমরান : ২০০)
ধৈর্য ধারণকারীর সফলতা সুনিশ্চিত। কারণ আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত। কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।’ (সুরা বাকারা : ১৫৩)
ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সফলতার সুসংবাদ। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। আপনি শুভ সংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৭)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিপদে এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তায়ালা তার বিপদ দূর করবেন এবং তার যা ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
কোনো ব্যক্তি যদি উপরোক্ত অর্থে ধৈর্য অবলম্বন করে তবে তার জীবনে পূর্ণতা ও সফলতা অনস্বীকার্য। কারণ, প্রথমত অন্যায় ও অপরাধ তথা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, সব প্রকার অকল্যাণ ও গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। দ্বিতীয়ত ইবাদত ও সৎকর্ম সম্পাদন করা সফলতার একমাত্র সোপান। তৃতীয়ত প্রতিক‚লতায় দৃঢ়পদ থাকা লক্ষ্যে পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম। সুতরাং পরিপূর্ণ ধৈর্যই মানব জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে। তাই আমাদের উচিত হলো সব ধরনের বিপদে ধৈর্যধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
মন্তব্য করুন