Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ মে, ২০২১ ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

জাম (ইংরেজি: Java plum, Jambul, Malabar plum), বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium cumini, Myrtaceae পরিবারভুক্ত একটি ফল। জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত

জাম


জাম
Syzygium cumini
Syzygium cumini Bra30.png
জাম গাছ (Syzygium cumini)
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ:উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন):সপুষ্পক উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন):য়ুদিকটস
(শ্রেণীবিহীন):রোজিডস
বর্গ:মির্টালেস
পরিবার:মির্টাসিয়া
গণ:সিজিজিয়াম
প্রজাতি:এস. ক্যুমিনি
দ্বিপদী নাম
সিজিজিয়াম ক্যুমিনি
(L.) Skeels.
প্রতিশব্দ[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
  • Eugenia cumini (L.) Druce
  • Eugenia jambolana Lam.
  • Syzygium jambolanum DC.

জাম (ইংরেজিJava plum, Jambul, Malabar plum), বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium cumini, Myrtaceae পরিবারভুক্ত একটি ফল। জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত, যেমন- জাম্বুল, জাম্ভুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম এবং কানাড়া ভাষায় নেরালে হান্নু। ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট। [১]

বিবরণ[সম্পাদনা]

এটি দেখতে ১ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার লম্বা, প্রায় আয়তাকার। গাছ ১৪ থেকে ৬০ ফুট বা এর বেশিও লম্বা হতে পারে। পাতা সরল, বড়, চামড়া পুরু এবং চকচকে। গাছ চির সবুজ। চকচকে পাতা এবং চিরসবুজ হবার কারণে এর আলংকরিক মান বেশ ভালো।

জাম গাছে মার্চ এপ্রিলে ফুল আসে। জামের ফুল ছোট এবং ঘ্রানওয়ালা। মে জুন মাসে ফল বড় হয়। ফলটি লম্বাটে ডিম্বাকার। শুরুতে এটি সবুজ থাকে যা পরে গোলাপী হয় এবং পাকলে কালো বা কালচে বেগুনি হয়ে যায়। এটি খেলে জিহ্বা বেগুনি হয়ে যায়।

বিস্তার[সম্পাদনা]

জাম ভারতবর্ষ থেকে সারা দুনিয়াতে ছড়িয়েছে এবং বর্তমানে এটি সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে বেশ দেখা যায়। [২] বাংলাদেশে প্রধানত দুই জাতের জাম পাওয়া জায়। জাতগুলি হলো ক্ষুদি- খুব ছোট জাত এবং মহিষে- বেশ বড় ও মিষ্টি। এটি বর্ষাকালে পাওয়া যায়। ফলের গা কালো এবং খুব মসৃণ পাতলা আবরণ দিয়ে ঢাকা। ফলের বহিরাবরণের ঠিক নিচ থেকেই গাঢ় গোলাপী রংয়ের টক মিষ্টি শাস।

পুষ্টিমান ও রাসায়নিক উপাদান[সম্পাদনা]

জাম (NDB NO:09145)
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি২৫১ কিজু (৬০ kcal)
15.56 g
0.23 g
0.72 g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ3 IU
থায়ামিন (বি)
(1%)
0.006 mg
রিবোফ্লাভিন (বি)
(1%)
0.012 mg
ন্যায়েসেন (বি)
(2%)
0.260 mg
(3%)
0.160 mg
ভিটামিন বি
(3%)
0.038 mg
ভিটামিন সি
(17%)
14.3 mg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(2%)
19 mg
লোহা
(1%)
0.19 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(4%)
15 mg
ফসফরাস
(2%)
17 mg
পটাশিয়াম
(2%)
79 mg
সোডিয়াম
(1%)
14 mg
অন্যান্য উপাদানসমূহ
পানি83.13 g
Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database

জাম পাতার উপাদান নিচের ছকে দেয়া হলো।

জাম পাতা
CompoundPercent
আমিষ9.1
স্নেহ4.3
আঁশ17.0
ছাই7
ক্যালসিয়াম1.3
ফসফরাস0.19
Source: http://www.hort.purdue.edu/newcrop/morton/jambolan.html

ব্যবহার[সম্পাদনা]

জামের প্রধান ব্যবহার খাদ্য হিসেবে। টক মিষ্টি সুস্বাদু এই ফলটি বেশ জনপ্রিয়। কবিরাজী বা হেকিমী চিকিৎসায় এর কিছু ব্যবহার আছে; বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষইন্দোনেশিয়া এবং চীন-এ জামের ব্যবহার হয়ে আসছে। জামের বীজ দিয়ে নানান রোগের আয়ুর্বেদী চিকিৎসা করা হয়, যেমন বহুমুত্র। [৩][৪]) ইউনানী এবং চৈনিক চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার আছে। হজমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, মাড়ির প্রদাহ ইত্যাদি রোগে জামের বীজ, ছাল ও পাতা ব্যবহৃত হয়। জাম থেকে মদ ও সিরকা তৈরি করা যায়। জামে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি আছে। [৫][৬][৭]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

মন্তব্য করুন