প্রভাষক
২৯ মে, ২০২১ ০২:২৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে বজ্রপাত খুব পরিচিত, সুন্দর, রহস্যময় এবং একই সাথে আতঙ্কের। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান মাত্রার স্ফুলিঙ্গ আর ভয়াবহ গর্জন বহুকাল ধরেই মানুষের পিলে চমকানোর কাজটি দায়িত্বের সাথে পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাত বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। একই সঙ্গে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। বজ্রপাতের সৌন্দর্যের এই ভয়ালরূপের পাশাপাশি আমাদের মনে কত রহস্যের জন্ম দেয়, তাই না?
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ চমকায় কেন?
বজ্রপাত এর সময় বাতাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। আমরা জানি বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী। কিন্তু মেঘে জমা হওয়া স্থির বিদ্যুৎ এত উচ্চ বিভব শক্তি (১০ মিলিয়ন ভোল্ট পর্যন্ত) উৎপন্ন করে যে, তা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার জন্য বাতাসের একটা সরু চ্যানেলকে আয়নিত করে পরিবাহী পথ (conductive path) তৈরি করে। আয়নিত পরমাণু বিকীর্ণ শক্তি থেকে তীব্র আলোকচ্ছটা তৈরি হয়। মনে হয় যেন আকাশ চৌচির হয়ে আলো নেমে আসছে।
বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন হয় কেন?
ডিসচার্জ হওয়ার সময় বাতাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, একে বলা হয়। এ সময় বাতাসের যে চ্যানেলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তার তাপমাত্রা প্রায় ২৭০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (যা সূর্যের তাপমাত্রা থেকে বেশি) এ উন্নীত হয় এবং বাতাসের চাপ স্বাভাবিক চাপ থেকে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ চাপ এবং তাপমাত্রায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ। এত কম সময়ে তাপমাত্রা ও চাপের এত ব্যাপক পরিবর্তন চারপাশের বায়ুমণ্ডলকে প্রচণ্ড গতিতে (বিস্ফোরণের মত) সম্প্রসারিত করে। এর ফলে যে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয় সেটাই আমরা শুনতে পাই।
বজ্রপাত হলে কেন আলো আর শব্দ একসংগে শোনা যায় না?
বজ্র পাতের ক্ষেত্রে আলো কোনো বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে আসে না। বজ্রই আলো উৎপাদন করে আর সেই আলো সোজা আমাদের চোখে এসে পড়ে। তখন আমরা বাজের ঝলক দেখতে পাই।
অন্যদিকে শব্দ তরঙ্গ মানুষের কানের ভেতর দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কের এক বিশেষ পর্দায় আঘাত হানে। তখন মস্তিষ্কের সেই পর্দায় কম্পন সৃষ্টি হয়। সেই কম্পনকেই আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।
এখন আলোর সাথে শব্দের তুলনা করা যাক। আলোর বেগ সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার। আর শব্দের বেগ বাতাসে সেকেন্ডে প্রায় ৩৩২ মিটার বা ০.৩৩২ কিলোমিটার মাত্র। অর্থ্যাৎ আলোর বেগ শব্দের বেগের প্রায় নয় লক্ষ গুণ। মেঘ সাধারণত মাটি থেকে ২ থেকে ৫ কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করে। সেজন্য এই দূরত্ব অতিক্রম করে বজ্রপাতে আলো আমরা তাৎক্ষণিক দেখি এবং সৃষ্ট শব্দে শুনতে প্রায় ৯ সেকেন্ড সময় লেগে যায়। তাই বাজ্রপাতের আলো আর কান ফাটানো আওয়াজ একসাথে দেখা ও শোনা যায় না।
৫
৫ মন্তব্য