Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২১ ০৩:২৯ অপরাহ্ণ

শিশুর মানসিক স্বচ্ছতা ও সুস্থতা তৈরিতে পরিবার হোক নির্ভরতার জায়গা।

বর্তমান সময়টা আমরা খুব অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে পার করছি। সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সময়টাতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে উঠছে। করনাকালিন সময়ে শিশুরা ঘরবন্দি হয়ে আছে।ওরা পারছেনা বিদ্যালয়ে যেতে,পারছেনা খেলাধুলা করতে বাইরে যেতে।শহরের শিশুরাতো একদম চার দেয়ালে বন্দি।ফলে একঘেয়েমি জীবনে শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাচ্ছে। শিশুদের শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারে আমরা যতটা সচেতন ঠিক ততটাই উদাসীন শিশুর মানসিক সুস্থতার ব্যাপারে। আমরা অনেক বাবা মা জানিই না যে শিশুদের মানসিক সুস্থতা বলে কোন বিষয় আছে। কোন কোন বাবা মা আবার শিশুর উপর নিজেদের চাওয়াগুলো জোর করে চাপিয়ে দেয়। শিশুদের আবার পছন্দ অপছন্দ কি? এ কথায় তারা বিশ্বাসী। কোন কোন বাবা মা শিশুর সামরথের কথা না বিবেচনা করেই তার কাছে প্রতাশা করেন এবং প্রত্যাশা পুরনের জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। তারা এটা কখনো ভাবেনা যে সব শিশু এক নয়,তাদের ক্ষমতাও এক নয়। কেউ হয়তো ইংরেজিতে ভাল কেউ ভাল বাংলায়।কেউ আবার ছবি আঁকায় দক্ষ,কেউ খেলায়।কোন শিশু ভালো গান গাইতে পারে কোন  শিশু নাচ বা আবৃতি। যে শিশুর মাঝে যে প্রতিভা রয়েছে সেটাকে চর্চা করা উচিত। অন্য একজন যেটা পারে সেটা আপনার শিশুকে পারতে হবে এমন কোন কথা নাই।।আপনার শিশুর যে যোগ্যতা রয়েছে তাতেই তাকে দক্ষ করে তুলুন।

আমাদের দেশের অনেক মেয়ে  শিশুই ছেলে শিশুর মত সুযোগ পায়না।পরিবারের মধ্যেই প্রথম অবহেলার স্বীকার হয় ওরা। আর এ সকল কারনে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। শিশুরা জিদ করে,কথা শুনতে চায় না,হতাশা এবং হীনমন্যতায় ভোগে।শিশুরা মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ না পেলে আমাদের সামনের সময় খুব খারাপ হবে। আজকের শিশুই আগামীতে দেশ চালাবে।তাই ওদের সুস্থ মানসিকতার বিকাশ হওয়া খুব দরকার। এই সময়টাতে আমদের সকলের উচিত পরিবারের শিশুদের সময় দেওয়া ,ওদের কথা বা মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা। শিশুদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা। যেমনঃ ছবি আকা, কবিতা বা গল্পের বই পড়তে দেওয়া। শিশুদের সাথে নিয়ে আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারি, বাড়ির পাশের ছোট জায়গাটাতে সব্জি,ফুল বা ফলের বাগান করতে পারি। এতে করে শিশুর একঘেয়েমিতা দূর হবে, শিশু মোবাইল ফোনের গেমস এর প্রতি কম আসক্ত হবে। যাদের সুযোগ আছে তারা সাইকেল চালাতে,সাতার কাটতে পারে। আমাদের পরিবারে বড়দের উচিত শিশুদের মানসিক সাস্থের দিকে খেয়াল রাখা এবং যত্নবান হওয়া। এক একটি পরিবার হয়ে উঠুক শিশুদের মানসিক স্বচ্ছতা ও সুস্থতা তৈরির  নির্ভরতার জায়গা।

মন্তব্য করুন