গুলঞ্চ লতার উপকার, ব্যবহার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ডোজ: -
গুলঞ্চ (Guduchi and Giloy) এটি এক প্রকার লতানো গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tinospora sinensis।
এই গাছটি অন্য গাছের ওপরে বেয়ে ওঠা লতানো গাছ।
তবে অনেক দিনের পুরনো হলে তা লাঠির মত মোটা হয়।
কান্ডের উপরিভাগ খসখসে ফাটল যুক্ত।
বিস্কুট রং এর চামড়া।
পাতা পানপাতার মত হৃদয় আকৃতির এবং লম্বা বোটা যুক্ত।
লম্বা সুতার মত অসংখ্য বায়ুবীয় মূল যা ঝুলন্ত কান্ড থেকে মাটি পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই গাছে গ্রীষ্মকালে ফুল ফোটে এবং শীতকালে ফল পাকে।
সাধারণত দু রকম গাছ দেখা যায়।
যার ডাটায় সাধারণত পদ্ম কাঁটার মত কাঁটা থাকে এবং পাতা কোমল রেশম বস্তের মত তাকে পদ্ম গুলঞ্চ বলে।
আর যার পাতা মসৃন ও উজ্জ্বল, স্বাদ সামান্য তেতো, তাকে ঘোড়া গুলঞ্চ বলে।
এই গাছ শ্রীলংকা, চীন, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়।
এই গাছ ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
★ রাসায়নিক উপাদান :-----
এর লতায় রয়েছে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ যেমনঃ-----
জিঙ্ক,
ম্যাঙ্গানিজ,
ফ্লোরিন,
ক্যালশিয়াম,
টাইটানিয়াম,
ক্রমিয়াম,
আয়রন,
কোবাল্ট,
নিকেল,
কপার,
ব্রমিন,
ষ্ট্রোনশিয়াম এবং
পটাশিয়াম।
যা স্নায়ুবিক শক্তিবৃদ্ধি, হেমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে এবং হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্তি বৃদ্ধি করে।
এছাড়া এ গাছের রস বেশ তেতো বলে এর মধ্যে আছে
এন্টি-অকসিডেন্ট,
এন্টিহাইপার গ্লাইসেমিক,
এন্টি- নিওপ্লাসটিক,
এন্টিডোট,
এন্টি-প্লাসমোডিক,
এন্টি-হাইপারটিক,
এন্টি-এলার্জিক,
এন্টি-ইনফ্লামেটরি,
এন্টিহাইপার লাই পেডেমিয়া,
এন্টি-এষ্ট্রেস সমৃদ্ধ গুনাবলী।
গুলঞ্চে আছে
আশঁ (১৫ - ১৯%),
প্রোটিন (৩.১%) এবং
প্রতি ১০০ গ্রামে ২৯২.৫৪ ক্যালরি পুষ্টি শক্তি।
★ গিলয় (গুলঞ্চ) বা টিনোস্পোরা হচ্ছে একটি পর্ণমোচী উদ্ভিদ যা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বহুলভাবে জন্মায়।
প্রশমণের গুণ এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানের জন্য আয়ুর্বেদিক এবং ঘরোয়া চিকিৎসায় এটির কদর অসামান্য।
বস্তুত, স্বাস্থ্যের সার্বিক উপকারিতার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার জন্য আয়ুর্বেদে এটিকে ‘‘রসায়ন’’ নামে অভিহিত করা হয়।
শুনলে আপনি আগ্রহী হয়ে উঠবেন যে সংস্কৃতে এটিকে ‘‘অমৃত’’ বলা হয়েছে, যার অর্থ ‘‘অমরত্বসুধা’’।
এই উদ্ভিদের অসাধারণ গুণের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়, পুরাণে ‘‘দেবতারা’’ যা পান করে চিরকালীন যৌবন এবং স্বাস্থ্যের অধিকারী হতেন বলে বর্ণিত আছে, তা হয়তো ছিল এই গুলঞ্চ বা গিলয়।
★ গুলঞ্চ হচ্ছে একটি লতানে উদ্ভিদ, যার কাণ্ড দুর্বল এবং রসালো। কাণ্ডের রং হচ্ছে সাদা থেকে ধূসর এবং তা 1-5 সেমি পর্যন্ত মোটা হতে পারে।
গুলঞ্চের পাতা দেখতে হৃদয়ের (হার্ট) আকারের এবং তাতে মেমব্রেন (ঝিল্লি) আছে। তাতে গ্রীষ্মকালে সবজেটে-হলুদ রঙের ফুল ফোটে আর গুলঞ্চের ফল সাধারণত শীতকালে দেখা যায়।
গুলঞ্চের সবুজ রঙের আঁটিযুক্ত ফল (ড্রুপ) হয়ে থাকে যা পাকলে লাল বর্ণ ধারণ করে।
গুলঞ্চের কাণ্ডেই অধিকাংশ নিরাময়যোগ্য গুণ আছে, তবে পাতা, ফল, এবং শিকড় বা মূলেও অল্পবিস্তর গুণ আছে।
★ গুলঞ্চের কিছু প্রাথমিক তথ্য:-----
বৈজ্ঞানিক নাম: টিনোস্পোরা কর্ডিফোলিয়া
পরিবার: মেনিসপার্মেসিয়া
সাধারণ নাম: গিলয়, গুড়ুচি, গুলবেল, হার্ট-লিভড মুনসিড, টিনোস্পোরা
সংস্কৃত নাম :: অমৃত, তন্ত্রিকা, কুণ্ডলিনী, চক্রলক্ষ্মীণি
ব্যবহৃত অংশ: কাণ্ড, পাতা
আদিতে কোথায় উদ্ভূত এবং ভৌগৌলিক বণ্টন: আদিতে ভারতীয় উপমহাদেশে পাওয়া যেত গুলঞ্চ লতা কিন্তু চিনেও পাওয়া যায়।
বলকারী: উষ্ণ
(আলোচ্য বিষয়ের তথসূত্র সমূহ)
★ গুলঞ্চের স্বাস্থ্য- উপকারিতা - Giloy benefits for health in Bengali
★ গুলঞ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় - Giloy boosts immunity in Bengali
★ ডেঙ্গুর জন্য গুলঞ্চ - Giloy for Dengue in Bengali
★ ডায়বিটিসের জন্য গুলঞ্চ - Giloy for diabetes in Bengali
★ গুলঞ্চ কীভাবে ব্যবহার করা হয় - How giloy is used in Bengali
★ গুলঞ্চ ডোজ - Giloy dosage in Bengali
★ গুলঞ্চ ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Giloy side effects in Bengali
★ গুলঞ্চের স্বাস্থ্য- উপকারিতা - Giloy benefits for health in Bengali------
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে গুলঞ্চ একটি পরিচিত গুল্ম। গুলঞ্চের কাণ্ড শুধুমাত্র নিরাময়ের একটি চমৎকার এজেন্ট নয়, কিন্তু রাসায়নিকভাবে এটি আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যাতে ঠিকভাবে এবং তাদের সম্পূর্ণ শক্তি-সহ কাজ করে তা নিশ্চিত করে।
এই আয়ুর্বেদিক মহৌষধের স্বাস্থ্যের উপকারিতা একবার দেখে নেওয়া যাক।
★ ওজন কমাতে গুলঞ্চ:-----
গুলঞ্চ হাইপোলিপিডেমিক হিসাবে কাজ করে বলে নিয়মিত সেবন করলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে চমৎকার কাজ দেয়। শরীরের পরিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে এবং যক্কৃৎ রক্ষা করে।
★ জ্বরের জন্য গুলঞ্চ:-----
গুলঞ্চ ইমিউনোমডিউলেটরি প্রক্রিয়া করে এবং তার অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান আছে। ডেঙ্গু জ্বরের মতো জীবাণুর সংক্রমণের হাত থেকে এটি রক্ষা করে।
★ ডায়বিটিসের জন্য গুলঞ্চ:------
ইনসুলিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয় বলে ডায়বিটিসের ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী হয়।
★ শ্বাসকষ্ট রুখতে গুলঞ্চ:-----
দেখা গিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস-এর চিকিৎসায় গুলঞ্চ কার্যকরী ভূমিকা নেয় এবং হাঁপানি বা অ্যাজমার উপসর্গ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগে।
★ মহিলাদের জন্য গুলঞ্চ:-----
রোগ প্রতিরোধী উপাদানগুলির জন্য রজঃনিবৃত্তি উত্তর (পোস্টমেনোপজাল) মহিলাদের জন্য গুলঞ্চ খুব কাজে লাগে।
এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়) রোধ কমাতে পারে।
★ পুরুষদের জন্য গুলঞ্চ:-----
গুলঞ্চের ব্যবহারে বীর্যধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে পুরুষদের যৌন ক্ষমতা বা ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়।
★ ক্যান্সারের জন্য গুলঞ্চ:------
কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গুলঞ্চের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য গুলঞ্চের ব্যবহার করা যেতে পারে।
★ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুলঞ্চ:-----
দুশ্চিন্তা, অবসাদ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য গুলঞ্চের ব্যবহার হয়।
★ মুখে অরুচি হলে:-----
মুখে কোনো খাবার না রুচলেই বলে অরুচি।
অরুচি তাড়াতে গুলঞ্চ পাতা ভাজা খেয়ে দেখুন। আশানুরুপ ফল পাবেন।
★ হৃদপিন্ডের সমস্যায়:-----
গুলঞ্চ হৃৎপিণ্ডের সমস্য (Cardiac Problems) চিকিৎসায় ব্যবহহৃত হয় (Ghani, 2003),
অনেকের অল্প হাঁটা বা ২/১ তলার সিঁড়ি ভাঙতে বুক ধরফড় শুরু হয়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।
এই যাদের অবস্থা তার ৫/৭ গ্রাম গুলঞ্চের সাথে ১২০ মি.গ্রা. গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেয়ে দেখুন উপকার পাবেন।
★ ১০/১৫ গ্রাম গুলঞ্চ থেঁতো করে ক্বাথ তৈরি করে পচা ঘা ধুয়ে ফেললে গায়ের পচা ভাব কমে যাবে।
পরে শুকিয়ে আসবে।
★ গুলঞ্চ জ্বর নিবারক হিসেবে কাজ করে, অকেকের সর্দি-কাশি ছাড়াই হঠাৎ জ্বর আসে আবার সহসাই ছেড়ে যায়। এমন অবস্থায় ৮-১০ গ্রমা গুলঞ্চ থেঁতো করে ক্বাথ তৈরি করে ছেঁকে ঠাণ্ডা হলে খাওয়াতে হবে। এতে উপকার পবেন।
★ অতৃপ্ত পিপাসায়:-----
অতৃপ্ত পিপাসার বিষয়ে আগেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পানিও পিপাসা সরাতে ব্যর্থ।
এমন অবস্থা হলে গুলঞ্চ লতা টুকরো টুকরো করে কেটে ও মৌরি একত্রে পানিতে ভিজিয়ে ঔ পানি একটু একটু করে খেতে হবে।
এতে পিপাসার অবসান হবে (Bhattacharia,1996)।
★ কৃমি উপসমে:-----
গুলঞ্চের ক্বাথ একটু টকটু করে খেলে কৃমির উপদ্রবও কমে যায়।
★ মেদ কমাতে:-----
যাদের শরীরে মেদ জমে গেছে, ডায়েটিং করেও কমাতে পারছেন না তারা শরীরে বাড়তি মেদ-ওজন কমাতে গুলঞ্চ ব্যবহার করে দেখুন।
গুলঞ্চের ৮/১০ গ্রাম ক্বাথের সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মাসখানেক খেয়ে দেখুন; হতাশ হবেন না
★ গুলঞ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় - Giloy boosts immunity in Bengali
★ ডেঙ্গির জন্য গুলঞ্চ - Giloy for Dengue in Bengali
★ ডায়বিটিসের জন্য গুলঞ্চ - Giloy for diabetes in Bengali
★ গুলঞ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় - Giloy boosts immunity in Bengali -----
★ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউনোমডুলেটিং) জন্য ঘরোয়া চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে গুলঞ্চের ব্যপক বাবহার হয়ে থাকে।
আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেরা মনে করেন, গুলঞ্চ হচ্ছে সর্বোত্তম প্রতিরোধ ক্ষমতাশীল ভেষজের অন্যতম।
শারীরিক পরীক্ষার জন্য কোনওরকম মানদণ্ড ব্যতিরেকে 68 জন HIV আক্রান্ত রোগীদের দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছিল।
ছ’মাসের জন্য এক ভাগের রোগীদের দেওয়া হয় গুলঞ্চ অন্য দলটিকে প্ল্যাসিবো (এমন কোনও পদার্থ যার কোনও ভেষজ গুণ নেই) দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের পর দেখা যায় যাঁদের গুলঞ্চ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটার সঙ্গে রোগের সার্বিক উপসর্গ কমেছে।
এথনোফার্মাকোলজিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, গুলঞ্চ বা টিনোস্পোরায় উপস্থিত একগুচ্ছ প্রাকৃতিক বায়োকেমিক্যাল এই গুল্মের ইমিউনোমডুলেটরি (প্রতিরোধ) ক্ষমতার জন্য দায়ি।
অন্যান্য গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, শরীরে ফ্যাগোসাইট (এক ধরনের প্রতিরোধী কোশ) উত্তেজিত হলে ইমিউনোমডুলেটরি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
★ ডেঙ্গুর জন্য গুলঞ্চ - Giloy for Dengue in Bengali -----
আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে ডেঙ্গর প্রাথমিক উপসর্গ ঠেকাতে গুলঞ্চের রস উপকারী।
ফলিত গবেষণার একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক রোগিনীর কথা বলা হয়েছে যাঁকে 15 দিন দিনে দু’বার করে 40ml গুলঞ্চের রস খাওয়ানো হয়েছিল। 15 দিন পরে রোগিনীকে পরীক্ষা করে দেখা যায় তাঁর প্লেটলেট সংখ্যা বেড়েছে, জ্বর এবং র্যাশ কমেছে।
তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি।
সংখ্যায় কম প্লেটলেট বহনকারী 200 জন রোগীর ওপর আরও একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল, যেখানে রোগীদের 5 দিন পেঁপে এবং গুলঞ্চ পাতা ছেঁচে তার রসের 5ml করে মিশ্রণ খাওয়ানো হয়।
সমস্ত রোগীদের মধ্যে প্লেটলেট সংখ্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা দিয়েছিল।
কাজেই, একথা নিশ্চিন্তে বলা যায় যে ডেঙ্গির প্রাথমিক চিকিৎসা গুলঞ্চ বা টিনোস্পোরার সাহায্যে করা হলে উপকার পাওয়া যায়।
★ ডায়বিটিসের জন্য গুলঞ্চ - Giloy for diabetes in Bengali ------
চিরাচরিত এবং ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিতে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে (হাইপোগ্লাইসেমিক)বরাবর গুলঞ্চ ব্যবহার হয়ে আসছে।
গুলঞ্চের ডায়বিটিস প্রতিরোধী ক্ষমতা প্রমাণে প্রাণীদের ওপর এবং পরীক্ষাগারে প্রচুর গবেষণা করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুলঞ্চ বা টিনোস্পোরা যথেষ্ট কার্যকরী।
আরও বলা হয়েছে যে এই গুল্মটি ইনসুলিনের ক্ষমতা বাড়িয়ে এবং শরীরে অক্সিডেটিভ চাপ কমিয়ে এর হাইপোগ্লাইসেমিক প্রভাব বিস্তার করে।
এছাড়া, গ্লুকোজের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার (গ্লুকোনিওজেনেসিস এবং গ্লুকোজেনোলাইসিস) জটিল পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে এবং তার ফলে সার্বিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে।
কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR) এবং ন্যাশনাল বটানিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইন ইন্ডিয়া যৌথভাবে একটি পলিহার্বাল ট্যাবলেট পণ্য (একটির বেশি গুল্মের সমন্বয়ে তৈরি) বাজারজাত করছেন যার অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে গুলঞ্চ।
CSIR জানিয়েছে, এটি একটি আয়ুর্বেদিক সংযোজন হিসাবে আনা হয়েছে, যা রক্তে শর্করার হার কম করার কাজে লাগে এবং অন্যান্য ডায়বিটিস প্রতিরোধী ওষুধের যে সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এতে তা নেই।
যে কোনও ভেষজ বা ঔষধি গুল্ম গ্রহণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
(আরও পড়ুন: ডায়বিটিস ট্রিটমেন্ট (ডায়বিটিসের চিকিৎসা) ).
★ গুলঞ্চ কীভাবে ব্যবহার করা হয় - How giloy is used in Bengali -----
গুলঞ্চ গাছের কাণ্ড এবং পাতা থেকে ক্কাথ (কাধা) বার করে তা খাওয়া যেতে পারে তবে পাওডার আকারে বা গুঁড়ো করে গ্রহণের চলই বেশি।
আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো গুলঞ্চের অন্য পণ্য যেমন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, এবং গুলঞ্চের রস পান করা যেতে পারে।
যদি আপনার এই গুল্মের স্বাদ অপছন্দ হয় তাহলে আপনি ভেষজ (হার্বাল) চা হিসাবেও পান করতে পারেন।
★ ★ ★ গুলঞ্চ ডোজ - Giloy dosage in Bengali -----
আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের মতে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুশ্চিন্তা ত্যাগ করে 1-2 g গুলঞ্চের কাণ্ড বা পাতার গুঁড়ো এবং 5 ml পর্যন্ত গুলঞ্চ কাণ্ড বা পাতার রস গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে, অতিরিক্ত সংযোজিত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া শ্রেয়।
★ গুলঞ্চ ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Giloy side effects in Bengali -----
গুলঞ্চ হচ্ছে একটি উৎকৃষ্ট হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট (রক্তে শর্করা কমায়),
কাজেই যদি এমন হয় যে আপনি ডায়বিটিসে আক্রান্ত হয়ে ওষুধ খাচ্ছেন,
তাহলে যে কোনও প্রকারেই গুলঞ্চ সেবন করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।
অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন বা সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোকালীন সময়ে গুলঞ্চের সম্ভাব্য উপকারিতা কী, সে সম্পর্কে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না।
কাজেই অন্তঃসত্ত্বা বা মাতৃদুগ্ধ পান করানোকালীন সময়ে কোনও মহিলা গুলঞ্চ সেবন করতে ইচ্ছুক হলে আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টিনোস্পোরা একটি উৎকৃষ্ট ইমিউনোমডুলেটরি অর্থাৎ যা আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উজ্জীবিত করে যাতে আপনি আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করেতে পারেন।
সুতরাং আপনি যদি কোনও অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে গুলঞ্চ সেবনের আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া শ্রেয়।
৫৩
৯১ মন্তব্য