রঙ বদল করতে পারদর্শী এমন একটি আশ্চর্যজনক প্রাণী গিরগিটি। Girgiti
মানুষের পোষা প্রাণীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, তার সৌন্দর্য, স্বভাব,
আশ্চর্যজনক প্রতিভা ও বন্ধুসূলভ আচরণের মাধ্যমে। এই প্রাণীটির বিভিন্ন
তথ্যসমূহ জানতে নিচে লক্ষ্য করুন.......

গিরগিটি (Girgiti) কী:
গিরগিটি একটি শীতল রক্তযুক্ত প্রাণী। এদের অনেক বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা রয়েছে। এটি সরীসৃপ পরিবারে অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। যেমন টিকটিকি, কুমির ইত্যাদি। পৃথিবীতে 160 প্রজাতির Girgiti রয়েছে।
এদের আকৃতি সাধারণত 1 ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এদের জীবনকাল সাধারণত 20
বছরের মতো হয়ে থাকে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তাদের জিহ্বা তাদের শরীরের থেকেও
বড় হয়ে থাকে।
গিরগিটি দেখতে
সব সময়ই আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময়। এগুলো সব সময় চটপটে স্বভাবের হয়ে থাকে।
কিছু প্রাণী আছে যারা অনেক সময় বেশি মানুষের সংস্পর্শে ঘাবরে যায়। এই প্রাণীটির তথ্যসমূহ আসলেই চমকপদ।
গিরগিটি প্রাণী পোষার কারণ:
গিরগিটি (Girgiti) অপেক্ষাকৃত কম দামের একটি পোষা প্রাণী। এদের অনেক
ধরণের আচরণ লক্ষ্য করা যায়। তারা শান্ত, সুন্দর, নিরীহ, অস্বাভাবিক।
গিরগিটি প্রাণীদের যন্ত নেওয়া খুব সহজ। এরা সাধারণত বন্ধু সূলভ প্রাণী।
তারা সহজে মানুষকে কাড়ম দেয় না। কোন ধরণের বিরক্তিকর শব্দ করে না। তারা
খেলা করতে পছন্দ করে থাকে, সেজন্য তাদের সাথে খেলা করাটাও সহজ। এরা পোষা
প্রাণীদের মধ্যে অনেক লাভজনক একটি প্রাণী। এই প্রাণীটি খুব ছোট প্রাণী
হওয়ায় এদের সহজেই লুকানো সম্ভব। এরা নাচতে পারে বা তাদের অনেক রকম করে
সাজানো সম্ভব। এদের সহজে কোন ধরণের অসুখ বিসুখ হয় না। সেজন্য তাদের কোন
পশুচিকিৎসকের কাছে নিতে হয় না। মানুষের কাছাকাছি রাখার জন্য এটি খুব শান্ত
একটি প্রাণী।
জুরাসিক
পার্ক ছবিতে প্রাণীটির বিভিন্ন ধরণের শারীরিক বৈচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আর
এই সিনেমাটির কারণে পোষা প্রাণী হিসেবে এরা মানুষের কাছে অনেকটা প্রিয়
হয়েছে।
গিরগিটির আশ্চর্যজনক চোখ:
গিরগিটির
একটি চমকপদ বৈশিষ্ট্য হলো তারা তাদের মাথাটি না নাড়িয়ে তাদের চার পাশের সব
কিছু দেখতে পারে, এমনকি তাদের পিছনের অংশটিও। কারণ তাদের চোখগুলি 360
ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে থাকে।
গিরগিটির রঙ বদল:
পৃথিবীতে অনেক আশ্চর্যজনক প্রাণী রয়েছে। কিন্তু গিরগিটি সবার
থেকে ভিন্ন। কারন তাদের আছে শরীরের রঙ বদল করার এক দারুন শক্তি। প্রাণীটি
যেকোনো সময় তাদের শরীরের রঙ পরিবর্তন করে থাকে। এই রঙ পরিবর্তন তাদের কোথাও
লুকিয়ে পড়তে সহজেই সাহায্য করে থাকে। তাছাড়াও রাগ, ক্ষোভ ও ঝগড়াঝাটির সময়ও
তাদের শরীরের রঙ পরিবর্তিত করে থাকে।
এদের
এই আশ্চর্যজনক রঙ পরিবর্তনের পিছনে কাজ করে, তাদের দেহে থাকা ক্রোমাটোফোরস
নামে একটি বিশেষায়িত কোষ। আর এর সাহায্যেই এরা রঙ পরিবর্তন করে থাকে।
গিরগিটির বিভিন্ন আচরণ ও বৈশিষ্ট্য:
গিরগিটি
অনেক ধরণের আচরণ করে থাকে। তারা অনেক সময় যোকারের মতো করে, কখনও তাদের
শরীরের কাঁটাগুলি খাড়া করে দেয়। অনেক লম্বা জিহ্বা বের করে খেলা করে থাকে।
এটি বিভিন্ন সময়ে তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরণের আকার বা পরিবর্তন এনে থাকে।
আর
এসকল প্রজাতির মধ্যে এরা কিছুটা ছোট প্রাণী। তারা তাদের পায়ের উপর ভর করে
হেঁটে থাকে। তারা তাদের শত্রুদের অনেক ধরণের কৌশলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে
থাকে। তাদের সেই আচরণ দেখে শত্রুরা ভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
অস্ট্রেলিয়াতে এমন অনেক গিরগিটি
বাস করে যেগুলো মাংসাশী। তাদের আকার 1 ফুটের মতো। আর এই গিরগিটিগুলিরও
জীবনকাল প্রায় 20 বছর। এগুলি বিভিন্ন রঙের এবং আকারের হয়ে থাকে।
আফ্রিকার
অনেক অঞ্চলে বাস করা আর একটির নাম হলো আর্মাদিলো গিরগিটি। এর আকার 15-20
সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই গিরগিটিগুলি মানুষের পোষা প্রাণীর তালিকায় অনেক
উপরে রয়েছে।
আর্মাদিলো
গিরগিটি নিজেকে বাঁচানোর জন্য যেকোনো ছোট গর্তে লুকিয়ে পড়তে পারে। আর
লুকানোর মত জায়গা না পেলে নিজেকে বাঁচানোর জন্য গায়ের কাঁটাগুলি খাড়া করে
দিয়ে থাকে যাতে করে শিকারি তাদের স্পর্শ বা খেতে না পারে। কারণ এই
গিরগিটিগুলির শরীর বা ত্বক অনেক কঠোর।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, গিরগিটি কি রক্ত খায়? আসলে এটি আমাদের একটি ভান্ত ধারণা। তাদের কিছু প্রজাতি বিষাক্ত ঠিক আছে, তবে রক্ত খায় এটার কোন প্রমাণীত তথ্য নেই।
বিপদজনক গিরগিটি:
টেগু নামে একটি গিরগিটি
যা 4 ফুটের মতো লম্বা হয়ে থাকে আর দেখতে কালো রঙের। এই গিরগিটিগুলি
জর্জিয়ায় খুব আক্রমণাত্রক স্বভাবের। এরা তাদের সামনের প্রায় সবকিছু ধ্বংস
করে ফেলে।
জর্জিয়ার
বন সম্পদ বিভাগ তাদের দেশের জনগনকে যেকোনো ধরণের টেগু নামক প্রাণীটি দেখার
সাথে সাথে জীবিত বা মৃত ধরতে আদেশ দিয়েছেন। কারণ তারা জর্জিয়ার জন্য
অনেকটা বিপদগ্রস্ত হতে পারে। যেকোনো উপায়ে তাদের বংশবিস্তার রোধ করতে তারা
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কারণ এদের মহিলারা বছরে 36টি ডিম দিয়ে থাকে।
টেগু জর্জিয়ার
অনেক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন কচ্ছপ, পাখি ও অনেক
ধরণের সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণীদের বাসস্থান, ডিম এবং বাচ্ছা ধ্বংস করছে।
টেগু মানুষকে খুব কমই আক্রমণ করে, তবে তারা নিজেরা হুমকি অনুভব করলে তাদের তীক্ষ্ণ নখ ও দাত আপনার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে।
এই ক্ষতিকর প্রাণীগুলো সাদা ও কালো রঙের হয়ে থাকে এবং তাদের আকার 4 থেকে 4.5 ফুট। অনেকের ভয় এই গিরগিটিগুলির স্বভাব দেশীয় পোষা প্রাণীদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
গিরগিটির খাদ্য:
অনেকে জানতে চায় গিরগিটি কি খায়? এমন অনেক গিরগিটি আছে
যেগুলি মরুভূমিতে বাস করে। এগুলোকে খুব গরম স্থানে রাখতে হয়। এরা জল পান
করে না। এগুলি বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি খেয়ে থাকে। আর এই প্রাণীটি দেখতে খুব
বেশি সুন্দর না। এদের শরীরের খোলস বেশ খসখসে হয়ে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য
গিরগিটি লতাপাতা, বিভিন্ন পশুপাখির ডিম, বাচ্ছা ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
গিরগিটির দাম:
এদের
বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। তাই প্রজাতি ভেদে এদের দামও আলাদা হয়ে থাকে। তবে
এদের গড় দাম ২৫০০ টাকা থেকে ২৫৪৫০ টাকা। তবে এর চেয়েও দামী গিরগিটি রয়েছে।
উপসংহার:
গিরগিটির
অনেকগুলি প্রজাতির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি সুন্দর তা নির্ণয় করা কঠিন।
এদের সব থেকে বড় শত্রু বিড়াল। পৃথিবীর সব মহাদেশেই এই প্রাণীটি কম বেশি
পাওয়া যায়। শুধু মাত্র অ্যান্টর্কটিকা মহাদেশে এই প্রাণীটি চোখে পড়ে না।
এরা দেখতে অনেকটা সাপ বা কুমিরের মতো। অনেক চিড়িয়াখানায়ও এটি দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে পাওয়া 2টি মাত্র গিরগিটি বিষাক্ত প্রজাতির। সব কিছু বিবেচনা করে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও আশ্চর্যজনক পোষা প্রাণীদের তালিকায় এই প্রাণী অনেকটা উপরে রয়েছে। আমরা এই প্রাণীর বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জেনে কিছুটা হলেও এদের সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি।


১
১ মন্তব্য