Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুলাই, ২০২১ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবের সুস্বাদু ফল ‘সাম্মাম’ রকমেলন এখন চাষ হয় বাংলাদেশে।

সৌদি আরবের সুস্বাদু ফল ‘সাম্মাম’

রকমেলন এখন চাষ হয় বাংলাদেশে।


রকমেলন (সাম্মাম) হল মাস্কমেলন গোত্রের একটি উচ্চমূল্যের বিদেশি ফল। আরবে একে সাম্মাম (شمام) বলে। ফলের উপরের ত্বক পাথর (রক) এর মত, তাই অস্ট্রেলিয়াতে রকমেলন নামে পরিচিত। উর্দুতে খরবুজ বা খরবুজা, আমেরিকাতে ক্যান্টালোপ, এশিয়াতে মেলন নামে পরিচিত। সুইট-মেলন বা মিষ্টি বাংগিও বলেন অনেকে।

হানি জুস রকমেলন

পুষ্টিগুণে রকমেলন অনন্য। বিভিন্ন এন্টি-অক্সিডেন্ট সম্পন্ন এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং সি যা উচ্চ রক্তচাপ, এ্যাজমা কমিয়ে দেয়। এতে উপস্থিত বেটা ক্যারোটিন, ক্যান্সার রোধ করে। এছাড়াও এটি খুব রসালো ফল, ৯০% পানি, যা হাইড্রেশন বজায় রাখে ও হজমে সহায়তা করে। চুল ও ত্বকের জন্যও এই ফল উপকারি।


'সাম্মাম’ প্রথমবারের মতো উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরাপুর গ্রামের সফল কৃষক রেজাউল ইসলাম। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদিত ফলটি চাষাবাদ এখন হচ্ছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরাপুর এলাকায়। সৌদি থেকে বীজ সংগ্রহ করে দেড় বিঘা পতিত জমিতে দুই জাতের সাম্মাম চাষ করে প্রায় এক টন ফল উৎপাদন করেছেন তিনি।


এক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ সবুজ আর ভিতরে লাল এবং আরেক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ হলুদ আর ভিতরের অংশ লাল। তবে দুটি ফলই খেতে মিষ্টি, সু-স্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত।


সৌদি আরব থেকে বীজ সংগ্রহ করে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মিরাপুর এলাকায় পতিত দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ জাতীয় দুই ধরনের সাম্মাম বীজ বপন করেন রেজাউল ইসলাম। দেড় মাসের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ক হয় সাম্মাম ফল। এ ফলটি এলাকায় নতুন, খেতে খুবই মিষ্টি এবং রসালো হওয়ায় অনেকেই কিনছেন শখের বসতবর্তী হয়ে।


বর্তমানে এটি বরিশাল, ভৈরব, ছাতক ও নরসিংদীতে সফল চাষাবাদ হচ্ছে।


এ ব্যাপারে সফল ও সৌাখন কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সাম্মাম’ ফলের তেমন একটা রোগবালাই নেই, গাছে খুব সামান্য সার ও কিটনাশক দিতে হয়। পতিত দেড় বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো সাম্মাম চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। প্রায় এক টন ফল উৎপাদন হয়েছে। একেকটি সাম্মাম ফল ২ থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়। প্রতি কেজি সাম্মাম পাইকারী দেড়শ’ এবং খুচরা ২ থেকে আড়াইশ’ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, রেজাউল ইসলাম একজন আদর্শ কৃষক। সে সব সময় নতুন নতুন কৃষিতে আগ্রহী। ‘সাম্মাম’ তরমুজের মতো অনেকটা সংকর জাতের এই ফল গাছে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম। ফলনও বেশ ভালো।


বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পলি টানেল বা পলি হাউজ করে সারা বছর গ্রিন হাউজে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করেও চাষ করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে বীজ ও চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন কেউ আগ্রহী হলে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ