Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ আগস্ট, ২০২১ ০১:২৪ পূর্বাহ্ণ

মহররম কারবালার ঘটনা ও এর তাৎপর্য । ১০ মহররম মুসলিম ইতিহাসের একটি বিযোগান্ত ঘটনার দিন।

১০ মহররম কারবালার ঘটনা ও এর তাৎপর্য

®® ১০ মহররম মুসলিম ইতিহাসের একটি বিযোগান্ত ঘটনার দিন। ১০ মহররম কারবালায় যা ঘটেছিল সেটি মুসলিম ইতিহাসে এক শোকাবহ কাহিনী হিসেবে লেখা রয়েছে। তবে শুধু বিয়োগান্ত কাহিনীই নয় ১০ মহররম মুসলিম ইতিহাসে বহু তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।

আরবী হিজরী বর্ষের প্রথম মাস হলো মহররম মাস। এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মাসের ১০ম দিবসে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। আশুরার দিনে যে শুধু হযরত হোসাঈন (রাঃ) অথবা অন্যান্য যারা সেইদিন কারবালার ময়দানে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্বরণে পালন করা হয় তা কিন্তু নয় এর কারণ, এই মহররম মাসের ১০ তারিখ অনেক ঘটনাই ঘটেছে। এ মাসে রয়েছে আশুরা। আশুরা আশিরুন-এর বহুবচন। এর অর্থ হলো দশম তারিখের সমন্বয় অর্থাৎ মহররম মাসের ১০ তারিখে সংঘটিত ঘটনাবলী। পৃথিবীর আদি-অন্তের এক ঘটনা এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। বিশ্বের সব মুসলমানরা তাইতো তাজিয়া বানিয়ে এই দিনটিকে স্মরণ করেন। কারবালার ওই শোকাবহ ঘটনা তাড়িত করে প্রতিটি মুসলমানকে।


শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় নিজের রক্ত ঝরিয়ে এই দিনটিকে স্মরণ করেন এভাবেই


১০ মহররম ও কারবালার তাৎপর্য

      ঐতিহাসিক ১০ মহররম। মুসলিম ইতিহাসের একটি বিয়োগান্ত ঘটনার দিন।…


এবার আসছে আবেগ মেশানো ড্রামা সিরিয়াল ‘কারবালা’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো একের পর এক কাহিনীনির্ভর বিভিন্ন সিরিয়াল নিয়ে…

মহররমের ১০ম দিবসে সংঘটিত বহু ঘটনা হতে কয়েকটি হলো:

১. আশুরার দিনে হযরত আদম (আ:) কে সৃষ্টি করা হয়। আবার এই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এই তারিখেই জান্নাত হতে পৃথিবীতে প্রেরিত হন ও বহু বছর পর এই তারিখেই আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে তিনি এবং বিবি হাওয়া (আ:)-এর পুনরায় সাক্ষাৎ লাভ হয় ও তাঁদেরকে মার্জনা করা হয়।

২. এই ১০ মহররম দিবসে হযরত ইদ্রিস (আ.) কে আকাশে উত্তোলন করা হয়।

৩. এই মহররমের ১০ তারিখে হযরত নূহ (আ:) কে তুফান এবং প্লাবনের পানি হতে পরিত্রাণ দেওয়া হয়।

৪. এই ১০ মহররমের তারিখে হযরত আইয়ুব (আ:) কে ১৮ বছর রোগ ভোগের পর রোগ মুক্তি দেওয়া হয়।

৫. এই ১০ মহররমের তারিখে হযরত ইব্রাহিম খালীলুল্লাহ (আ:) কে অগ্নিকুণ্ড হতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়।

৬. এই ১০ মহররম দিবসে হযরত দাউদ (আ:) কে বিশেষ ক্ষমা করা হয় ও হযরত সুলাইমান (আ:) কে স্বীয় হারানো বাদশাহী পুনরায় ফেরত দেওয়া হয়।

৭. এই ১০ মহররম দিবসে হযরত ইউনুছ (আ:) কে ৪০ দিন পর মাছের উদরে থাকার পর নিষ্কৃতি দেওয়া হয়।

৮. আশুরার এই দিনে হযরত ইয়াকূব (আ:) স্বীয় হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ:) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন।

৯. এই ১০ মহররম দিবসে হযরত মূসা (আ:) ফিরাউনের কবল হতে নিষ্কৃতি লাভ করেন।

১০. আশুরার এই তারিখে হযরত ঈসা (আ:) কে আকাশে উত্তোলন করা হয়।

১১. আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (স:)-মক্কা শরীফ হতে হিজরত করে মদীনা শরীফে আশুরার এই তারিখে তাশরীফ নেন।

১২. এই ১০ মহররম দিবসে নবী করীম (স:)-এর কলিজার টুকরা ফাতেমা (রা:)-এর নয়নমণি হযরত ইমাম হুসাইন (রা:) ও তাঁর ৭৭ জন পরিজন এবং ঘনিষ্ঠজন জালিম ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে, ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

এই মাসের পবিত্রতা ও আশুরার বিশেষত্ব সম্পর্কে আল-কুরআনুল-কারীম এবং হাদীস শরীফের কয়েকটি উদ্ধৃতি :

ইসলামের হারাম ৪টি মাসের একটি হল মহররম। বর্ষ গণনার রীতি এবং মাস সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন যে, ‘নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করার দিনে মাসসমূহের গণনা আল্লাহর নিকট বারো মাস, তন্মধ্যে ৪টি হারাম মাস। তোমরা নিজেদের মধ্যে এসবের যুল্ম করো না। আর তোমরা মুশরিকদের সাথে ব্যাপকভাবে যুদ্ধ করো যেমনিভাবে তারা তোমাদের সাথে ব্যাপকভাবে যুদ্ধ করে, আর জেনে রাখো আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গেই রয়েছেন’ (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৩৬)।

মন্তব্য করুন

ব্লগ