Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের ২৭শে আগস্ট, বাংলা ১২ই ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের এইদিনে শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে, বাংলা ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি । তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।


★★ মাত্র আট বছর বয়সে তিনি পিতৃহীন হন। এ সময় তিনি জীবিকার প্রয়োজনে লেটো’র দলে যোগ দেন। কিন্তু বেশিদিন তিনি এ দলে থাকেননি। দশ বছর বয়সে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার পর তিনি গ্রামের মক্তবে কিছুদিন শিক্ষকতার চাকুরি করেন। তারপর তিনি চলে আসেন নতুন কর্মস্থল আসানসোল শহরে। সেখানে থানার দারোগা জনাব রফিজ উদিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে দারোগা সাহেবের সঙ্গে চলে আসেন দারোগার নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুরে। দরিরামপুর হাই স্কুলে প্রায় এক বছর পড়া লেখার পর নজরুল পুনরায় চলে যান চুরুলিয়ায়। ভর্তি হন রানীগঞ্জের শিয়ারসোল রাজ স্কুলে। এখানে তিনি পড়াশোনা করেন তিন বছর। এ সময় প্রথম মহাযুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। নজরুল তখন প্রবেশিকা পরীক্ষা দেবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। প্ৰাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হতেই তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেন। ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে ছিলেন তিনি। তিনি সেনাবাহিনীতে ০৩ বছর কর্মরত ছিলেন। তাঁর চাকুরি জীবন ছিল মূলত করাচিতে। সৈনিক জীবনে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি প্ৰথমে হাবিলদারে উন্নীত হন। করাচির সৈনিক জীবনকে বলা হয় তাঁর প্ৰতিভার সাজঘর। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হলে তাঁর পেশাদারী সৈনিক জীবনের সমাপ্ত হয়। করাচিতে চাকুরিকালে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম গল্প "বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী" কলকাতার "সওগাত পত্রিকায়" (জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ সংখ্যা) এবং প্রথম কবিতা "মুক্তি" কলকাতার “বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়" (শ্রাবণ ১৩২৬ সংখ্যা) প্রকাশিত হয়। এভাবে প্ৰতিভাধর সাহিত্যিক হিসাবে নজরুলের বাংলা-সাহিত্যে প্রবেশ। যুদ্ধশেষে নজরুল চলে আসেন কলকাতায় এবং পরিপূর্ণভাবে সাহিত্যকর্মে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২২ সালে বিখ্যাত কবিতা "বিদ্রোহী" প্ৰকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি “বিদ্রোহী কবি" হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক "ধূমকেতু" পত্রিকা প্রকাশিত হবার পর ইংরেজ সরকার তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করে। জেল থেকে মুক্তি পাবার পর তিনি পুনরায় সাহিত্য-সঙ্গীত রচনায় মনোনিবেশ করেন। একে একে নজরুলের কাব্যগ্রন্থাবলি অগ্নি-বীণা, বিষের বাঁশী, সাম্যবাদী, সর্বহারা, প্রলয়-শিখা ইত্যাদি প্রকাশিত হয়। সে সঙ্গে তিনি রচনা করতে থাকেন বিচিত্রধর্মী অজস্র গান।


★★বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। তাঁর সৃষ্টিকর্ম "চল চল চল" গানটি বাংলাদেশের রণ-সঙ্গীত।


★★ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ৪১-৪২ বছর বয়সে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন। দীর্ঘ চৌত্ৰিশ বছর অসুস্থ থাকার পর আজকের দিনে তিনি পরলোক গমন করেন। আমরা কবিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ পাক কবিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন -আমিন।

সংগ্রহীত

মন্তব্য করুন