Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৪২ অপরাহ্ণ

ফেসবুক ব্যবহার হোক গঠনমূলক কাজে। আমরা ব্যবহারে সতর্ক হই।

ফেসবুক বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক ছাড়া এখন যেন শিক্ষার্থীদের জীবন কল্পনাই করা যায় না। ইন্টারনেটের সুবিধার আওতাভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশের জনজীবনে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ঢেউ সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে ক্লাস ও পড়াশোনা সংক্রান্ত আপডেট খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে পাওয়া যায়। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্যই ফেসবুকের উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে শুধু নিজেদের ব্যাচমেটদের মধ্যেই শিক্ষাগত কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখে না, বর্তমানে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার পড়াশোনাও তারা গ্রুপ স্টাডির মতো ফেসবুকেই করে থাকে। ইংরেজি ও গণিত, সাধারণ জ্ঞানসহ বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ের চর্চার জন্য তারা ফেসবুককে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফেসবুকের এমন বহুবিধ ব্যবহার যেন ডিজিটাল বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। এখন শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি প্রার্থীদের চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিংয়ের দক্ষতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যার ফলে এ যুগে ফেসবুক বিমুখ হয়ে থাকার সুযোগটি কমে আসছে। তাছাড়া ফেসবুক ইদানীং সর্বশেষ খবর পাওয়ার একটি প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো তো বটেই, কাগজের মুদ্রণের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণগুলোও ফেসবুকের মাধ্যমেই সর্বশেষ সংবাদগুলো পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তবে অনেক অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে থাকে। ফেসবুক বিকল্প সংবাদপত্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে। মানুষ ফেসবুকে সাহিত্যচর্চা করছে, তাদের দৈনন্দিন যাপিতজীবনের মনোভাব ও সামাজিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে তাদের মতামত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করছে। যে কোনো বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা অথবা সবাইকে সচেতন করার মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন তৈরিতেও ফেসবুক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে ফেসবুক খুবই কার্যকরী একটি মাধ্যম। এটা শুধু পারস্পরিক যোগাযোগ নয়, বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক গঠনমূলক চিন্তাভাবনা সবার সঙ্গে শেয়ার করার দারুণ একটি প্লাটফর্ম। ফেসবুক শুধু পড়াশোনার ক্ষেত্রেই সাহায্য করে না বরং ই-কমার্সের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতেও সহায়তা করে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের কল্যাণেও ভূমিকা রাখবে, আমরা সে প্রত্যাশাই করি।

মন্তব্য করুন