Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের সংস্কৃতির রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। বাংলার সংস্কৃতিই আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয় আমরা বাঙালি।

বাংলাদেশের সংস্কৃতির রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। বাংলার সংস্কৃতিই আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয় আমরা বাঙালি। প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, আধুনিক যুগ, একেক যুগে, একেক শাসকগোষ্ঠী এই দেশকে শাসন করে গেছে। যেমন প্রাচীন যুগের শাসকরা হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন। সে সময়ে মেয়েরা শাড়ি, ছেলেরা ধুতি পরতো। যানবাহন ছিল নৌকা, গরুর গাড়ি ও পালকি। ধান, ডাল, যব, তুলা, সরিষা ও পান চাষ হত। মধ্যযুগ থেকে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তখন মেয়েরা শাড়ি পরতো, হিন্দু ছেলেরা ধুতি, চাদর, পায়ে খড়ম পরতো, মুসলমান ছেলেমেয়েরা পায়জামা-পাঞ্জাবি, ধুতি, লুঙ্গি পরত। নৌকা, জাহাজ, কাগজ, মসলিন কাপড় বানানো ও রপ্তানি শুরু হয় ঠিক তখন থেকেই। আধুনিক যুগের শুরু ইংরেজরা আসার পর। তখন থেকে যোগাযোগ, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়। সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণের সমষ্টি, মানুষের জাগতিক নৈপুণ্য ও কর্মকুশলতা। তার বিশ্বাস, আশা-আকাক্সক্ষা, নৈতিকতা, রাজনীতির ভাষা, কলা, মূল্যবোধ সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা সোনার বাংলায়, বিচিত্র মানুষ, বিচিত্রভাবে বসবাস করে। এটাও এদেশের সংস্কৃতি। সময়ের পরিক্রমায় অনেক গ্রহণ, বর্জন, পরিবর্তন, পরিমার্জনের মধ্যদিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে অনেক নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে, আবার হারিয়ে গেছে অনেক উপাদান। বাংলার সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। এখানে বাস করে : মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ আরো অনেক জাতি। এখানে প্রাণ খুলে তারা তাদের প্রাণের ভাষায় ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। একের অনুষ্ঠানে অন্যেরা আমন্ত্রিত হয়ে, একে অপরেরর সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে। আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মধ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি, উৎসব, লোকসাহিত্য, সঙ্গীত, ঋতুভিত্তিক উৎসব, বিভিন্ন প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন, খেলাধুলা, সামাজিক প্রথা প্রকৃতি অন্তর্ভুক্ত। এদেশে মুসলিম শাসক মোহাম্মদ-বিন-তুঘলক প্রকাশ্যে হিন্দুদের সঙ্গে হোলি খেলতেন। পালাগান, যাত্রাগান, লোকসাহিত্য প্রভৃতি বাঙালিদের হৃদয়ের কথাই বলে এবং বুকের বাঁশরি, কর্মক্লান্ত অবসর মুহূর্তগুলো গ্রাম্য সুর-মূর্চ্ছনায় মুখরিত হত। কবিগান, চম্পাবতী, লাইলী মজনু, শিরিন ফরহাদ, আলোমতি, বেদের মেয়ে জোৎস্না, চন্ডিদাস, রজকিনী মানুষ প্রাণ ভরে দেখত। গ্রামেগঞ্জে একদিকে যেমন ওয়াজ মাহফিল হতো, আবার যাত্রাপালাও হতো, কীর্তন হতো, পূজা-পার্বণ হতো। কথায় আছে বার মাসে তের পার্বণ। সবই ছিল সৌহাদ্যপূর্ণ, যা এখন কম মাত্রায় বিদ্যমান।

মন্তব্য করুন