সহকারী শিক্ষক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৮:০২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সার্চ ইঞ্জিন, ওয়েব জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। সার্চ ইঞ্জিন ছাড়া ইন্টারনেট এত শক্তিশালী হতে পারত না। সার্চ ইঞ্জিনসমূহ যেমন গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদি আপনাকে নির্দিষ্ট তথ্য খুজে পেতে সহায়তা করে। অসংখ্য সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি খুঁজে বের করতে সেরা ৫টি সার্চ ইঞ্জিন।
১. গুগল: (লিংক: Google.Com ) যারা কম্পিউটার বা ইন্টারনেট এই দুটি শব্দের সাথে পরিচিত তারা গুগলের সাথেও পরিচিত। ওয়েব ডেভেলপার, ডিজাইনার এসইওবিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী পর্যন্ত গুগল ছাড়া কল্পনা করা যায় না ।
২. ইয়াহু: (লিংক: yahoo.com ) পৃথিবীর প্রথম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। ১৯৯৪ সালে ইয়াহুর যাত্রা শুরু। প্রথমে এটি ডিরেক্টরি সাবমিশন ওয়েবসাইট হলেও পরবর্তীতে তা সার্চ ইঞ্জিনে রুপান্তর করা হয়।
৩. বিং: (লিংক: bing.com ) সার্চের ফলাফলে আরও বেশী নিদির্ষ্ট এবং গ্রহনযোগ্য উত্তরের জন্য বিং অনন্য। মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল সার্চ ইঞ্জিন বিং প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে ।
৪. আস্ক ডট কম: (লিংক: Ask.Com আস্ক ডট কমকে মূলত ওয়েবে উত্তরদাতা বা পরামর্শ দাতা বলা যেতে পারে। এর পুরো নাম আস্ক জেভিস। ওয়েব বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তরের জন্য আস্ক ডট কম অনন্য।
৫.ডাকডাকগো: (লিংক: DuckDuckGo.com ) ডাকডাকগো ডট কম বিভিন্ন ক্রাউড সোর্স যেমন উইকিপিডিয়া ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ব্যবহারকারীকে তা প্রদর্শন করে। ইতোমধ্যে অনলাইন মার্কেটারদের কাছে তা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
# গুগল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল এই গুগলের যাত্রা? কার মাথায় এসেছিল এমন একটা কিছু চালু করার চিন্তা?
এর সূচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র - যারা তখন পিএইচডি করছিলেন। তাদের নাম ল্যারি পেজ আর সের্গেই ব্রিন।
এ দু'জনের হাতেই সৃষ্টি হয়েছিল গুগলের - যা এখন পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান কোম্পানি।
গুগলের ওই দুই প্রতিষ্ঠাতার সাথে একই সময় স্ট্যানফোর্ডে ছিলেন তামারা মাঞ্জনার - একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ।
কীভাবে তার দুই বন্ধু ল্যারি আর সের্গেই ইন্টারনেটের প্রথম যুগে একটা নতুন ধরনের সার্চ ইঞ্জিনের আইডিয়া নিয়ে এসেছিলেন - তারই স্মৃতিচারণ করেছেন তামারা মাঞ্জনার, বিবিসির ফারহানা হায়দারের কাছে।
এ নিয়েই ইতিহাসের সাক্ষীর এ পর্ব।
সেটা ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি। স্ট্যানফোর্ডের দুজন পোস্টগ্র্রাজুয়েট ছাত্রের মাথায় এমন একটা আইডিয়া এলো - যা পরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল ইন্টারনেটের জগতে।
সের্গেই ব্রিন বলেন, "আমাদের সবসময়ই মনে হয়েছিল যে এরকম একটা উদ্যোগের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সে সময়টা আমাদের চিন্তা ছিল একটা খুব ভালো সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করা, এবং যত বেশি সম্ভব লোকের কাছে তা পৌঁছানো।"
ল্যারি পেজের কথায়, "আমাদের মিশন ছিল বিশ্বের তথ্যকে সুবিন্যস্ত করা, যেখানে সারা দুনিয়ার লোক ঢুকতে পারবে, সবার উপকার হবে। আমার মনে হয়েছিল সারা পৃথিবীর জন্য এটা একটা দারুণ ব্যাপার হবে। "
সেসময় পেজ ও ব্রিনের সাথেই স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডি করছিলেন আরেকজন ছাত্রী - যার নাম তামারা মাঞ্জনার।
তামার বলছিলেন, "ল্যারি খুব হাসতো। ও ছিল খুব বুদ্ধিমান, কিন্তু মজার। আর সের্গেই ছিল একটু সিরিয়াস। কিন্তু দু'জনেরই মধ্যে এরকম একটা ভাব ছিল যে - 'আমরা আমাদের মত করে কাজটা করতে চাই'।"
"এটা হয়তো তাদের ব্যক্তিত্বের একটা অংশ ছিল এবং এ জন্যই গুগল এত অন্যরকম একটা জায়গা হয়ে উঠতে পেরেছে।"
ল্যারি পেজের জন্ম মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। আর সের্গেই ব্রিনের জন্ম হয়েছিল রাশিয়ায়।
তবে দুজনেরই বাবা-মায়েরা ছিলেন শিক্ষাবিদ এবং দুজনেই স্ট্যানফোর্ডে এসেছিলেন কম্পিউটারে সায়েন্সে পিএইচডি করতে।
তাদের প্রথম পরিচয় হয় ১৯৯৫ সালে। তখন ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি ছিল এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার জায়গা।
"সবখানেই একটা প্রাণচাঞ্চল্য, সবখানেই নতুন কিছুর জন্ম হচ্ছে। সবকিছুই সম্ভব। ১৯৯০এর দশকের মাঝামাঝি সময়টার সবচেয়ে দারুণ ব্যাপারটা ছিল - যে কোন একটা পার্টিতে গেলেই একাধিক দারুণ এবং আকর্ষণীয় চাকরির অফার পেয়ে যেতেন ।"
"কাজেই প্রতি সপ্তাহেই আমাকে মনে মনে নতুন করে একটা প্রতিজ্ঞা করতে হতো যে কোন অবস্থাতেই গ্র্যাড স্কুলের পড়াশোনা ছেড়ে দিলে চলবে না" - বলছিলেন তামারা।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ল্যারি পেজ আর সের্গেই ব্রিন, ২০০৩ সালে
"সবখানেই তখন স্টার্ট-আপ - মানে নতুন কিছু একটা ব্যবসা শুরু করা - প্রায় বিস্ফোরণের মত। তখনকার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের ছাত্রদের এক-চতুর্থাংশই তখন কিছু-না-কিছু স্টার্ট-আপ করছে।"
"ফ্যাকাল্টিগুলোরও তখন স্টার্ট-আপ ছিল। কাজেই স্ট্যানফোর্ডের প্রফেসরদের বেশির ভাগই তখন তাদের আগেকার স্টার্ট-আপের আয়ের কারণে মাল্টি-মিলিওনিয়ার হয়ে গেছেন।"
"একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীর জন্য সেটা ছিল এক আশ্চর্য জায়গা।"
'খুব সহজেই তর্ক বেধে যেতো তাদের'
স্ট্যানফোর্ডে ল্যারি পেজ এবং আরো তিন জনের সাথে একই অফিসে কাজ করতেন তামারা।
"ল্যারির সাথে দেখা হলে আপনার সের্গেইয়ের সাথে দেখা হবেই - কারণ ওদের সবসময়ই এক সাথে দেখা যেতো। তখনও কিন্তু তাদের বন্ধুত্বটা ঠিক সরল রেখা্য় চলতো না।"
দু'জনই পরে বলেছেন, প্রথম তাদের যখন দেখা হয়েছিল তখন তাদের একের অপরকে একেবারেই পছন্দ হয়নি।
"তাদের মধ্যে খুব সহজেই তর্ক বেধে যেতো" - বলেন তামারা।
১৯৯৬ সালে পেজ আর ব্রিন একটি থিসিস প্রকল্প শুরু করলেন - কিভাবে ইন্টারনেটে বিভিন্ন পেজ খুঁজে পাবার প্রক্রিয়াটাকে উন্নত করা যায়।
এখন এটা কল্পনা করা মুশকিল, কিন্তু ইন্টারনেটের প্রথম যুগে কোন কিছু খুঁজে পাবার প্রক্রিয়াটা ছিল খুবই বিশৃঙ্খল এবং খুব ঝামেলার।
কারণ তখনকার দিনে সার্চ ইঞ্জিন বলে কিছু ছিল না।
তামারার কথায়, "আজকালকার লোকেরা হয়ত বুঝবে না যে তখনকার ইন্টারনেট কেমন ছিল। আসলে আক্ষরিকভাবেই তখন সার্চ বলে কিছু ছিল না। আপনাকে কিছু পেতে হলে হাতে তৈরি ইনডেক্স বা সূচি থেকে কোন কিছু খুঁজে বের করতে হতো।"
"ইন্টারনেটের দুনিয়া তখন এত ছোট ছিল যে আমার ওয়েবপেজে কেউ ক্লিক করলে আমি তা লগ করে রাখতাম, কি উত্তেজনা - আমার ওয়েবপেজে কেউ একজন ক্লিক করেছে !"
পেজ আর ব্রিন বুঝতে পারলেন, কেউ যখন কোন ওয়েবপেজ থুঁজছে তখন সেটা যে শুধু প্রাসঙ্গিক হতে হয় তাই নয়, বরং সেটা আগেকার ব্যবহারকারীদের চোখে মূল্যবান কিনা - তাও দেখা হয়।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES
ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের একটি অফিস
"যেমন আপনি যখন 'কিভাবে চকলেট কেক তৈরি করতে হয় বলে সার্চ দিচ্ছেন, আপনি শুধু যে চকলেট কেক কথাটা আছে এমন পেজ খুঁজছেন তাই নয়, আপনি চান সেই পেজটা - যাতে সেরা চকলেট কেক বানানোর পদ্ধতি আছে বলে অন্য লোকেরা রায় দিয়েছে। "
( সংগৃহীত)
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ মামুনুর রহমান
সহকারী শিক্ষক(আইসিটি),
আইসিটি (ICT4E) জেলা অ্যাম্বাসেডর, রাজশাহী , a2i, Bangladesh
ও
ব্রিটিশ কাউন্সিল কো-অর্ডিনেটর,রাজশাহী
গুল-গোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়
গোদাগাড়ী, রাজশাহী
Mobile & WhatsApp : +8801768927380
Email: [email protected]
বাতায়ন আইডি : mamunggghsc10 ,
Profile Link : https://www.teachers.gov.bd/profile/mamunggghsc10
৭০
১৪৪ মন্তব্য