প্রধান শিক্ষক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৪:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী…
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা তথা ভারতবর্ষের একজন বিখ্যাত মানুষ যিনি কবিতা, গল্প ও সঙ্গীতজ্ঞ মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা সাহিত্যে তার অসীম অবদানের জন্য তাকে কবিগুরু ও গুরুদেব বলা হয়। তিনি ভারতের এমন প্রথম ব্যাক্তি ছিলেন তিনি সর্বপ্রথম বিখ্যাত “নোবেল পুরস্কার” অর্জন করেছিলেন। তিনি তার কবিতার পাশাপাশি ভারতের জাতীয় সংগীতের লেখক হিসেবে পরিচিতি হন। যার সম্পূর্ণ জীবন থেকে আমরা অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা নিতে পারি। তাই আজ আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী (Rabindranath Tagore Biography Bengali) এবং তার দ্বারা সম্পাদিত কাজ ও কৃতিত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
জন্ম ও পরিবার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৮৬ সালের ৭ই মে (২৫সে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকো পরিবারের জন্মগ্রহন করেন।
তিনি তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতা সারদাসুন্দরী দেবী অন্তিম সন্তান ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা একজন মহান হিন্দু দার্শনিক ও “ব্রামদামজের” এর অন্যতম প্রতি্ঠাতা ছিলেন এবং তার মাতা একজন গৃহিণী ছিলেন।
সেই সময়কার রীতি অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথের বিবাহ খুব ছোট বয়সে হয় যখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর তখন তিনি মৃণালিনী দেবীকে বিবাহ করেন।
রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের প্ৰাথমিক জীবন...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার মাতাপিতার সব থেকে ছোট ও আদরের সন্তান ছিলেন। ছোট বয়সে তার মা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং যেহেতু তাঁর বাবা প্রায়শই দেশ বিদেশ ভ্রমণে যেতেন, তাই তার বাড়ির কাজের লোকেরা তাকে বড় করে তোলেন। সেই সময় ঠাকুর পরিবার বাংলার নবজাগরণের এর শীর্ষে ছিল। ম্যাগাজিনের প্রকাশনা, থিয়েটার, বাংলা এবং পাশ্চাত্য সংগীতের পরিবেশনা চলতো প্রায়শই। এভাবে তার বাড়ির পরিবেশ কোনও স্কুলের চেয়ে কম ছিল না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই দ্বিজেন্দ্রনাথ ছিলেন দার্শনিক ও কবি। তাঁর দ্বিতীয় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ভারতীয় ছিলেন যিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন। তাঁর আরেক ভাই জ্যোতিন্দ্রনাথ ছিলেন একজন সংগীতশিল্পী ও নাট্যকার। তাঁর বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন লেখিকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও ক্লাসে বসে পড়াশোনা করতে পছন্দ করেন না।
তিনি প্রায়শই পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিবারের ম্যানর ঘুরে দেখতেন। তাঁর ভাই হেমেন্দ্রনাথ তাকে শেখাতেন। গবেষণায় সাঁতার, অনুশীলন, জুডো এবং কুস্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া তিনি অঙ্কন, শরীরচর্চা, ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, গণিত, সংস্কৃত এবং ইংরেজিও শিখেছিলেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এতটাই অপছন্দ করেছিলেন যে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়েছিলেন মাত্র একদিনের জন্য।
ছোট বেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ তার পিতার সাথে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন। তিনি তার ছোটোবেলই ভারত সফরে হিমালয়ে অবস্থিত ডালহৌসি পর্যটন কেন্দ্র বেড়াতে যাই ও সেখানকার ইতিহাস, আধুনিক বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সংস্কৃত ও কালিদাসের মতন মহান কবিদের কবিতা অধ্যয়ন করেন যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশেষ প্রভাবিত করেন। যা পরবর্তীকালে ছোট্ট রবিকে বিশ্ব কবি হতে প্রেরণা জোগায়।
এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন কলকাতায় জোড়াসাঁকোতে তার বাড়িতে ফিরে এসে ১৮৭৭ সাল নাগাদ তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা করেছিলেন। কিন্তু তার পিতামহ শ্রী দেবেন্দ্রনাথ সর্বদা চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ যাতে একজন ব্যারিস্টার হোক। সেই কারণে তিনি রবীন্দ্রনাথকে ব্যারিস্টারি পড়াশোনা করানোর জন্য ১৮৭৮ সালে তাকে ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে প্রেরণ করে আইন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য। যেখানে তিনি আইন পড়া চালিয়ে যেতে থাকে কিন্তু কিছু সময় পরে তিনি কলেজ এর পড়াশোনা বাদ দিয়ে শেক্সপিয়ার এবং আরও কিছু সাহিত্যিকের কাজ নিয়ে নিজেই গবেষণা করতে শুরু করেন। ইংল্যান্ড থেকে তিনি ১৮৮০ সালে আইন ডিগ্রি ছাড়াই বাংলায় ফিরে আসেন। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পর তিনি কয়েক বছর পর ১৮৮৩ সালে তিনি মৃণালিনী দেবীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
(সংগৃহীত)
মোছাঃ মারুফা বেগম
প্রধান শিক্ষক
খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
ডিমলা, নীলফামারী।
ইমেইলঃ [email protected]
ICT4E District Ambassedor
সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা
৫
৫ মন্তব্য