Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর ভূস্বর্গ কাশ্মীরের সৌন্দর্য এর বর্ণনা ও ইতিহাস।

কাশ্মীর--যেন সত্যিকারে স্বপ্নের ভূস্বর্গ। পৃথিবীর সব রূপ-সৌন্দর্য যেন ভিড় করেছে এখানে। ছুটে এসেছে প্রকৃতির রূপের সব অনুষঙ্গ। প্রকৃতির প্রতিটি বিচিত্র স্বাদের অলঙ্কার দিয়ে সাজানো এ ভূস্বর্গ। একটা সময় কাশ্মীর শব্দটি ভৌগোলিকভাবে শুধু বিশাল হিমালয় এবং পিরপাঞ্জাল পর্বতমালার উপত্যকাকে নির্দেশনা করা হতো। আজ কাশ্মীর বলতে বোঝায় একটি বিশাল অঞ্চল যা ভারতীয়-শাসিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর, পাকিস্তানশাসিত গিলগিট-বালতিস্তান এবং আজাদ কাশ্মীর প্রদেশ এবং চীন-শাসিত আকসাই চীন এবং ট্রান্স-কারাকোরাম ট্রাক্ট অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত। তাই বলা চলে কাশ্মীরের দুটি অংশ। একটি ভারতশাসিত জম্মু কাশ্মীর এবং অন্যটি পাকিস্তান অধিভুক্ত আজাদ কাশ্মীর। কাশ্মীরে পর্যটকদের চোখ জুড়ায় শ্রীনগর, পহেলগাঁও, গুলমার্গ, সোনমার্গ ও কাটরা। তারপরই বলা যায় ডালহৌসি, অমৃতসর, মানালী, কুলু, হিমাচল ও পাঞ্জাব। এসব জায়গা ঘুরে আসতে এক মাসেরও বেশি লম্বা ছুটি বা অবসর থাকা চাই। বানিহাল টানেল কাশ্মীরের সঙ্গে আশ্চর্য যোগসেতু রয়েছে। প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার এই টানেল। টানেলের আগে রয়েছে বেশ কিছু অ্যাভালেঞ্চ জোন। এখান থেকে পাড়ি দিলেই আশ্চর্য এক সবুজে ঢাকা কাশ্মীরের দেখা মিলবে। বনগুলো সেজে আছে পপলার, উইলো গাছ আর সবুজ শস্যক্ষেত। সবুজ গাছের ফাঁকে নীল আকাশ। দূরে রুক্ষ পাহাড়, নিশ্চুপ উপত্যাকা। আর মাইলের পর মাইল পাহাড় টপকেই কাশ্মীর। রোমান্টিক স্বপ্নের ভূস্বর্গ। স্বপ্নরাজ্য। কাশ্মীরের রূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। স্বচ্ছজলের নদী, উঁচু উঁচু বরফে ঢাকা পাহাড়, বনভূমি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মানুষজন সব মিলিয়ে অনন্য সংযোজন এখানে। রয়েছে পিরপাঞ্জাল গিরিশৃঙ্গ তার অন্যদিকেই কারাকোরাম নাঙ্গা পর্যন্ত। আর তার আড়ালে কাশ্মীর। গোলাপি, সাদা রঙের সরষে আর পপি ফুলে সারা গ্রীষ্ম ঝলমল প্রতিবছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা নিশাত, শালিমার, হারওয়ান, মুঘল গার্ডেন এবং চশমাশাহি দেখতে ভিড় করেন কাশ্মীরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং তুষারপাতের কারণে পর্যটকদের কাছে আলাদা কদর আছে কাশ্মীরের। কাশ্মীরের ইতিহাস বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের (মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া) ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরকে 'কাশ্মীর উপত্যকা' নামে অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে কাশ্মীর বলতে একটি তুলনামূলক বৃহৎ অঞ্চলকে বোঝায়। বর্তমান ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য (যেটি জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখের সমন্বয়ে গঠিত), পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলদ্বয় এবং চীন-নিয়ন্ত্রিত আকসাই চিন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট অঞ্চলদ্বয় বৃহত্তর কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত।

পঞ্চম শতাব্দীর পূর্ববর্তী সময়ে কাশ্মীর প্রথমে হিন্দুধর্ম এবং পরে বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে নবম শতাব্দীতে কাশ্মীরে শৈব মতবাদের উত্থান ঘটে। ত্রয়োদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরে ইসলাম ধর্মের বিস্তার ঘটে এবং শৈব মতবাদের প্রভাব হ্রাস পায়। কিন্তু তাতে পূর্ববর্তী সভ্যতাগুলোর অর্জনসমূহ হারিয়ে যায় নি, বরং নবাগত ইসলামি রাজনীতি ও সংস্কৃতি এগুলোকে বহুলাংশে অঙ্গীভূত করে নেয়, যার ফলে জন্ম হয় কাশ্মিরি সুফিবাদের।১৩৩৯ সালে শাহ মীর কাশ্মীরের প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হন এবং শাহ মীর রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী পাঁচ শতাব্দীব্যাপী কাশ্মীরে মুসলিম শাসন বজায় ছিল। এর মধ্যে মুঘল সম্রাটরা ১৫৮৬ সাল থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত এবং আফগান দুররানী সম্রাটরা ১৭৪৭ সাল থেকে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত কাশ্মীর শাসন করেন। ১৮১৯ সালে রঞ্জিত সিংহের নেতৃত্বে শিখরা কাশ্মীর দখল করে। ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ—শিখ যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট শিখরা পরাজিত হয়। এরপর অমৃতসর চুক্তি অনুসারে জম্মুর রাজা গুলাব সিংহ অঞ্চলটি ব্রিটিশদের কাছে থেকে ক্রয় করেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ