Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ণ

গৌড় গোবিন্দের (সিলেট) গোপন সুড়ঙ্গ পথ!!

গৌড় গোবিন্দের (সিলেট)গোপন সুড়ঙ্গ পথ!!
=============================

কথিত আছে যুদ্ধে পরাজিত হবার পর,গৌড় গোবিন্দ এই গোপন সুড়ঙ্গ পথ ধরে পালিয়ে যান, অতীতে যদিও এখানে ৫টি সুড়ঙ্গ পথ ছিল কিন্তু বর্তমানে বালি ভরাট হওয়ার কারনে ২টি টিকে আছে।
অতীতে এখানে প্রবেশ করে মানুষ মারা গিয়েছে সম্ভবত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে, ব্রিটিশ পিরিয়ডে এখানে ১ টি কুকুরকে পাঠালে কুকুরটি আর ফিরে আসেনি, এছাড়া এখানে বহু বছর আগে ২ জন পৃথক অনুসন্ধানী প্রবেশ করলে ফিরে আসেনি।
উল্লেখ্য, গৌড় গৌড় গোবিন্দ ১৩০০ শতকের শ্রীহট্ট(সিলেট) অঞ্চলের খণ্ডরাজ্য গৌড়ের শাসক ছিলেন। রাজা গৌড় গোবিন্দ হিন্দু ধর্ম পালনে ছিলেন কঠোর। অন্য ধর্মের প্রতি ছিলেন খুবই অশ্রদ্ধাশীল ও অসহিষ্ণু। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুসারে তুর্কিদের বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে শ্রীহট্টে(সিলেটে) মুসলমান জনবসতি গড়ে ওঠে। সিলেটের টুলটিকর মহল্লায় মুসলমানরা বসতি গড়েছিলেন। সিলেট অঞ্চলে তখনো অল্প কিছু নাগরিক ছিল মুসলিম। এর মধ্যে ছিলেন শেখ বুরহান উদ্দিন নামে একজন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক। কিন্তু তার কোনো সন্তান ছিল না। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন একটা সন্তানের জন্য। মানত করেছিলেন সন্তান হলে আল্লাহর উদ্দেশ্যে গরু জবাই করে প্রতিবেশীদের খাওয়াবেন। এক সময় তার প্রার্থনা কবুল হয়। বুরহান উদ্দিনের ঘরে জন্ম নিল একটি পুত্রসন্তান। মানত অনুযায়ী গরু জবাই করেছিলেন। কিন্তু সে খবর গোপন থাকল না, চলে গেল গৌড় গোবিন্দের কানে।
কথিত রয়েছে- একটি কাকের মুখ থেকে এক টুকরো গরুর মাংস গৌড় গোবিন্দের রাজ প্রাসাদে পড়ে। এরপরই গরু জবাই হওয়ার কথা জানাজানি হয়। গৌড় গোবিন্দ খুঁজে বের করে গ্রেফতার করলেন বুরহান উদ্দিনকে। তিনি সন্তানের জন্য গরু জবাই করেছেন শুনে রাজা গৌড় গোবিন্দ বুরহান উদ্দিনের শিশু সন্তানকে এনে হত্যা করলেন। যে হাত দিয়ে বুরহান উদ্দিন গরু জবাই করেছেন সে হাত কেটে দিলেন।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের নতুন ভবনের পেছনের টিলাই রাজা গৌড় গোবিন্দের অন্যতম দুর্গ। সুউচ্চ টিলার উপর দুর্গটির অবস্থানের কারণে এটি নাম রাখা হয়েছে ‘টিলাগড়’। এখানে এখনো একটি ফটক ও ভবনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ টিলাগড়ের নামেই বৃহত্তর ওই এলাকার নাম হয়েছে টিলাগড়। তবে এটি রাজা গৌড় গোবিন্দের দুর্গ হলেও বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। অনেকের কাছে এটি একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পরিচিত।
রাজা গৌড় গোবিন্দের প্রধান দুর্গগুলোর অন্যতম ছিল পেঁচাগড়। পেঁচাবাশ দিয়ে ঘেরা অত্যন্ত সুরক্ষিত এ দুর্গটি সিলেট থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কালাগুল চা বাগানে অবস্থিত। খাদিমনগর চা বাগানের কিছুটা দূরেই পেঁচাগড় দুর্গের অবস্থান। রাজা গৌড় গোবিন্দের বিনোদন নিবাস বা বিলাসভবন ছিল এটি। এ ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও একটি কূপ এখনো রয়েছে। কূপটি রাজার বংশধর অর্থ্যাৎ লালেংদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। দুর্গম এলাকা হওয়ায় খুব সহজে যাতায়াত করা যায় না। এছাড়া রাজার বিলাস ভবনের ধ্বংসাবশেষটি অনেকের কাছে একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ বলে পরিচিত।
কথিত আছে ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (রহ) এর সিলেটে আগমনের খবর পেয়ে অত্যাচারী ও জাদুবিদ্যায় পারদর্শী রাজা গৌড় গোবিন্দ তার সৈন্যবাহিনীসহ পেঁচাগড় গিরিদুর্গের সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নিরুদ্দেশ হয়ে যান, আর ফিরে আসেনি।
তথ্যঋণঃ Zahir Raihan.
ইতিহাস ও মিথলজি 

প্রতিবেদনটি -ফুরকান উদ্দিন স্যারের ওয়াল থেকে নেয়া


মন্তব্য করুন