Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ শুমারি কি হচ্ছে এ বছর?

বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে আদমশুমারী নাম পরিবর্তন হয়ে ২০২১ সালে হওয়ার কথা জনশুমারী ও গৃহায়ণ গননা/২০২১.

বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ (Vision - 2021) এর অন্যতম লক্ষ্যে হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের অন্যতম শক্তি হলো পরিসংখ্যান ও তথ্য প্রযুক্তি। সে বিবেচনায় পরিসংখ্যান বিভাগ (Statistics Division) এর নাম পরিবর্তন করে একে Statistics  & Informatics Division  করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগ পুনঃ প্রতিষ্ঠার পর হতে দেশের পরিসংখ্যান কার্যক্রমে গতি সঞ্চার হয়েছে। এতোমধ্যে দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান কাউন্সিলে উত্থাপিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে  শক্তিশালী করার প্রস্তাব সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। ফলে দেশের পরিসংখ্যান ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে। এত দিন পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাঠ পর্যায়ে মাত্র ২৩ টি আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অফিস এবং ৪৮১ টি উপজেলা অফিস ছিল, বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬৪ টি জেলায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এবং ৭ টি বিভাগে বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি উপজেলা প্রথম শ্রেণীর পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমতি পাওয়া গেছে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে পরিসংখ্যানের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও মাঠ পর্যায়ে জনশক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে।  ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত দেশের পঞ্চম আদম শুমারি এবং ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত খানার আয় ব্যয় নির্ধারণ জরিপে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে এবং বিশ্লেষণে অত্যন্ত সাফল্য জনক ভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে আদম শুমারির প্রাথমিক ফলাফল ৩ মাসের মধ্যে ও খানার আয়-ব্যয় নির্ধারণ জরিপের ফলাফল মাত্র ৫ মাসের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। দক্ষিন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার দেশ সমূহের জন্য এটি একটি মাইল ফলক হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। আদমশুমারি ২০১১ এর কমিউনিটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ এর লিস্টিং অপারেশন এবং মূল শুমারির গণনা কার্যক্রমে ‘তালিকাকারী/গণনাকারী ও সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগের লক্ষ্যে এলাকায় বসবাসকারী বেকার যুবক/যুব মহিলাদের নিকট হতে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছে। ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ এর লিস্টিং অপারেশন করোনার কারণে পিছিয়ে সেপ্টেম্বর  ২০২১ খ্রি: থেকে। লিস্টিং অপারেশন (ফেব্রুয়ারি/২০২০ মাসে) কার্যক্রমে প্রতি তালিকাকারী ১০ (দশ) দিনে মোট ৪০০ (কম/বেশী) খানার তালিকা করবেন, মূল শুমারিতে (২-৮ জানুয়ারি-২০২১) প্রতি গণনাকারী ০৭ (সাত) দিনে মোট ১২০ (কম/বেশী) খানার তথ্য সংগ্রহ করবেন। একজন সুপাভাইজার ৫-৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর কাজ তদারকীর দায়িত্বে থাকবেন। শুমারি কর্মীগণ সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে লিস্টিং অপারেশন/ মূল শুমারি চলাকালীন সময়ের জন্য নিয়োজিত থাকবেন তাও নিশ্চিত হয়েছে।

দেশে বর্তমান জনসংখ্যা কত, তা জানার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। করোনা পিছিয়ে দিচ্ছে জনসংখ্যা গণনা। করোনার কারণে তা প্রায় এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, থাইল্যান্ড, বাহরাইন, কাতার ও চীনে চলতি বছর জনশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে দেশগুলো তা স্থগিত করেছে। ওই সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও জনশুমারি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিবিএস।

করোনা পরিস্থিতির যদি উন্নতি হয়, সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের ৪ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী জনশুমারি করতে চায় বিবিএস। জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন সময় চূড়ান্ত করতে শিগগিরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সঙ্গে বৈঠক করবেন বিবিএসের নীতিনির্ধারকেরা।

গত বছর ২৯ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনশুমারি ও গৃহগণনার জন্য ২ থেকে ৮ জানুয়ারি সময় ঠিক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ভেস্তে গেছে সব পরিকল্পনা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালের মধ্যেই শুমারি পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি যদি উন্নতি না হয়, তাহলে সেটি পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেও চলে যেতে পারে। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারির হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৫ লাখ।

বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে গত মার্চে করোনা সংক্রমণের পর থেকে জনশুমারির মাঠপর্যায়ের কাজ স্থগিত হয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে গণনা এলাকা ভাগ করা, গৃহগণনার জন্য ম্যাপ করা, লোকবল নিয়োগ, খানার তালিকা প্রস্তুত, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা হয়নি। গণমাধ্যমে ছিল না কোনো বিজ্ঞাপন। এ অবস্থায় জানুয়ারিতে যদি জনশুমারি করা হয়, তাহলে সেখানে জনসংখ্যার সঠিক তথ্য না আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন