সহকারী শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২১ ০২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। এ বছর শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক’। বিশ্বের সব শিক্ষকের অবদান স্মরণ করার জন্য ইউনেস্কোর আহ্বানে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) উদ্যোগে আজ রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে শিক্ষকদের মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। এতে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থান করবেন স্বাশিপ সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস জাতীয় উদযাপন কমিটি সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে মূল বক্তব্য পাঠ করবেন বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সমন্বয়ক অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ও মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান এবং র্যালির আয়োজন করেছে।দিবসটি শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। বিশ্বের ১০০ টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এই দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহযোগী ৪০১ টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে।
এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল মনে করে জাতীয় স্তরে সমগ্র বিশ্বেই একটি বিশেষ দিনকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরী ; যেটি সমাজ সংস্কার শিক্ষায় শিক্ষকদের উপযুক্ত মান্যতা দান করার যোগ্য দিন। শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শুরু থেকে বাংলাদেশ এ দিবসটি পালন করে আসছে। যদিও সরকারিভাবে এখনবোধি দিবসটি উদযাপিত হয়নি। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দিবসটি পালন করে থাকে। ইউনেস্কোর মতে, ‘ বিশ্ব শিক্ষক দিবস‘ শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পালন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকতাকে এখনো পেশা হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরী হয়ে উঠেনি। রাষ্ট্র এখনো শিক্ষকতাকে ‘ব্রত‘ হিসেবে দেখতে চায়। তাই রাষ্ট্রের দেয়া বাজেটে শিক্ষকতা পেশায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ দেখা যায় না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দেশে শিক্ষকের মর্যাদা নেই। রাষ্ট্র চায় শিক্ষকরা কোন রকমে খেয়ে পড়ে রাষ্ট্রের জন্য নিবেদিত প্রান দায়িত্ব পালন করুক। বাংলাদেশের শিক্ষকরা তা করে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষকরা যেমনই থাকুক, প্রতিবছর অসাধারণ সব প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ‘ বিশ্ব শিক্ষক দিবস‘ উদযাপিত হয়।
২০১৭ সালে এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ”স্বাধীনভাবে পাঠদান, শিক্ষক হবেন ক্ষমতাবান” ২০১৮ সালে এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “শিক্ষার অধিকার মানেই একজন যোগ্য শিক্ষকের অধিকার“। ২০১৯ সালে এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “তরুন শিক্ষক, পেশার ভবিষ্যত“ । ২০২০ সালে ও এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় " শিক্ষকঃ সংকটে নেতৃত্ব, নতুন করে ভবিষ্যতের ভাবনা"। এ দিবসে শিক্ষকদের মহত্তম পেশার প্রতি পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাই যেন শ্রদ্ধায় নুইয়ে পড়ে। শিক্ষকদের প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়ার লঙ্কাকান্ড ও হয়। মিডিয়াগুলোতে শিক্ষকদের সম্মানে ক্রোড়পত্র, বিশেষ সম্পাদকীয় নিবন্ধ ছাপা হয়। শুধু দু:খটা একটাই শিক্ষকদের আক্ষেপটা কেউ বুঝবে না।
রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়; যা আমাদের দেশে নেই। চীনে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে ডক্টর উপাধিপ্রাপ্ত শিক্ষকের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান বা মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অনেক উপরে। শ্রীলঙ্কায় শিক্ষকদের মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রধান করা হয়।
ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, ভারতরত্ন উপাধিপ্রাপ্ত, ১ম উপরাষ্ট্রপতি এবং ২য় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ও বলেছিলেন, আমি গর্বিত হব দেশের সমস্ত শিক্ষকের উদ্দেশ্যে যদি একটি শিক্ষক দিবস পালন করা হয়“। তাই ভারতে শিক্ষক দিবসে সকল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষক- শিক্ষিকাদের আশির্বাদ নেয়, মিষ্টিমুখ করায়, বিভিন্ন উপহার দেয়। জাপানের একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে “Better than a thousand days of delight study is one day with a great teacher." গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলে গিয়েছেন, ‘যারা শিশুদের শিক্ষাদানে ব্রতী তাঁরা অভিভাবকদের থেকে ও অধিক সম্মাননীয়’।
এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন; সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা এখন সময়ের দাবি। বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের ঘোষনা দিয়েছিলেন। জাতীর ভাগ্যাকাশে কালো মেঘ নেমে আসে বঙ্গবন্ধুর জগন্যতম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে। এখন ওনার অসমাপ্ত কাজ ওনার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উচিত মুজিব বর্ষেই বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
ছাত্র জীবনে আজকের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ঢাবির বাংলা বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন। সেই হিসেবে ঢাবির বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা সবাই তার সরাসরি শিক্ষক। তাদের মধ্যে প্রয়াত প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, জীবন্ত কিংবদন্তি প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। শিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওনার শিক্ষকদের যথাযোগ্য মর্যাদা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বইমেলা উদ্বোধনকালে দেশবাসী আরো একবার প্রত্যক্ষ করেছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে আসেন; সেখানে লালগালিচা থাকে। বইমেলা উদ্বোধনী মঞ্চে ওঠা নামার পথেও লালগালিচা দেয়া ছিল। কিন্তু তিনি সেই লালগালিচা ব্যবহার করনেনি কারণ পাশে ছিলেন তার শিক্ষক এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রয়াত ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এ দেশের সকল শিক্ষকদের পক্ষে আমার প্রত্যাশা রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের আপামর জনগণের কল্যানার্থে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষনা দিবেন।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য