সহকারী অধ্যাপক
১২ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
দরুদ পাঠ এর ফযিলত সংক্রান্ত
কয়েকটি হাদীস:-
''নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ্) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার উপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।''
(পবিত্র কোরআন-২২ পারা, সূরা আহযাব- রুকু-৭, আয়াত-৫৬)।
এ আয়াতে যেহেতু আল্লাহ তায়ালা দরুদ পাঠের হকুম এরশাদ করেছেন তাই জীবনে একবার হলেও দরুদ পাঠ করা ফরয। আর যখনই নবী করিম (সাঃ) এর নাম মোবারক আমরা উচ্চারন করি কিংবা অন্য কেহ উচ্চারন করে আমরা নবী করিম (সাঃ) এর নাম মোবারক শুনতে পাই তখন দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব। যেমন আযানে (আশহাদুআন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ) শুনে ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াছাল্লাম বলা ওয়াজিব। আর যদি কোন মজলিশে বার বার নবীর জিকির হচ্ছে সেখানে হকুম হল প্রথম বার নবীর নাম শুনে দরুদে পাক পড়া ওয়াজিব। আর সে মজলিশে যতবার নাম মোবারক শুনবেন ততবার দরুদ পাঠ পড়া মুস্তাহাব।
ওয়াজিব ও ফরয তরক করলে গুনাহ হয় আর মুস্তাহাব তরক করা গুনাহ নয় তবে ফযিলত থেকে বঞ্চিত হবে। সুতরাং কোন মাহফিলে অসংখ্য বার নবীর নাম উচ্চারন হলে সেখানে যদি আমরা একবারও দরুদ না পড়ি তাহলে ওয়াজিব তরক হওয়ার কারনে গুনাহগার হব। আর যদি প্রথমবার পাঠ করে নিয়ে বাকী সময় না পড়ি তাহলে গুনাহগার হব না তবে ছাওয়াব থেকে বঞ্চিত হব। তাই উত্তম হল ওয়াজিবও পুরন করা এবং মুস্তাহাবের উপর আমল করেও অসীম ছাওয়াব হাছিল করা।
এবার আসুন সুরা আহযাবে যে বলা হয়েছে আল্লাহর দরুদ ও ফেরেশতাদের দরুদ এটা কোন ধরনের দরুদ তা জানা যাক-
মনে রাখবেন যদি দরুদ এর সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করা হয় তখন দরুদ এর অর্থ হবে রহমত নাযিল করা। অথ্যাৎ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় মাহবুবের প্রতি রহমত নাযিল করেন, রহমত প্রেরণ করেন।
আর যখন এর সম্পর্ক ফিরিশতাদের প্রতি করা হয় তখন এর অর্থ বুঝতে হবে যে দোয়ায়ে মাগফিরাত করা। অথবা ফেরেশতাদের দরুদ পাঠ করার অর্থ হল, হুযুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উচ্চ মর্যাদা আরো বৃদ্ধি হওয়ার জন্য দোয়া করা।
আর দরুদ এর নিছবত যখন সাধারণ মানুষের দিকে করা হয় তখন এর অর্থ হবে রহমতের দোয়া করা।
সুতরাং এ আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় এমন যে- নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার হাবিব (সাঃ) এর রহমত নাযিল ফরমান। আর ফেরেশতারা তার জন্য মাগফেরাত তলব করেন। হে ঈমানদারগন তোমরা এ নবী করিম এর জন্য রহমত ও খুব বেশী ছালামতির দোয়া কর।
এবার আসুন দরুদ পাঠ এর ফযিলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস জেনে নিই-
১।মেশকাত শরীফ এর হাদীস- রাসূলে পাক (সাঃ)এরশাদ করেন, ''যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ পাক তার উপর দশটি রহমত অবতীর্ণ করবেন।
২।নাসায়ী শরীফের হাদীস- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন, ''যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ প্রেরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাহার প্রতি দশবার রহমত নাযিল করবেন এবং তাহার দশটি গোনাহ মাফ করা হবে, আর তাহার মর্যাদা দশগুণ উচ্চ করা হবে।
৩। নাসাঈ শরীফের অপর বর্ণনায় আছে- হযরত আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন যে, রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আমার উম্মতের যে কোনো লোক যদি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ্ পাক তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন, দশটি উচ্চ মর্যাদা দান করন, আমলনামায় দশটি নেকি লেখা হয় এবং দশটি গুনাহ মাফ করে দেন।
৪। বায়হাকী শরীফের হাদীস- হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার কবরের নিকট আমার উপর দরুদ পাঠ করবে, আমি তা নিজ কানে শুনবো, আর যে ব্যক্তি আমার উপর গায়েবানা (অর্থাৎ দূরে থেকে) দরুদ পাঠ করবে, তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়া হবে।
৫।নাসায়ী ও দারমী শরীফের হাদীস- হযরত রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন, ''আল্লাহ্ তায়ালার বহু ফেরেশতা যমীনে ভ্রাম্যমাণ রয়েছে, যারা আমার নিকট আমার উম্মতের পক্ষ থেকে তাদের সালাম পৌঁছে দেয়।
৬।মুয়াত্তা শরীফের হাদীস- হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ''কোনো ব্যক্তি দরুদ শরীফ পড়া মাত্র একজন ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা আমার দরবারে উপনীত হয়ে খবর দেয়, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! অমুকের সন্তান অমুক আপনার উপর এত মোর্তবা দরুদ শরীফ পাঠ করেছেন। অমনি আমি ও তার ওপর ঠিক তত মোর্তবা দরুদ পাঠ করি। অতঃপর সেই ফেরেশতা আল্লাহর দরবারে আরজি পেশ করে- হে মাবুদ! অমুকের সন্তান অমুক আপনার হাবীবের ওপর এত মর্তবা দরুদ পাঠ করেছেন। তৎক্ষণাৎ আল্লাহ্ পাক তাকে জানিয়ে দেন, ''উত্তম কিরামান ও কাতেবীনকে বলে দাও, তার প্রত্যেক মোর্তবা দরুদ পাঠের পরিবর্তে যেন তার আমলনামা থেকে দশটি করে গোনাহ্ কেটে দেয় এবং আমার তরফ থেকে প্রত্যেক কাটা স্থানে দশটি করে নেকী লিখে রাখে।
৭। তিরমিযি শরীফের হাদীস- হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূলে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ''সেই ব্যক্তি কৃপণ, যার সম্মুখে আমার নাম উল্লেখ হয়, অথচ সে আমার নামে দরুদ পাঠ করে না।
৮।তাবারানী শরীফের হাদীস- হযরত আবু দাররা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ''যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা আমার ওপর দশবার দরুদ পড়বে সে কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করবে।
৯।মুসলিম শরীফের হাদীস- হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ওযু করে আদবের সাথে বসে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে, আল্লাহ্তায়ালা তাহার ওপর দশবার দরুদ প্রেরণকরেন। যদি আমার ওপর কেউ দশবার দরুদ পাঠ করেন তবে আল্লাহ্তায়ালা তার ওপর একশতবার দরুদ প্রেরণ করেন। কেউ একশত বার আমার ওপর দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ্পাক তার উপর একহাজার বার দরুদ শরীফ প্রেরণ করেন এবং তার জন্য বেহেশত হালাল ও দোযখ হারাম করে দেন।
১০।(তিরমিযী শরীফের হাদীস হযরত ইবনে মাস্উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উপর সর্বাধিক দরুদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে আমার সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে।
১১।তিরমিযি শরীফের হাদীস হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু
বর্ণনা করেন, একদা আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি আপনার নামে অধিক পরিমাণে
দরুদ পাঠ করি; অতএব দরুদ পাঠের জন্য আমি কতটুকু সময় নির্দিষ্ট করব?
হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, ''যতটুকু তুমি চাও। আমি বললাম, ''এক চতুর্থাংশ সময়। হযরত ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ''যতটুকু তুমি চাও; আর যদি আরও বেশি কর, তবে তোমার জন্য
ভালো হবে। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
যতটুকু তুমি চাও' আর যদি আরও বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য ভালো হবে। আমি বললাম
তবে দুই তৃতীয়াংশ সময়। হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যতটুকু তুমি
চাও আর যদি আরও বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য ভালো হবে। আমি বললাম, আমি আপনার উপর
দরুদ পাঠের জন্য আমার সমুদয় সময় নির্দিষ্ট করব। হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তোমার যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার
দ্বীন ও দুনিয়ার সকল উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে আর তোমার সমস্ত গোনাহ্ মাফ হবে।
(তিরমিযী)
১২। মুসলিম শরীফের হাদীস- রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার সুপারিশের পূর্বে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না কিন্তু যারা আমার ওপর সব সময় দরুদ শরীফ পাঠ করেছে, তারা আমার সুপারিশের পূর্বেই জান্নাতে চলে যাবে। তাদের জন্য আমার কিছুমাত্র সুপারিশের প্রয়োজন হবে না। (মুসলিম শরীফ)
১৩। অপর এক হাদীসে আছে- নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন যদি তুমি কোন কিছু ভুলে যাও তাহলে আমার উপর দরুন পাঠ কর ইনশা আল্লাহ সে ভুলে যাওয়া জিনিষ তোমার মনে পড়ে যাবে।
আপনারা নিজেরাই পূণ বিশ্বাসের সাথে এ হাদীসের উপর আমল করতে পারেন, ধরুন আপনি ঘরে কোন কিছু কোথাও রেখেছেন পরে ভুলে গেছেন তখন আপনি আন্তরিকতার সাথে দরুদে পাক পাঠ করতে থাকুন দেখবেন আপনার মনে হবে কেউ যেন আপনার কানে কানে এসে বলে দিল যে তুমি অমুক জায়গায় বস্তুটি রেখেছ।
তেমনিভাবে যে সব ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষার্থী তারা পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্ন আসার সাথে সাথে ১১ অথবা ১২ বার দরুদ পাঠ করলে এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১১/১২ বার দরুন পাঠ করলে ইনশা আল্লাহ পরীক্ষা ভাল হবে। অনেকে পরীক্ষার হলে গিয়ে মুখস্থ পড়া ভুলে যায় সে সমস্যাও ইনশা আল্লাহ দরুদে পাকের বরকতে সমাধান হয়ে যাবে।
১৪। অভাব দুর করার জন্য সবচেয়ে আফযল অজিফা হল দরুদে পাক পাঠ করা। নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন আমার উপর ৫০০ বার দরুন পাঠ করবে তাঁর সকল অভাব অনটন দুর হয়ে যাবে।
১৫। অপর এক রেওয়ায়েতে আছে নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন যখনই তোমাদের কোন পেরেশানি আসে তখন তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরুদ পাঠ কর তাহলে আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালা তোমাদের পেরেশানি দুর করে দিবেন। আর বেশী দরুদ এর সংখ্যার ব্যপারে ওলামায়ে কেরাম বলেন ৩০০ বার অথবা ৩১৩ বার। অথ্যাৎ কেহ দিনে ৩ শত বা ৩১৩ বার দরুদ পাঠ করে তাহলে সে অধিক দরুদ পাঠকারী হিসেবে গণ্য হবে।
১৬। অপর এক রেওয়ায়েতে আছে নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি প্রতিদিন হাজার বার দরুদ পাঠ করে সে ততক্ষন মৃত্যু বরণ করবে না যতক্ষন নিজের স্থান জান্নাতে দেখতে না পাবে। হাদীসের ব্যখ্যাকারী গণ বলেন এটা মুলত জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ।
১৭। অপর এক রেওয়ায়েতে আছে নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন- আমি স্বপ্নে দেখলাম আমার এক উম্মত পুলসিরাতে এসেছে। আর সে পুলসিরাত পার হচ্ছিল হঠাৎ তার পা কেঁপে উঠল। এমন সময় সে পুলসিরাত থেকে জাহান্নামে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হল। এমন সময় সে দুনিয়ায় মহব্বতের সাথে আমার উপর যে দরুদ পাঠ করেছিল সে দরুদ এসে উপস্থিত হয়ে গেল আর সে উম্মতের হাত ধরে তাঁকে পুলসিরাত পার করে দিল।
১৮। ইমাম কস্তুলানি (রহঃ) যিনি সহিহ বুখারীর শরাহ লিখেছেন তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব মাওয়াহেবে লুদুন্নিয়া নামক কিতাবে তিনি একটি চমৎকার হাদীস নকল করেন তা হল
একদা রাসূলে
পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে বসেছিলেন। এ সময় চারজন প্রধান
ফেরেশতা এসে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায়
দেখে প্রশ্ন করলেন, ''হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কী চিন্তা করছেন? রাসূলে পাক
ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ''আমার উম্মতের চিন্তা করছি, কীভাবে
তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে নেওয়া যায়। এই কথা শুনে
প্রথম ফেরেশতা আজরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ''আপনার ওই উম্মত যে সকালে দশবার
এবং সন্ধ্যায় দশবার আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করবে, আমি মৃত্যুর সময় তার জান
সম্মান ও ইজ্জতের সাথে সহজে কবজ করব।
দ্বিতীয় ফেরেশতা ইসরাফিল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপনার যে উম্মত সকাল-সন্ধ্যা
দশবার করে আপনার উপর দরুদ ও সালাম ভেজবে, আমি তার জন্য হাশরের ময়দানে আল্লাহর
আরশের নিচে সেজদারত অবস্থায় তার জন্য গুনাহ মাফির জন্য প্রার্থনা করব এবং
প্রার্থনা কবুল না হওয়া পর্যন্ত সেজদা থেকে মাথা তুলব না।
তৃতীয় ফেরেশতা মিকাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপনার যে উম্মত প্রাতে দশবার
এবং সন্ধ্যায় দশবার আপনার প্রতি দরুদ ও সালাম জানাবে, আমি হাশরের ময়দানে তাকে নিজ
হাতে হাউজে কাউসারের পানি পান করাব।
চতুর্থ ফেরেশতা জিব্রাঈল আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূলে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-এর বাহু ধরে বললেন, অনুরূপ দরুদ পাঠকারীকে আমি এভাবে পুলসিরাত পার করে
জান্নাতে পৌঁছে দেবো।
মোটকথা হাদীস শরীফের দ্বারা সংক্ষেপে দরুদ পাঠের যে সব ফযিলত চোখে পড়ার মত তা হল-
দরুদ শরীফ পাঠে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। সর্বাবিধ বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়। দেহ রোগমুক্ত থাকে। স্বাস্থ্য অটুট হয়। হায়াত বৃদ্ধি পায়। যাবতীয় অভাব-অভিযোগ মোচন হয়। ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণসহ দ্বীন-দুনিয়ার সকল মক্বসূদ হাসিল হয়। নিয়মিত বেশি বেশি দরুদ পাঠকারীর হাশরের মাঠে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ প্রাপ্তি ও মুক্তি লাভের আশা করা যায়। দরুদ শরীফ পাঠের সর্বাপেক্ষা স্বাদের ও মধুর বিশেষত্ব এই যে, দরুদ শরীফ পাঠের উছিলায় পাঠক উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। তার সমগ্র জীবনের সকল প্রকার গুনাহ্ মাফ হয়ে যায় এবং স্বপ্নযোগে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দীদার নছিব হয়। অর্থাৎ জিয়ারত বা দর্শন লাভ হয়। আর সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য দোযখ হারাম এবং বেহেস্ত অনিবার্য হয়ে যায়।
৫৩
৯১ মন্তব্য