সহকারী শিক্ষক
২০ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:৩১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মানবশিশু জন্মগতভাবেই সৃজনশীল। এ সৃজনশীলতার জন্যই অন্য প্রাণী থেকে সে আলাদা- সৃষ্টির সেরা। জন্মের সময় একটি শিশুর কাছে এ পৃথিবী সম্পূর্ণ নতুন এক জগৎ। এর সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ প্রবল। এ আগ্রহ থেকেই শুরু হয় নতুনকে জানা এবং নতুন কোনো কিছু করা। আগ্রহ প্রকাশের এবং জানার পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে শিশুর সুপ্ত সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। ভবিষ্যতে সে হয়ে উঠবে জাতির জন্য জনসম্পদ_ সৃষ্টিশীল সফল মানুষ। তার নতুন উদ্ভাবন মানব সভ্যতাকেও উন্নত করতে পারবে।
শ্রেণিকক্ষে কোনো শিশু নানা রকম অবান্তর প্রশ্নও করতে পারে। কিন্তু জানার শুরুতেই যদি “চুপ করে আমার কথা শোনো, কোনো প্রশ্ন করা যাবে না”__ এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শিশুর জ্ঞানের পথকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মে চিন্তার দৈন্য এসে ভর করবে। চিন্তার স্বাধীনতা ছাড়া একটি জাতির মুক্তি পুরোপুরিভাবে সম্ভব নয়। এ মুক্তি মানে সাংস্কৃতিক মুক্তি। যে সংস্কৃতি সকল রকম অপসংস্কৃতিকে রোধ করবে। তার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে অর্থচিন্তায় আমাদের অভিভাবকগণ নিবিষ্ট রয়েছেন। যার ইতিবাচক ফলাফলও আমরা পাচ্ছি। তাই এখন কেবল শিশুর মানসিক বিকাশ তথা সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের দিকেই ফিরে আসি।
প্রত্যেক শিশুর ভিতরেই কোনো না কোনো প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সবটা আমাদের বোধগম্য হয় না। তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশকে অবারিত করে দিতে পারলেই সৃজনশীল মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটবে।
আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাক্রমকে শিশুবিকাশে সহায়ক করেই সাজানো হয়েছে। সাথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সফল বাস্তবায়ন। এ কাজটি প্রত্যক্ষভাবে করে থাকেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আদর্শ শিক্ষক শিশু সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখেন বলে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে তাদেরকেই শিশুর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। যোগাযোগ রাখতে হবে শিশু-শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথেও। শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে নিজেকে সচেতন থাকতে হবে এবং শিশুর পরিবারের সদস্যদের মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক অথবা অন্য কোনো যোগাযোগের মাধ্যমে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশুর সার্বিক উন্নতি ঘটে থাকে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলা আর বিনোদনও শিশুর অধিকার। তাই শিশুর অবসরে নিরাপদ খেলারমাঠও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্য ইত্যাদি কাজেও উৎসাহিত করতে হবে। কেবল মুখের বুলিতেই নয়, পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় সরবরাহ করেই সেটা করতে হবে। পিঠে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে, তোতাপাখির বিদ্যা গিলিয়ে যন্ত্রমানব তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
একজন সৃজনশীল মানুষ আর যাই হোক, অন্ততঃ মানুষের অকল্যাণ করেন না। আবার নীতিবিবর্জিত কোনো মানুষকে আমরা চরিত্রবান ও আদর্শ সৃজনশীল বলতে পারি না। তাই শিশুকাল থেকেই দিতে হবে নৈতিক শিক্ষা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তার চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন অন্যায়-অবিচার-অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। আমাদের শিশুদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক চরিত্র উন্নত হলেই সমাজ থেকে দূর হয়ে যাবে সকল অন্যায় ও অপসংস্কৃতি। পরিপূর্ণভাবে গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধ-সৃজনশীল বাংলাদেশ।
তাই শিশুর শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই,
আজ যারা ঘরে ঘরে সুপ্ত মুকুল সকলে ফুটুক তারা সুরভিত ফুল। যতনে-অবজ্ঞায় শিশু আছে যত সবারে ফোটাবো ফুলে- এই হোক ব্রত। স্বপ্নগাঁথায় সাজিয়ে জীবন ডালা--- আঁধার পেরিয়ে নতুনের পথচলা।
৭১
১৪৫ মন্তব্য