Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ অক্টোবর, ২০২১ ০৬:৪২ অপরাহ্ণ

কাপ্তাই দেখার মতো রাম ও সীতা পাহাড়

কাপ্তাইয়ের হিন্দু তীর্থ রাম ও  সীতা পাহাড়

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই  উপজেলায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাম পাহাড় ও সীতা পাহাড়। হিন্দু পুরাণ মতে, দেবতা রাম ও সীতার স্মৃতিবিজড়িত রাম পাহাড় ও সীতা পাহাড় কালের সাক্ষী হয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। এই দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কর্ণফুলী নদী।   দু’পাশে দুই পাহাড়, মাঝখানে খরস্রোতা নদী, এমন দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়া পেতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও পর্যটক এখানে আসেন।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, রাজা দশরথের প্রথম পক্ষের সন্তান রাম। দশরথের দ্বিতীয় স্ত্রী কৈকেয়ী নিজপুত্র ভরতকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী বানাতে ষড়যন্ত্র করে রামকে ১২ বছরের জন্য বনবাসে পাঠান। পতিভক্ত সীতা ও ছোট ভাই লক্ষণও রামের সাথে বনবাসে যান। বনবাসে যাবার পর রাম দৈববাণী পান যে, তারা কোথাও গেলে স্ত্রী সীতাকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে রাখতে হবে, এর বাইরে গেলে সীতার বিপদ হবে। নির্দেশ অনুযায়ী সীতাকে গণ্ডির মধ্যে রেখে রাম ও লক্ষণ শিকারে যান। লংকার রাজা রাবনের নজর পড়ে সুন্দরী সীতার ওপর। আগে থেকেই সীতার রূপে মুগ্ধ রাবন তাকে কাছে পেতে ব্যাকুল। আর গণ্ডির ভিতর থাকা সীতাকে কাছে পাওয়া কঠিন হবে ভেবে রাবন ঠাকুরের ছদ্মবেশে সীতার কাছে খাবার চান। সীতা সরল মনে খাবার নিয়ে বাইরে গেলে রাবন যাদুবলে সীতাকে তুলে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে পাহাড়ঘেরা গভীর বনে নিয়ে যান। সেখানেও রাবনের মনস্কামনা পূর্ণ হয়নি। সতী নারী সীতা দু’পুত্র নিয়ে কাপ্তাইয়ের গভীর অরণ্যে বাস করতে থাকেন। কালক্রমে এটি সীতা পাহাড় নামে পরিচিতি পায়। সীতা কর্ণফুলী নদীর যে ঘাটে স্নান করতেন, সেটি সীতার ঘাট নামে পরিচিত। এই সীতার  ঘাটে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা-অর্চনা করতে আসেন। এখানে সীতার নামে একটি মন্দিরও স্থাপিত হয়।

হিন্দু পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী রাম-লক্ষণ দু’ভাই সীতাকে রাবনের কবল থেকে উদ্ধার করতে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাশে অবস্থিত গভীর অরণ্যঘেরা পাহাড়ে আশ্রয় নেন এবং  যুদ্ধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন। রাম ও লক্ষণের আশ্রয় নেয়া সেই পাহাড়টি পরে ‘রাম পাহাড়’ নামে পরিচিতি পায়।


মন্তব্য করুন