Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বিজলি বাতি আবিস্কারে আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিশনের ভুমিকা ।

আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় যে আবিস্কারের কল্যাণে রাত প্রায় দিনে রূপান্তরিত হয়েছে সেটি হলো বিজলি বাতি। যার বদৌলতে বিভিন্ন কল কারখানা দিন রাত সচল থাকে ,উৎপাদন প্রায় দ্বিগুন  করতে  প্রয়োজনীয়  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যে বিজলী বাতি,সেটি আবিষ্কৃত হয় ১৮৭৯খৃষ্টাব্দে।

আমেরিকায় টমাস আলভা এডিসন ও ইংল্যান্ডের  স্যার যোশেফ উইলসন স্বান(১৮২৮-১৯১৪)যুগপৎ বিজলী বাতি আবিষ্কার করেন। 

এর অনেক আগে ১৮১১খৃষ্টাব্দে স্যার হামফ্রে ডেভি(১৭৭৮-১৮২৯)আবিষ্কার করেছিলেন দুটি 'মেড়র' এর মধ্যে দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক 'আর্ক'প্রবিষ্ট করিয়ে দিলে আলো পাওয়া যায়।১৮৪১খৃষ্টাব্দে প্যারিসের প্লেস.ডি.লা.কনকর্ডে জনসাধারণের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে আর্কল্যাম্প জ্বালানো হয়।ইউরোপ ও আমেরিকাতেও এ নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়,কিন্তু আর্কলাইট কার্যকরী হয়নি,তার কারণ, কিছুক্ষণ পরেই এটি নিভে যায়।আবিষ্কারক এমন একটি বিজলীবাতির অনুসন্ধান করেছিলেন, যেটি অনেক বাস্তবসম্মত ভাবে পথ ঘাট ও গৃহেস্তের বাড়িতে ব্যবহার করা যায়,অর্থাৎ গ্যাসলাইটের জায়গা নিতে পারে।এর জন্য প্রয়োজন ছিল বাল্বের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিলামেন্টের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করানো এবং কাঁচের বাল্বটিকে অক্সিজেন শূন্য রাখা,কেননা অক্সিজেন ফিলামেন্টকে পুড়িয়ে দেয়।স্বান-ই প্রথম ইলেকট্রনিক বাল্ব তৈরী করেন, কিন্তু বাল্বটি বায়ুশূন্য রাখার ব্যাপারে সমস্যা ছিল তার।এডিসন এই সমস্যার সমাধান করেন।১৮৭৯খৃষ্টাব্দের ২১শে অক্টোবর তিনি একটি কার্বন ফিলামেন্ট লাইট বাল্ব তৈরী করে প্রদর্শন করেন।এই বাল্বটি একটানা চল্লিশ ঘন্টা জ্বলে থেকে ছিল। ১৮৮০সালের শেষদিকে এসিডন ১৬ ওয়াটের বাল্ব তৈরী করেন, এর জ্বলে থাকার ক্ষমতা১৫০০ঘন্টা এবং তিনি এই বাল্ব বিক্রী করার ব্যবস্থা করেন। টমাস আলভা এডিসন কার্যকরী বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি তৈরীর ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রইলেন।১৯১০সালে নিউইয়র্কের জেনারেল ইলেকট্রনিক কোম্পানি টাংগস্টেন ফিলামেণ্ট উদ্ভাবন করেন, এটি বাল্ব এর আয়ু অনেক দীর্ঘ করে দিল।

কিন্তু বিজলি বাতির উন্নয়নের গবেষণা চলমান ছিল। তখনকার বাতিতে অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে আলোর পরিমান কম পাওয়া যেত। অর্থাৎ অনেক বিদ্যুৎ নষ্ট হত। পরবর্তীতে Ed Hammer এনার্জি সেভিং বাল্ব আবিস্কার করে পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দেন। বর্তমানে আমরা আগের চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে বেশি আলো পাচ্ছি। 


মন্তব্য করুন