সহকারী শিক্ষক
২৯ অক্টোবর, ২০২১ ০৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাছি মারা কেরানীর গল্প" খালিদুর রহমান
কেরানীর কর্তব্য হল অফিসের রেকর্ড হুবহু মেইনটেইন করা। এদিক সেদিক করার এখতিয়ার তার নেই। একদা এক কেরানী তার নিত্যদিনের মত কোন রেকর্ড মেইনটেইন করতে গিয়ে লেজার বহির এক জায়গায় এসে দেখলেন একটি মাছি চেপ্টা হয়ে কাগজের সাথে লেপ্টে আছে। ঐ পর্যন্ত লিখে কেরানী সাহেব পরলেন মহাফাপরে। ইতিপূর্বে লিখতে গিয়ে কখনওতো এরকম মাছি পাননি।
এখন কেরানীতো তার নির্ধারিত ডিউটি করতে বাধ্য।
কিন্তু তিনি মাছি পাবেন কোথায়? মাছির মাথার চারিদিকে থাকে চোখ। যার কারনে মাছিকে যেদিক থেকেই আক্রমন করা হোক না কেন, সে সাথে সাথেই পালাতে এবং আত্বরক্ষা করতে সক্ষম হয়।
যাই হোক, কেরানী বেচারা খুব খেঁটে খুটে কোন রকমে একটা মাছি মেরে যথাস্থানে বসিয়ে লেজার বহি সেদিনকার মত বন্ধ করলেন।
এখন কথা হল কেরানীসাহেব যদি বিন্দুমাত্র সৃজনশীল মেধাসম্পন্ন হতেন, তবে তিনি বুঝতে পারতেন যে, মাছি দূর্ঘটনাক্রমে লেজারবহিতে মরে আটকে চেপ্টা হয়ে লেগেছিল। এটা তার কর্তব্য নয় যে, তাকেও মাছি মেরে নির্দিষ্টস্থানে লাগিয়ে দিতে হবে।মালিক তাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেওনি। সে নিজে থেকেও বুঝে নিয়েছে যে এটাও তারই কর্তব্য।
এটা পরাধীনতার একটা বিশেষ চিত্র। আমাদের প্রত্যকেরই বৃত্তের বাইরে এসে চিন্তা করতে শিখতে হবে।কূপের ব্যাঙ কূপের আয়তনকেই সর্ববৃহত আয়তন মনে করে থাকে।
তার উচিত কূপের বাইরে এসে বাইরের দুনিয়াটা দেখা।
কর্তাব্যাক্তিদেরও উচিত অধীনস্তদেরকে মুক্তচিন্তা শিক্ষা দেয়া। চীনের স্বাধীনতার প্রথম দিকে সেই দেশেপ্রচন্ড অভাব থাকায়, সেই দেশের ততকালীন সরকার দেশের সমস্ত বিদ্যালয় বন্ধ করে দেন। কারন, তখন সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিলনা শিক্ষার যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করা।
সরকার ঘোষনা দিলেন প্রত্যেকটা ঘর হয়ে উঠুক এক একটা কারখানা।দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় চীনজাতি হয়ে উঠে কর্মী। এমন একজনও অবশিষ্ট থাকেনা, যে কোননা কোন কাজ নিজ হাতে না করতে পারে।
চীনা শ্রমিকদের সাথে কাজ করে দেখেছি ওরা খুব ভাল শ্রমিক।কচ্ছপ আর খরগোশের গল্প অনুসারে আমার মতে বাঙ্গালীরা খরগোশের জাতি যারা কিছুক্ষন খুব জোরে সোরে কাজ করে হয়রান হয়ে একটু জিরিয়ে নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে যায়। আর ঐ সময়ে কচ্ছপ না থেমে চলতেই থাকে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়ে যায়।
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে ধীরতা এবং স্থিরতাই প্রতিযেগিতায় জয়ী করে।
৫৩
৯১ মন্তব্য