Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ নভেম্বর, ২০২১ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

হযরত ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

হযরত ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম গাজ্জালী রঃ এর নাম আসল নাম আবু হামিদ মুহম্মদ।তাহার পিতার ও পিতামহ উভয়ের নামই মুহম্মদ। তিনি খোরাসানের অন্তর্গত তুস নগর এর গাজালা নামক স্থানে জন্ম গ্রহন করেন।
ইমাম গাজ্জালী রা: এর যুগে পারস্যের সম্রাট ছিলেন সলজুক বংশীয় সুলতান রুকনুদ্দীন তোগরল বেগ। সলজুগ বংশীয় সুলতাংনের রাজত্বকাল মুসলমানদের চরম উন্নতির যুগ ছিল। তাহাদের পুর্বে ইরান শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত বুইয়া বংশীয় রাজাদের শাসনাধীন ছিল।এই সময় মুসলিম শক্তি সমুহ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ,আক্রমন-প্রতিআক্রমনের ফলে দুর্বল হয়ে পরেছিল। কিন্তু সলজুক বংশীয় তুর্কীগন ইসলাম গ্রহন করলে তাদের প্রাক ইসলামী স্বভাব চরিত্র ও মুল্যবোধে বিড়াট পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তাদের মাধ্যমে এক অনুপম সভ্যতা গড়ে উঠে। ফলে তারা মুসলিম বিশ্বের লুপ্ত প্রায় শক্তি ও প্রতিভাকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম হয়। এই শক্তির অভ্যুদয়ের ফলে খ্রীষ্টান শক্তির অগ্রগতি রহিত হয় এবং সমগ্র অশিয়ার এক বিড়াট অংশ এই সুলতান গনের অধীনে এসে পড়ে। যুগে মুসলমানদের বিদ্যার্জন স্পৃহা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় । তৎকালে প্রচলিত ইহুদী ,খৃষ্টান ও পারসিকদের জ্ঞানার্জন সমাপ্ত করে প্রাচীন গ্রীক,মিশরীয় ও ভারতীয় জ্ঞানারহনে তারা প্রবৃত্ত হন।এ জন্যই জ্যোতিসশাস্ত্র, জড়বাদ, নাস্তিকতা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের মতবাদের সংমিশ্রনে মুসলমান সমাজে বহু মতানৈক্যের এবং ইসলামী বিশ্বাস ও জ্ঞানের সাথে নানারকম মারাত্বক অনৈসলামিক ধর্ম-বিশ্বাস ও জ্ঞান এমন ভাবে মিশে পড়ে যে,খাটি ইসলামী বিশ্বাস ও অনইসলামী বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করাই দুরহ হয়ে পড়ে। অত্যধিক পরিমানে পার্থিব জড়বাদের প্রভাবে ধর্ম জ্ঞানের শ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় এবং মুসলমান সমাজে ইসলামী বিশ্বাস ও ধর্মকার্যের ক্ষেত্রে এক চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। ইহা হতে সমাজকে মুক্ত ও রক্ষা করার দায়িত্বই ইমাম গাজ্জালী রঃ এর উপর অর্পিত হয়।এই ক্ষনজন্মা মহাপুরুষের অতুলনীয় প্রতিভা যে নিপুনতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন, তাহা সমগ্র বিশ্ব বিস্বয় ও ভক্তিভরে আজীবন স্বরন করবে

শৈশবকাল ও ছাত্র জীবন-

ইমাম গাজ্জালী র: এর পিতা ছিলেন দরিদ্র।তথাপি তিনি পুত্রের শিক্ষার জন্য চেষ্টার কোন ত্রুটি করেননি।ইমাম গাজ্জালী র: শৈশব কালেই পিতৃহীন হন।অন্তিম কালে তার পিতা তাহার জনৈক বন্ধুর কাছে দুই পুত্র আহমদ ও মুহম্মদ এর প্রতিপালনের ও শিক্ষার ভার অর্পন করেন এবং এ জন্য সামান্য র্থ প্রদান করেন। শিশুদ্বয় অসাধারন মেধার অধিকারী ছিলেন।অতি অল্পকালের মধ্যেই  পবিত্রকোরান হিফজ সমাপ্ত করে তারা শহরের একটি মাদ্রাসায় ভর্ত হন।আল্লামা আবু হামিদ আসকারায়েনি, আল্লামা আবু মুহম্মদ যোবায়নি প্রমুখ মহাজ্ঞানী উস্তাদের নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেন।খ্যাতনামা ফিকাহ শাস্ত্রবিদ আল্লামা আহমদ বিন মুহম্মদ রাযকানীর নিকট তিনি ফিকাহশাস্ত্রের প্রাথমিক কিতাবসমুহ অধ্যয়ন করেন।

নিজামিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন-

খোরাশানের অন্তর্গত নিশাপুরে অবস্থিত নিজামিয়া মাদ্রাসা তৎকালে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। জুরাজানের অধ্যয়ন শেষে ইমাম গাজ্জালী র: এর জ্ঞান পিপাসা নিবৃত হল না। তাই তিনি নিযামিয়া মাদ্রাসায় গমন করলেন। সেখানে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমরুপে স্বীকৃত ইমামুল হারামাইন র:ছিলেন এই মাদ্রসার অধ্যক্ষ।দুনিয়ার বহু দেশ হতে বহু লোক উচ্চশিক্ষার জন্য উনার নিকট উপস্হিত হতেন। তিনি এত গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন যে, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ হতে সুলতানগনও বিভিন্ন জটিল বিষয়ের মিমাংসার জন্য তার নিকট উপস্থিত হতেন। ইমাম গাজ্জালী র: উপযুক্ত শিক্ষক পেয়ে তার তীব্র জ্ঞান পিপাসা মিটাতে লাগলেন। ইমামুল হারামাইনও ইমাম গাজ্জালী র: কে দর্শন ও জ্ঞানের বিভিন্ন স্তরে খুব আগ্রহের সহিত শিক্ষা দিতে লাগলেন।
৪৭৮ হিজরিতে ইমামুল হারামাইন র: ইন্তিকাল করেন। তিনি ছাত্রগনের নিকট এত প্রিয় ছিলেন যে,তাহারা তাহার মৃত্যুতে প্রায় উন্মাদ হয়ে পড়ে। ছাত্রগন প্রায় এক বৎসর কাল উস্তাদের শোকে মুহ্যমান হয়ে থাকে। ইমামা গজ্জালীর নিকটও উস্তাদের তিরোধান যাতনা অসহনীয় হয়ে উঠে এবং নিশাপুর তার নিকট অন্দ্ধকার পুরীর ন্যয় মনে হতে লাগলো। তাই তিনি নিশাপুর পরিত্যগ করে বাগদাদ চলে আসেন ও ওখানেই পড়া লেখা শেষ করেন।

দিব্যজ্ঞান বা তাজকিয়ায়ে নফস অর্জনে বাইয়াত গ্রহন-

এই সময় ইমাম গাজ্জালী র: এর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বৎসর। তিনি জানতেন যে কেবল কিতাব পাঠ আল্লাহর জ্ঞান লাভের জন্য যথেষ্ঠ নয়। ইহার জন্য দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন জীবন্ত উস্তাদের নিতান্ত প্রয়োজন। হাদিস শরীফে আছে জ্ঞান দুই প্রকার । এক প্রকার জ্ঞান হচ্ছে জবানী জ্ঞান, অন্য একটি ক্বলবী এলেম বা আত্বিক জ্ঞান। রাসুল পাক (সাঃ)বলেন ক্বলবী এলেম বা আত্বিক জ্ঞানই হচ্ছে উপকারী জ্ঞান(মেশকাত শরীফ)। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেছেন, “আমি রসুল পাক(সাঃ) এর কাছ থেকে জ্ঞানের দুটি পাত্র অর্জন করেছি। একটি তোমাদের মধ্যে বিতরন করেছি অন্যটি করিনি।যদি করতাম তবে আমার কন্ঠদেশ কর্তিত হতো” (বোখারী শরীফ) পবিএ কালাম পাকে ইহাকে তাজকিয়া এবং হাদিস শরীফে ইহাকে এহসান নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হুজুর পাক (সাঃ) এর বহুমুখি শিক্ষার মধ্যে এই তাজাকিয়াও ছিল একটি অন্যতম বিষয় ।কালামে পাকে এরশাদ হচ্ছে “তিনিই উম্মিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরন করেছেন , যিনি তাদেরকে তাজকিয়া করেন এবং কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন। যদিও ইতিপূর্বে তারা গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল” (সুরা জুমায়া ২) হজরত ইমাম মালিক (রাঃ) বলেছেন ”যিনি তাসাউফ গ্রহন করলেন কিন্তু ফিকহ গ্রহন করলেন না তিনি নিশ্চই কাফের । আর যিনি ফিকহ গ্রহন করলেন কিন্তু তাসাউফ গ্রহন করলেন না, তিনি নিশ্চয়ই ফাসেক। আর যিনি উভয় জ্ঞান গ্রহন করলেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করলেন তিনিই মুহাক্কেক বা প্রকৃত দ্বীন গ্রহণ করলেন।” তাই তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত দিব্যজ্ঞান বা এলমে তাসাউফ ধারী বুযুর্গ কামেল হযরত শায়েখ আবু আলী ফারমেদী র: এর হস্তে বাইয়াত হয়ে দিব্য জ্ঞান আহরন করতে থাকেন।

মাদ্রাসার নিযামিয়ার অধ্যক্ষ পদে ইমাম গাজ্জালী (রঃ )

বাগদাদে তখন তুর্কিরাজ মালেক শাহের আধিপত্য ছিল । তাহার প্রধানমনত্রী হাসান বিন আলীনিযামুল মুলক একজন অসাধারন পন্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি ছিলেন । তাহার নিয়মানুসারেই বাগদাদের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ‘মাদরাসায়ে নিযামিয়া’ এবং উহার পাঠ্যতালিকা ‘দরসে নিযামী’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে হযরত ইমাম সাহেবকে মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করেন। তখন তাহার বয়স মাত্র ৩৪ বছর, এত অল্প বয়সেও তিনি অধ্যাপনা ও পরিচালনা কার্যে নিতান্ত দক্ষতা ও নিপুনতার পরিচয় প্রদান করেন। স্বয়ং বাদশাহ ও রাজপুরুষগণও রাজকার্যের জটিল সমস্যাসমূহে তাহার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এ সময় তার নাম দুনিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দেশ হতে শত শত ছাত্র তার শিষ্যত্ব গ্রহণের জন্য ছুটে আসেন। মাদ্রাসা নিযামিয়ার খ্যাতিও অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপনার সাথে সাথে তিনি নানা জটিল বিষয়ে গবেষণাও করতে থাকেন। এরুপে তিনি অপরিসীনম জ্ঞানের অধিকারী হন।

বায়তুল মাকদাস গমন ও নির্জনবাস অবলম্বন-

দুই বৎসর দামেশক নগরে অবস্হানের পরে তিনি বায়তুল মাকদাসে গমন করেন।তথায় তিনি ‘সাখরাতুসসাম্মা নামক বিখ্যাত প্রস্তরের নিকটবর্তী এক নির্জন প্রকোষ্টে অবস্হান করতে থাকেন। তিনি ইহাতে সর্বদা জিকির আজকারে মশগূল থাকতেন এবং সময় সময় নিকটবর্তী পবিত্র মাজার সমুহ যিয়ারত করতেন।

হজ্ব সমাপন ও দেশ ভ্রমন –

মদীনা শরীফ হতে তিনি মক্কা শরীফ গমন করে তিনি হজ্ব সমাপন করেন। এখানেও তিনি ধীর্ঘকাল অবস্হান করেন। মক্কা মদীনায় অবস্হানকালে তিনি দুনীয়ার বিভিন্ন দেশের বহু বুজুর্গের সহিত সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা করেন।
অতপর সেখান থেকে তিনি বিশ্ববিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া গমন করেন। সেখানে কিছুকাল অবস্হানের পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ফিরিবার পথে তিনি আবার পবিত্র মক্কা-মদীনা যিয়ারত করেন।
বাগদাদ হতে বের হয়ে দীর্ঘ দশ এগার বৎসরকাল তিনি বহু বন-জঙ্গল,জনপথ ও মরুপ্রান্তর পরিভ্রমন করেন। বলাই বাহুল্য তৎকালে যাতায়াতের জন্য বাহন পশু ব্যতীত অন্য কোন উপায় ছিল না। কিন্তু এত কষ্টকর ভ্রমনেও তার ইবাদত-বন্দেগী ও ও রিয়াযত ও মোঝাহাদায় কোন প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি হয়নি। ফলে তার অন্তর-আত্না নির্মল ও পবিত্র হয়ে পড়ে। এবং দিব্যজ্ঞানের
পথে সমস্ত পর্দা একেবারে অপসারিত হয়ে পড়ে।

ইমাম গাজ্জালী ( রঃ)এর গ্রন্হাদি  


আধ্যাত্নিক ও নৈতিক বিষয়- ইয়াহইয়াওমুল উলুম, কিমিয়ায়ে সাআদাত, আল মাকসুদুল আকসা,আখলাকুল আবরার,জওয়াহিরুল কুরআন, জওয়াহিরুলকুদসি ফী হাকীকাতিন্নাফস, মিশকাতুল আনওয়ার, মিনহাজুল আবেদীন, মিরাজুস সালিকীন, নাসীহাতুল মূলক, আয়্যুহাল ওলাদ, হিদায়াতুল হিদায়াহ,মিশকাতুল আনওয়ার ,ফী লাতাইফিল আখয়ার।
নিশাপুর অবস্হানকালে ,ইমাম গাজ্জালী র: গ্রন্হাদি রচনা শুরু করেন। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের যে জড়বাদ বিশেষত গ্রীক দার্শনিকদের ভ্রান্ত মতবাদ মুসলমানদের ধর্ম-বিশ্বাসে প্রবেশ করেছিল। এ সময়েই তিনি অতিসুন্দর ও সুক্ষ যুক্তিপুর্ন বিচারে ‘মনখুল’(চালনি দ্বারা চালা) নামক গ্রন্হ রচনা করে এইসব দোস ত্রুটির মুলুৎপাটন করার প্রয়াস পান।প্রথম জীবনের লেখা হলেও ইহা সুধী উচ্চপ্রশংসা অর্জন করে। এমনকি তাহার উস্তাদ হযরত ইমানুল হারামাইন স্বয়ং এই গ্রন্হ পাঠে মন্তব্য করেন  “জীবতাবস্থায়ই তুমি সমাধিস্ত করিলে। ” অর্থাৎ ছাত্রের খ্যাতি উস্তাদের জীবদ্দশায়ই তার খ্যাতিকে অতিক্রম করে গেল।
ইমাম গাজ্জালী র: এর রচিত ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” গ্রন্হখানি ইসলাম জগতে বিশেষ সমাদৃত। সুধীগন ইহার উচ্চ প্রশংসা করেছেন। এ সম্পর্কে শীর্ষস্থানীয় কতিপয় মনীষীর উক্তি হল, ”জগতের সমস্ত জ্ঞান প্রদীপ নির্বাপিত করে দিলে কেবল ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” দ্বারাই উহা পুনরুদ্ধার করা যাবে। “ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” এর পুর্ব এরুপ গ্রন্হ জগতে আর লিখিত হয়নি।

তাঁর রচিত ‘মাকাসিদুল-ফালাসিফা’, ‘তাহাফুতুল-ফালাসিফা’ প্রভৃতি দর্শন শাস্ত্রের কিতাব সমগ্র ইউরোপে সমাদৃত হয়েছে এবং ইংরেজি,ফারসী,ল্যাটিন,হিব্রু ইত্যাদি ভাষায় এগুলোর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই সকল গ্রন্থ ইউরোপীয় বহু বক্রপন্থী পন্ডিতের জ্ঞানচক্ষু প্রস্ফুটিত করে দিয়েছে।জনৈক ইউরোপীয় পন্ডিত বলেছেন, ইমাম গাজ্জালী র: ও ইবনে রুশদের জন্ম না হলে মোসলমানগন নিউটন ও এরিষ্টটলের জাতি হয়েই থাকতো। বস্তুত পাশ্চাত্যের জড়বাদী ভ্রান্ত দার্শনিক মতবাদের মোকাবিলায় খটি দর্শনকে বলিষ্ঠ যুক্তিতে প্রকাশ করে ইমাম গাজ্জালী র: বিশ্ব মানবের মুল্যবোধ ও চিন্তাধারায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেন। বিশেষত আধ্যাতিক জ্ঞান ও চিন্তাধারাকে সঠিক পথের সন্দ্ধান দিয়ে তি মানব ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন।
মুসলিম বিশ্ব অপেক্ষা খৃষ্টান ইউরোপেই ইমাম গাজ্জালী র: এর গ্রন্হাবলী সমাদৃত বেশি। প্রখ্যত কবি দান্তে,মনিষী রেমন্ড মার্টিন,মনীষী সেন্ট টমাস একুইনাস,প্রখ্যাত ফরাসি মিসটিক ব্লেইসি প্যাসকেল ইমাম গাজ্জালী র: এর গ্রন্হরাজি হতেই তাদএর যুক্তি ও উদাহরন গ্রহন করেন এবং তার মতামতকেই প্রামান্য বলেই উল্লেখ করেন। তার ৪০ টি গ্রন্হ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত ও প্রকাশিত হয়।”কিমিয়ায়া সাদাত” ইমাম গাজ্জালী র: এর অপর একখানি অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রস্থ। দুনিয়ার প্রায় সকল ভাষায় এই মুল্যবান গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।বার্ন শহরে লেটিন ভাষায় ইহা সর্বপ্রথম অনুদিত হয়

৫০৫ সাল মোতাবেক ১৯ শে ডিসেম্বর ১১১১ খ্রীষ্টাব্দ। ফজরের নামাজ সমাপনান্তে সমগ্র বিশ্বের বিশ্বয়কর প্রতিভা, যুক্তি ও যুক্তিবাদী অপ্রতিদন্দ্বী দার্শনিক, বিশ্ব মানবতার দিশারী, সুফীকুল শিরমনি হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম আবু হামিদ মুহম্মদ গাজ্জালী র: মাত্র ৫৫ বৎসর বয়সে দুনিয়াবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরমকরুনাময় আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে হাজির হন। 

মন্তব্য করুন