Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ নভেম্বর, ২০২১ ০৮:০২ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মীশাকের নানা রকম উপকারিতা। অলোকা রাণী সরকার, সহকারী শিক্ষক, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ।



ব্রাহ্মী শাকের উপকারিতাঃ

বাঙালির ভাতের পাতে শাক থাকা কিন্তু মাস্ট। আর সেই শাকের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল ব্রাহ্মী শাক। সুস্বাদ তো বটেই পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এর জনপ্রিয়তা প্রচুর।


ব্রাহ্মী হল এক ধরনের লতা জাতীয় শাক। বৈজ্ঞানিক নাম ব্যাকোপা মনিয়েরি। এটি হচ্ছে প্লান্টাগিনাসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যুগ যুগ ধরে এর ব্যবহার চলে আসছে। ছোট গাছ, কাণ্ড এবং পাতা রসালো। ফুল বেগুনি শ্বেতাভ। ভেজা এবং স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে এই শাক বেশি বৃদ্ধি পায়। লতার প্রত্যেকটি গাঁট থেকে শিকড় বের হয়। কাণ্ড খুব নরম এবং রসযুক্ত হয়। পাতা আধা ইঞ্চি বা আরও একটু বড় হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নানা ঔষধি গুনাগুণ। স্বরভঙ্গ, বসন্তরোগ, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে, শিশুদের কফ ও কাশির মতো সমস্যা দূর করার পাশাপাশি নানাভাবে শারীরের উপকা



ব্রাহ্মী শাকের স্বাস্থ্যগুণ

ব্রাহ্মী শাক প্রচুর পরিমানে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন রয়েছে। এছাড়াও ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ব্রাহ্মী শাক শরীরের নানা উপকার করে। এবার জেনে নিন সেগুলি কী কী –


১.অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণ কমায় 

ব্রাহ্মীতে ব্যাকোসাইড নামক বায়োকেমিক্যাল থাকে। যা মস্তিষ্কের কোষেদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্কের নতুন টিস্যু তৈরি করে। স্বাভাবিকভাবে বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রেন পাওয়ার কমে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়, একইভাবে কগনিটিভ ফাংশন কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।



২.রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে 

রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ব্রাহ্মী শাক হল অন্যতম প্রাকৃতিক ঔষধি। অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার কারণে অনেক সময় রক্তচাপ বেড়ে যায়। হঠাৎ ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যাওয়ার কারণে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। যাদের হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ব্রাহ্মী শাক খান ।


৩.মানসিক দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ কমায় 

মানসিক দুশ্চিন্তা এখন সাধারণ একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ছোট থেকে বড়, যে কোনও পেশার মানুষ নানা কারণে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। যার থেকে পরবর্তীকালে ডিপ্রেশবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানসিক দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার অন্যতম দাওয়াই হল ব্রাহ্মী শাক । গবেষণায় প্রমাণিত, ব্রাহ্মী শাক মস্তিষ্কের ভিতরের স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটির জন্ম দেওয়া কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্রাহ্মী শাক খেলে মানসিক অশান্তি দূর তো হয়ই, পাশাপাশি মনের হারিয়ে যাওয়া আনন্দ ফিরে আসে।



৪.ক্যানসার প্রতিরোধ করে 

ব্রাহ্মী শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদান বার করে দেয় এবং ক্যানসার সেলের জন্ম আটকায়। শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ক্যানসারের মতো মারণরোগ থেকে দূরে থাকতে রোজ খান ব্রাহ্মী শাক। 


৫.গাঁটের ব্যথা কমায় 

ব্রাহ্মী শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-ইনপ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে, যা পিঠের ব্যথা, পেশির যন্ত্রণা এবং মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শরীরের উপর অ্যানালজেসিক প্রভাবের কারণে, ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ব্রাহ্মী অয়েল লাগালে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যথা কম হবে ।



৬.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 

ব্রাহ্মী শাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। কারণ এই শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ব্রাহ্মী শাক খান। দেখবেন কোনওরকম অসুখ-বিসুখ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষবে না ।


৭.ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্রাহ্মী শাক খুব উপকারী। এর মধ্যে উপস্থিত উপাদানগুলি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। সেইসঙ্গে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে ।


৮.হজমের সমস্যা কমায় 

ব্রাহ্মী শাক হল একাধিক গুণমানসম্পন্ন প্রাকৃতিক ওষুধ। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গ্যাস ও হজমের সমস্যা দূর করে। 


৯.মৃগী রোগের চিকিৎসা করে 

হাজার হাজার বছর ধরে মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্রাহ্মী শাকের ব্যবহার চলে আসছে। মৃগীরোগের পাশাপাশি অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন, নিউরালজিয়া এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্রাহ্মী খুব উপকারী ।


১০.শ্বাসযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে 

ব্রাহ্মী শাকের পাতা চিবিয়ে অথবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এর ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। নাক বন্ধ, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনাস এবং সর্দিকাশির মতো সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে দারুণ কাজ দেয় ব্রাহ্মী শাক। জমে থাকা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে এবং শ্বাস নালী ও গলায় জ্বালা-ষন্ত্রণা নিমেষে কমিয়ে দিতে পারে ।



১১.শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে 

ব্রাহ্মী শাক প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা কোষের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। কোষের এই ক্ষতির জন্য দায়ী ফ্রি রেডিকেলস। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রি রেডিকেল দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি অনেক দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার ।


১২.একাগ্রতা বাড়ায় 

বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি এবং একাগ্রতা বাড়াতে অনেকে ব্রাহ্মী শাক খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যুগ যুগ ধরে ব্রাহ্মী শাকের ব্যবহার হয়ে আসছে। সেইসঙ্গে একাগ্রতা বাড়াতেও এটি দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন

মন্তব্য করুন